somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উইকএন্ড - ১

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুধবার। ঝাপসা স্লাইড, ঘামে ভেজা জব, হোয়াইট বোর্ডে দুর্বোধ্য আঁকিবুকি, CAD ক্লাসের বকবক ... ... অগ্নিস্নাত বর্ষবরণ, প্রিয়মুখগুলোকে একসাথে পাওয়া, ক্লাস ফাঁকি দেওয়া মিষ্টি বিকেল ... সপ্তাহটা এলো আর টুশ করে চলে গেল...

বর্ষবরণ নিয়ে অনেক plan-programme করেছিলাম। হলে উঠেছিলাম এই ভেবে যে, ঘুম থেকে উঠে বটমূলে গিয়ে সূর্যোদয় দেখবো। হল না, শাফীর ঘুমজাগানি কল রিসিভ করেই ঘুমিয়ে পড়লাম (হায়রে plan!)। ঠিক পৌনে সাতটার দিকে ফাহিমের কল পেয়ে পড়িমড়ি করে ছুটলাম টিএসসি। পৌঁছে দেখি পুরো এলাকা বৈশাখী সাজে সেজেছে। ফাহিম আর সেজান তখনো পৌঁছেনি। ঠিক লোকে-লোকারণ্য বলাটা ঠিক হবেনা, তবে পুরো জায়গাটা রঙিন হয়ে ছিল, ঠিক যেমনটা পয়লা বৈশাখে থাকে। আর আবহাওয়াটাও ছিল সহনীয় (তখনো)।

ওরা হাজির হল। দুজনই বাঙালি টি-শার্ট (নকশা অন্তত তা'ই বলে) পরে ছিল :) আর আমার পরনে ছিল পাঞ্জাবি :(। যাহোক, চট করে সিদ্ধান্ত নিলাম ছায়ানটের অনুষ্ঠান যাব। ভালো কথা, একটা লম্বা লাইন ধরে এগুতে থাকলাম। অনেকগুলো বাব্‌ল এলোমেলো উড়ে যাচ্ছিল...সূর্যের কাছ থেকে রঙ ধার নিয়ে ওরাও যেন নেমেছিল নতুন বছরকে বরণ করতে, একদম স্বপ্ন-স্বপ্ন লাগছিল দেখতে। বাব্‌ল দেখে ফাহিমের মাথায় একটা ডকু-ফিল্মের আইডিয়া চলে আসলো। ও উপস্থিত দৃশ্যকল্প তৈরি করে করে সেজানকে বলছিল; আমার মনযোগ অবশ্য মোটেই সেদিকে ছিল না...আমি তাকিয়ে তাকিয়ে আশপাশ দেখছিলাম। কত মানুষ! সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে বর্ষবরণ যোগ দিতে এসেছে...। ওহ্ বলা হয়নি, আমি একটা নতুন বন্ধু পেয়ে গিয়েছিলাম। জিনিসটা কি সেটা ঠিক জানি না, সেজান কুড়িয়ে পেয়ে আমাকে দেয়, একটা লাঠিমতন। কেন জানি ওটার আকৃতি আমার কাছে ম্যাজিক ওঅন্ডের মতোই মনে হয়েছিল, আমার জাদুর কাঠি :)

শাহবাগের মোড়ে এসে শাফীকে দেখলাম, সেই চিরচেনা স্মিত হাসি। আমাদের দলটা আরেকটু ভারী হলো। আমরা ঢুকলাম 'অস্তাচল' দিয়ে। ঢোকার পরপরই ফাহিমের মোবাইল বেজে উঠলো। ইফার ফোন। ও 'অরুণোদয়' দিয়ে ঢুকেছে, আমাদের খুঁজছে। বেশ মজা পেলাম শুনে, অরুণোদয় থেকে অস্তাচল, একটা অন্যটার পরে আবার কোনটাই কোনটার আগে না...

আমি, ফাহিম, শাফী, সেজান আর ইফা। ভীড় ঠেলে এগুচ্ছি। রোদের উত্তাপ বাড়ছে। গলা শুকিয়ে একেবারে কাঠ। ওয়াসার একটা পানির গাড়ির ট্যাপ থেকে পানি খেয়ে নিলাম। এভাবে এত নিচু হয়ে ট্যাপ থেকে পানি খাইনি কখনো। খেতে গিয়ে পাঞ্জাবি ভিজে গেল। যেন খুব মজার দৃশ্য - দেখে সবার কি হাসি...। তো, শেষমেষ, ক্লান্তির কাছে হার মেনে বসে পড়তে হল গাছের নিচে। ফাহিমের সাথে কথা বলছিলাম। নানা বিষয়ে টুকরো টুকরো কথা বলতে খুব ভালো লাগছিল। আর গাছের ছায়াটাও খুব আরামদায়ক মনে হচ্ছিল।

ওখান থেকে বেরিয়ে প্রচন্ড রোদের মধ্যে হেঁটে সবার খিদে পেয়ে গেল। পকেট গড়ের মাঠ। সমবায় করে খেলাম পাবলিক লাইব্রেরির ক্যান্টিনে। প্রচন্ড গরম, মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। সবাই গিয়ে বসলাম একটা গাছের ছায়ায়, ঘাসের ওপর। একটা সময় কেয়া এসে আমাদের সাথে যোগ দিল, ওর ধারণা ছিল আমরা অনেক মজা করে ফেলছি, মিস করে ফেলেছে বোধহয়। হ্যাঁ, মজা তো করেছিলামই, তবে হ্যাঁ, ওকে সবাই খুব মিস করেছি। তারপর সবাই বেরুলাম, অনেকক্ষণ এলোমেলো হেঁটে আমরা ছ'জন পৌছালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ওখানটায়। সূর্য তখন মধ্যগগনে, আমরা সবাই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মাঝেমধ্যে ফাহিমের মেটালিক ভয়েসের গান শুনলাম। আমাকে বাসায় ফিরতে হলো, কারণ জেঠু, জেঠি, দাদামনি, ভাবি সবাইকে নিমন্ত্রন করা হয়েছিল বাসায়। তার উপর রাতে হলে ছিলাম, নববর্ষের দিন, বাসার কারো সাথে দেখা হয়নি। খুব, খুব খারাপ লাগছিল বন্ধুদের ছেড়ে যেতে।তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলাম, পেছন ফিরে তাকালাম না, চোখের কোণে মনের অজান্তেই জল চলে আসলো একটু...।

এসব বিশেষ দিনে রিকশাওয়ালারা শাহেনশাহ বনে যান। 'তাঁরা'ই ঠিক করেন কোথায় যাবেন, এবং ইচ্ছেমতন ভাড়া হাঁকেন। শেষপর্যন্ত কতকটা হেঁটে, কতকটা রিকশায় চড়ে ফিরলাম বাসায়। এই টার্মে অনেক হাঁটা হচ্ছে, কদিন আগেই কেনা স্যান্ডেলের সোল ক্ষয়ে অবস্থা খারাপ, হয়তো একসময় সেটা খসে পড়বে। তখন আমি সেটা খুঁজতে থাকব - sole-searching...

বিকেলে হলে ফিরে আসলাম, আসার পথে দেখলাম পলাশী মোড়ে ভয়াবহ জ্যাম। কোন কোন রাস্তা ওয়ানওয়ে হয়ে গেছে! আমার মনে হচ্ছিল গাড়িগুলোকে তুলে তুলে ঠিক জায়াগায় বসিয়ে না দিলে এ জ্যাম কখনোই কাটবে না।

তারপর, ল্যাব রিপোর্ট নিয়ে দৌড়োদৌড়ি, রাকিবের ইম্প্রুভটা খাওয়া :D এবং ঘুম...। তবে শালার রিপোর্টের জন্য আর্কিতে শিরোনামহীনের পারফরম্যান্সটা দেখতে পারলাম না... :(

মোরাল: পহেলা বৈশাখে বের না হওয়াই ভাল, সব অনুষ্ঠানই টিভিতে লাইভ দেখায়।

যদি বের হতেই হয়:

১. ফকির হয়ে পহেলা বৈশাখে বের হওয়া যাবে না।
২. ১.৫ লিটারের কম পানি নিয়ে বেরোনো যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:২৬
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×