' আমরা সবাই এ ডবল + ... আসলে সি -'
প্রথম প্রথম মনে হত, 'ওরে বাপরে! কি এক স্যার পেলাম'। কিছু দিন যেতে না যেতে বুঝলাম আসলে কাকে পেয়েছি। আমরা সবাই স্যারের ক্লাস করে বুঝতে পেরেছি যে, প্রকৃত শিক্ষা ও সততার সঙ্গে আসলে কি সম্পর্ক। স্যারের প্রতিটি ক্লাস আমাদের জন্য ছিল জীবন গঠনের এক একটি পদক্ষেপ। স্যার মাঝে মাঝে আমাদের সাথে রসিকতা করতেন, তবে ছাত্র ছাত্রই থাকত আর স্যার স্যারই থাকতেন। তাঁর ব্যক্তিত্বআমাদের মুগ্ধ করত । স্যার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়তেন। তবে আমাদেরকে আগামীর জন্য তৈরি হতে বিশেষ ভাবে তাগিদ দিতেন (যদিও সবসময় সরাসরি সেটা বলতেন না)।
নিয়মশৃঙ্খলার দিক থেকে মনে হয় স্যার ছিলেন অদ্্বিতীয়। কেউ একটা ম্যাথ প্র্যাকটিকাল শীট কম জমা দিলে সে পারসেন্টেজ পেতনা। এটা তখন খুব যন্ত্রনাদায়ক মনে হলেও ভবিষ্যতে হয়ত এর ফল আমরা পেয়ে যাবো। স্যার বলতেন, ' আমার আগে তোমরা ক্লাসে ঢুকতে পারবা কিন্তু পরে না '।
স্যারের জীবনযাপন আমাকে অবাক করত। বাংলাদেশের সেরা কলেজের এই শিক্ষককে আমি কখনও সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট ছাড়া অন্য কোন পোশাকে দেখিনি। স্যার প্রাইভেট পড়াতেন তবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ করেননি। নীতির প্রশ্নে অটল থেকেছেন বলেই কখনও কোন শক্তি তাঁকে টলাতে পারেনি।
স্যার বলতেন, "কি করি, কেন করি, কিভাবে করি জানতে চাই "। আমি শিক্ষার এ মূলমন্ত্র জানতে পারার জন্য স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা জহর স্যার। তাঁর সম্পর্কে আরও বলার আছে, সেজন্য হয়তো দুবছরের কলেজ জীবন যথেষ্ট নয়। প্রিয় কলেজ ছেড়েছি আগেই, কয়েকদিন পরে ভার্সিটিতে ক্লাস করব, পরে আরও জীবন আছে, স্যারের সাথে অনেকদিন দেখা নেই, কিন্তু তিনি আমার মনে চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।
কলেজ জীবনটা আসলেই অনেক মজার ছিল ...
ইচ্ছে করে সে দিনগুলোকে ফিরে পাওয়ার...
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


