somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৫শে ফব্রেুয়ারীর নপেথ্য:আমরা বদেনাদায়ক প্রতহিংিসার স্বীকার

২৪ শে এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৪:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী পিল খানার বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় পুরো দেশ শোকের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো দেশবাসি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে; মানুষ হয়েছে বাকরুদ্ধ,নির্বাক, কিংকর্তব্যবিমূড় এবং চিন্তিত,এটি এমন এক পাশবিকতা যার কোন সংজ্ঞায়ন করা সম্ভব নয়। এ বিভৎস হত্যাকান্ড জাহেলিয়াত ও মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে,যে বর্বরতার কথা কল্পনা করলে গা শিউরে উঠে আর রক্ত হিম হয়ে যায়,যেটি আমাদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ আর বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতির মুখে লেপন করেছে এক কলংকজনক অধ্যায় ,আমরা হারিয়েছি আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অফিসার এবং অনেক সম্ভাবনাময়ী ও উদীয়মান সামরিক ব্যক্তিত্বকে, যাদেরকে তৈরী করতে দেশের খরচ হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।বাংলাদেশের ইতিহাসে সত্যিই এটি একটি হৃদয় বিদারক ও বেদনাদায়ক ইতিহাস। দেশ এক অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হল এ অমানবিক ও বর্বর হত্যাকান্ডের মাধ্যমে। পৃথীবির ইতিহাসে একসাথে এত সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যা হয়েছে এ ধরনের কোন ইতিহাস আজ পর্যন্ত ঘটেনি হোক সেটা যুদ্ধ ক্ষেত্র নতুবা অন্য কোন ক্ষেত্রে। আমরা জানি শৃংখলার প্রশিক্ষনই সামরিক ও আধাসামরিক ক্ষেত্রসমুহের মৈৗলিক প্রশিক্ষনসমুহের অন্যতম একটি।এই প্রশিক্ষনকে উপজীব্য করেই ঢেলে সাজানো হয় সামরিক ও আধাসামরিক সেক্টরগুলোকে এবং শৃংখলাই সামরিক ও আধাসামরিক ক্ষেত্রসমুহের ভিত্তিমূল।অথচ সেই শৃংলাকে বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন করে বিডিআর জওয়ানরা এতগুলো সেনাঅফিসারকে কোন হাতের অংগুলির ইশারায় পৈশাচিক হত্যার উল্লাসে মেতে উঠেছিল এটি আজ জাতির বিবেকের প্রশ্ন।আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হলে আমাদের কে একটু গভীরে গিয়েই চিন্তা করতে হবে ।

বলা হচ্ছে অপারেশন ডাল-ভাতের ক্ষোভ থেকেই তারা এমন একটি গনহত্যা সংঘটিত করেছিল, এটি মুলত একটি ঠুনকো কথা হলেও একেবারে গুরুত্বহীন মনে করার ও কোন সুযোগ নেই।এই একটি ছোট অভিযোগ ও আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে না উঠাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। গত দু’আড়াই বছর ফখরুদ্দিন ও মঈন ঊ আহমদদের অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের ক্লিন ইমেজের সেনাবাহিনীর অনেক অফিসারকে বিডিআর এ পোষ্টিং দেয়া হয়েছিল এবং একই সময়ে আবার জরুরী অবস্থা চালুর নামে সেনাবাহিনীকে সাধারন মানুষের একেবারে কাছে ঠেলে দেয়া হয়েছিল এবং ব্যারাক থেকে বের হয়ে সেনাবাহিনী যখন সাধারন মানুষের দোর গোড়ায় পৌছল তখন তারা দেখল বিভিন্নভাবে চাপের মুখে রেখে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব যেটি সেনাপ্রধানের ও দৃষ্টি এড়িয়েছে বলে মনে হয়নি।যার ফলশ্রুতিতে সেনাবাহিনী পরোক্ষভাবে সিভিল প্রশাসনসহ সবধরনের প্রসাশনকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়েছিল নিজেদের প্রশাসনিক ক্ষমতার মাধ্যমে।এ ক্ষেত্রে তারা অনেকাংশে ব্যবহার করেছিল বিডিআর ও পুলিশসহ সব ধরনের আধাসামরিক সেক্টরগুলোকে।যার বাস্তব প্রমান অপারেশন ডাল-ভাত টাস্কফোর্স।এই টাস্কফোসের্র মাধ্যমে ডাল-ভাত সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সস্তা খাওয়ানোর নামে দেশের মানুষের সাথে সত্যিই এক বেদনাদায়ক প্রতারনা করেছিল মঈন ঊ আহমদ । আমরা যতটুকু জানি অপারেশন ডাল-ভাতের পন্য সমুহের নির্ধারিত মূল্যের ও অনেক বেশী মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল বিডিআরকে কিছু কিছু সেনাঅফিসার । আর অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হওয়া টাকা সেসব সেনা অফিসার পকেটে পুরে রাতারাতি কোটি পতিতে পরিনত হওয়াটা একেবারে অস্বীকার করার ও সুযোগ নেই। বিডিআরকে দিয়ে সেসব সেনা অফিসাররা বস্তা টানানো,বেশী বিক্রিতে বাধ্য করা আবার কম বিক্রি হলে চাকরিচ্যুত ও সাসপেন্ড করার মত অপ্রত্যাশিত আচরনের ও স্বীকার হয়েছিল কেউ কেউ।অবশ্য সব অফিসাররা এ জাতীয় ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আর সে সব গুটি কয়েক অফিসারের অন্যায় আচরনে সত্যিই ক্ষুব্ধ হয়েছিল বিডিআর জওয়ানরা এবং তাদের এই ক্ষুব্ধতাকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং পৈশাচিক কায়দায় কাজে লাগিয়েছে একটি মহল। তবে আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি নিছক অপারেশন ডাল-ভাতকে কেন্দ্র করেই আমাদের জাতিয় নিরাপত্তায় এত বড় বর্বর হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়নি বরং এর পিছনে পার্শ্ববর্তী একটা দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে আজ প্রমানিত হচ্ছে। যার প্রমান আমরা বিভিন্নভাবে পেয়ে থাকি।যেমন:-
প্রথমত:আমাদের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা:- আমাদের সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিমিশন সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাতে তাদের আন্তরিক সেবার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আজ সম্মান ও গৌরবের পাত্রে পরিনত হয়েছে।বিশ্বের অনেক দেশেই যেখানে বাংলাদেশের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কর্মরত আছে তাদের সাথে ভারতের সেনাবাহিনী ও মিশনে কাজ করে চলেছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৈন্যদের আন্তরিকতা,উচ্চমানের সেবা ও সর্বোপরী নৈতিক মান অনেক উন্নত হওয়ায় তারা অল্প সময়েই বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়ে দ্রুত পদোন্নতিসহ প্রশংসার পাত্রে পরিনত হয়;আর এ ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সরাসরি প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে আমাদের সেনাবাহিনী।যার কারনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে বিতর্কিত , বেপোরোয়া ও বিশৃংখল প্রমান করানোর এক গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ ছিল সেনাঅফিসারদের বিরুদ্ধে বিডিআর কে ক্ষেপিয়ে তোলা ।
দ্বিতীয়ত:রৌমারী ও পাদুয়া সীমান্তের প্রতিশোধ:- রৌমারী ও পাদুয়া সীমান্তে বিচক্ষন বিডিআরদের হাতে প্রচন্ডরকম ধাক্কা খেয়েছিল বিএসএফ।এবং সেই সম্মুখ যুদ্ধে অনেক বিএসএফ সদস্য নিহত ও হয়েছিল।এটি যদিও বিএসএফ’র অন্যায় আচরনেরই বর্হিপ্রকাশ ছিল তবুও তারা সেটিকে ভুলতে পারেনি সহজভাবে বরং তারা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নানাবিধ কৌশলের অপেক্ষায়রত ছিল;বিডিআর জওয়ানদেরকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলে ভারত এক পাশবিক ও মধ্যযুগকে হার মানানো প্রতিশোধ নিলো বর্বর গনহত্যার মধ্য দিয়ে।
তৃতীয়ত: ভারত নিজেকে পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অংশ বিশেষ:- ইতিমধ্যে ভারত নিজেকে এশিয়ার মোড়ল তথা পরাশক্তি ভাবতে শুরু করেছে।এ ক্ষেত্রে তাকে প্রত্যক্ষ মদদ দিচ্ছে আমেরিকা ও ইসরাঈল। ইসরাঈলের মাধ্যমে যেমনিভাবে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির দাবানল জালিয়ে রেখেছে ঠিক তদ্রুপ ভারতের মাধ্যমে এশিয়ার এই অঞ্চলকে খবরদারী করাতে চায় আর ভারত ও ইতিমধ্যে নিজেকে মোড়ল হিসেবে প্রমান করতে শুরু করেছে,যার বাস্তব প্রমান কয়েকদিন আগে পাকিস্থানকে যুদ্ধের হুমকি।ভারত তাদেরকে এ অঞ্চলে মোড়ল হিসেবে প্রমান করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে ।কথায় কথায় যুদ্ধের হুমকি আর গায়ে পড়ে ঝগড়া করার অভ্যাস এখন তাদের নিয়মিত রুটিনে পরিনত হয়েছে।কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে তাদের দৃষ্টিভংগী ভিন্নরকম;বাংলাদেশের সাথে সরাসরি যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধ প্রস্তুতি নেয়ার ধমক দেয়ার মত কোন ইস্যু তারা এখনো খুঁজে পায়নি।পাশাপাশি বাংলাদেশের সাথে আনুপাতিক সামরিক মূল্যায়ন তাদের জন্য প্রেস্টিজিয়াস ইস্যু ও বটে।কারন তারা পারমানবিক শক্তিধর এবং অনেক বড় দেশ। যার কারনে তারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে।২৫ ফেব্রুয়ারী আমাদের সামরিক অফিসার হত্যা করানো তাদের সেইসব কৌশলেরই অংশ বিশেষ।কারন নিজেকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে প্রমান করতে তার আশেপাশের অন্যান্য দেশের সামরিক শক্তিগুলোকে দুর্বল করার কোন বিকল্প নেই এবং ভারত ভাল করেই জানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী অনেক দক্ষ,দেশপ্রেমিক ও পরিশ্রমি তাই তারা ধাপে ধাপে আমাদের সামরিক শক্তি ধ্বংস করতে চায়।
চতুর্থত:বাংলাদেশকে তারা নেপাল ও ভূটান বানাতে চায়:- ভৌগলিক দিক থেকে বলা চলে বাংলাদেশ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি স্বাধীনসার্বভৌম দেশ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তারা নেপাল ও ভূটানের মত নিয়ন্ত্রন করতে পারছেনা; কিন্তু বাংলাদেশকে নেপাল ও ভূটানের মত করদরাজ্যে পরিনত করার স্বপ্ন ভারতের অনেক দিনের। আমরা স্মরন করতে পারি সে সময়ের কথা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভারত যখন আমাদের সব সম্পদ লুট করে নিয়ে গেল তখনও তাদের খাহেশ পূর্ণ হয়নি আর সে জন্য তৎকালীন ভারতের প্রধামন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী বলেছিল ”বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা ছিল আমাদের বড় রকমের বোকামী”।সুতরাং তারা তাদের পূরোনো খাহেস ভূলতে পারেনি এখনো।আর এখন যেহেতু তাদেরই অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে আসা আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তাই তাদের সেই পুরানো খাহেস নতুন করে জাগ্রত হয়েছে এবং আওয়ামীলীগ ও দক্ষিন এশিয় সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করার নামে তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে উঠে পড়ে লেগেছে তাই ভারত এই সুযোগে বাংলাদেশের সেনাঅফিসার হত্যা করার মাধ্যমে আমাদের সামরিক ভারসাম্যতা নষ্ট করে বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানে পরিনত করার ষড়যন্ত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে ভারত কেন বাংলাদেশে তাদের মিত্র আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর একেবারেই স্পষ্ট। কারন আওয়ামীলীগ যেহেতু বাংলাদেশে ভারতের একমাত্র মিত্র সেক্ষেত্রে সেনা অফিসার হত্যায় ভারতের সংশ্লীষ্টতার বিষয়টি যথাসম্ভব গোপন রাখা সম্ভব হবে পাশাপাশি তদন্তে যদি সে বিষয়টি ফুটে উঠেও তাহলেও আওয়ামীলীগের ক্ষমতার প্রভাবে সেখানে বিষয়টি এড়ানো সম্ভব হবে এবং তারা আওয়ামীলীগের পরোক্ষ সহযোগীতা ও পেয়ে থাকবে যেটা অন্য কোন সরকার ক্ষমতায় থাকলে সম্ভব হতোনা।
পঞ্চমত: সেনা ও বিডিআর’র মধ্যে ভুলবুঝাবুঝি তৈরী করে সীমান্তকে দুর্বল করার মাধ্যমে ট্রানজিট ইস্যু বাস্তবায়ন:- আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ভারতকে ট্রানজিট দেয়া নিয়ে অতি উৎসাহীর ভুমিকা পালন করে চলছে।ট্রানজিট ইস্যুতে পুরো জাতি একদিকে আর আওয়ামীলীগ একদিকে অবস্থান করার কারনে ভারত অনেকটা আশাহত হয়ে পড়েছে । অন্য দিকে ট্রানজিট ইস্যু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বিডিআর ও সেনাবাহিনী বড় দু’টি ফ্যাক্টর । এবং তার চেয়ে ও বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে সেনাবাহিনী প্রায়ই ব্যারাকে থাকে আর বিডিআর থাকে সীমান্ত পাহারায়। সেক্ষেত্রে ভারতের ট্রানজিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিডিআরকে কাছাকাছি নেয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। যার ফলশ্র“তিতে কিছু ঠুনকো অজুহাতে বিডিআরকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি ভুলবুঝাবুঝির সুযোগে তারা বিডিআরকে কাছে টেনে ট্রানজিট ইস্যু বাস্তবায়নের একটা ঘৃন্য কৌশলের অবলম্বন করলো।
ষষ্ঠত: ইসলামপন্থীদের ইমেজে আঘাত হানা:-বাংলাদেশে ভারতের আদর্শ, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের দিক্ষার স¤প্রসারন, ট্রানজিট ইস্যু সহ অন্যান্য সব ইস্যু বাস্ত-বায়নে তারা ইসলাম পন্থিদের বড় ধরনের বাঁধা মনে করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে থাকে বাংলাদেশ জামাআতে ইসলামীকে। কারন গত জোট সরকার পরিচালনায় এ দলটির প্রধান দু’ব্যক্তির পরিচালিত মন্ত্রনালয় দূর্নীতিমুক্ত প্রমান হওয়া এবং তাদের গনতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমুলক রাজনীতি চর্চা দিন দিন তাদের দলের ব্যক্তিত্ব আর গ্রহনযোগ্যতাকে সাধারন মানুষের কাছে বাড়িয়ে তুলেছে। তাদের এই গ্রহনযোগ্যতাই ভারতের মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়াল এবং সে জন্যই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ভারতের টাকায় পোষ্য কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধী ইস্যু তুলে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি জানায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ধীরনীতি চলা (সরকারের কাছে গ্রহনযোগ্য কোন প্রমান না থাকার কারনে) দেখে ভারত এবং তাদের দোসরদের গাত্রদাহ শুরু হল এবং তারা ইসলাম পন্থীদেরকে এ ধরনের একটা নির্দয় ঘটনার সাথে জড়িয়ে তাদের ক্লিন ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর এক ঘৃন্য ও পৈশাচিক ষড়যন্ত্রেরই অন্যতম অংশ ছিল আমাদের সেনাঅফিসার হত্যা। এর প্রমানের জন্য আমাদের অনেক দূরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বেনা যদি ঘটনার সাথে সাথে ভারতের দু’টি টিভি চ্যানেল আর আনন্দবাজার পত্রিকার ভুমিকা পর্যালোচনা করি। ঘটনার ঘটার সাথে সাথে ভারতের দু’টি টিভি চ্যানেল ও আনন্দবাজার পত্রিকা জামাআতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে নির্জ্জলা মিথ্যা রিপোর্ট পরিবেশন করেছিল তাদের সে মিথ্যা রিপোর্ট পরিবেশনই প্রমান করতে যথেষ্ট যে এটি জামাআতে ইসলামীকে জড়ানোর জন্য ভারতের একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ছিল। পাশাপাশি কতিপয় সেনাঅফিসারের জামাআত ইসলামীর সাথে কানেকশান আবিষ্কারের মাধ্যমে নি রাপত্তাবাহিনীর মধ্যে একটা রাজনৈতিক বিভেদ দাঁড় করানোর এ এক ঘৃন্য কৌশল বৈ আর কিছু নয়।
সর্বোপরী আজ এই ঘৃন্য হত্যাযজ্ঞের সাথে ভারতের সংশ্লীষ্টতার কথা শুধু ধারনা নির্ভরই নয় বরং ঘটনার স্পট বিশ্লেষকদের মন্তব্য, ঘটনার প্রবাহ নিয়ে ভারতের অতি উৎসাহির ভুমিকা পাশাপাশি বাংলাদেশে তারা শান্তিরক্ষি বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের নীরব ভুমিকা এবং প্রধানমন্ত্রীর এ ঘটনাকে তার ছেলে মেয়ের বিয়ের সাথে তুলনা করে শহীদ সেনাসদস্যদের অবমাননা,বিরোধী দলীয় নেত্রীর কথাকে সেনাবাহিনীর সাথে একসূত্রে গাঁথা বলে তাচ্ছিল্য করা, সে দিন পিলখানার টাওয়ার থেকে তিনশর ও বেশী কল এবং অসংখ্য এসএমএস ভারতের বিভিন্ন নাম্বারে আদান প্রদান, ঘটনার কয়েকদিন আগে ডিএডি তৌহিদের সাথে একজন প্রতিমন্ত্রীর কথোপকথন আবার ঘটনার দিন সেই একই মন্ত্রীকে সমঝোতার জন্য পাঠানো এবং সে মন্ত্রীর ঘটনাস্থলে রহস্যজনকভাবে আটকে যাওয়া সেনাঅফিসারদের নিরাপত্তার ব্যপার নিশ্চিত না করে সমঝোতার প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর বিডিআর সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ অথচ সেখানে অনেক সিভিল কিলার অংশগ্রহন ছিল বলে প্রমান পাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সমঝোতার জন্য গিয়েছিল ১৪ জন বিদ্রোহি জওয়ান অথচ তাদের মধ্য থেকে আসামী করা হয়েছে মাত্র ৫ জওয়ানকে এসব রহস্য সহ অন্যান্য সব ভুমিকা আমরা বিশ্বাস করতে না চাইলেও তাদের সংশ্লীষ্টতাকে ও দিবালোকের মত স্পষ্ট করে তুলেছে এবং ভারত এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:৫১
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×