বুধবার। ঝাপসা স্লাইড, ঘামে ভেজা জব, হোয়াইট বোর্ডে দুর্বোধ্য আঁকিবুকি, CAD ক্লাসের বকবক ... ... অগ্নিস্নাত বর্ষবরণ, প্রিয়মুখগুলোকে একসাথে পাওয়া, ক্লাস ফাঁকি দেওয়া মিষ্টি বিকেল ... সপ্তাহটা এলো আর টুশ করে চলে গেল...
বর্ষবরণ নিয়ে অনেক plan-programme করেছিলাম। হলে উঠেছিলাম এই ভেবে যে, ঘুম থেকে উঠে বটমূলে গিয়ে সূর্যোদয় দেখবো। হল না, শাফীর ঘুমজাগানি কল রিসিভ করেই ঘুমিয়ে পড়লাম (হায়রে plan!)। ঠিক পৌনে সাতটার দিকে ফাহিমের কল পেয়ে পড়িমড়ি করে ছুটলাম টিএসসি। পৌঁছে দেখি পুরো এলাকা বৈশাখী সাজে সেজেছে। ফাহিম আর সেজান তখনো পৌঁছেনি। ঠিক লোকে-লোকারণ্য বলাটা ঠিক হবেনা, তবে পুরো জায়গাটা রঙিন হয়ে ছিল, ঠিক যেমনটা পয়লা বৈশাখে থাকে। আর আবহাওয়াটাও ছিল সহনীয় (তখনো)।
ওরা হাজির হল। দুজনই বাঙালি টি-শার্ট (নকশা অন্তত তা'ই বলে) পরে ছিল
শাহবাগের মোড়ে এসে শাফীকে দেখলাম, সেই চিরচেনা স্মিত হাসি। আমাদের দলটা আরেকটু ভারী হলো। আমরা ঢুকলাম 'অস্তাচল' দিয়ে। ঢোকার পরপরই ফাহিমের মোবাইল বেজে উঠলো। ইফার ফোন। ও 'অরুণোদয়' দিয়ে ঢুকেছে, আমাদের খুঁজছে। বেশ মজা পেলাম শুনে, অরুণোদয় থেকে অস্তাচল, একটা অন্যটার পরে আবার কোনটাই কোনটার আগে না...
আমি, ফাহিম, শাফী, সেজান আর ইফা। ভীড় ঠেলে এগুচ্ছি। রোদের উত্তাপ বাড়ছে। গলা শুকিয়ে একেবারে কাঠ। ওয়াসার একটা পানির গাড়ির ট্যাপ থেকে পানি খেয়ে নিলাম। এভাবে এত নিচু হয়ে ট্যাপ থেকে পানি খাইনি কখনো। খেতে গিয়ে পাঞ্জাবি ভিজে গেল। যেন খুব মজার দৃশ্য - দেখে সবার কি হাসি...। তো, শেষমেষ, ক্লান্তির কাছে হার মেনে বসে পড়তে হল গাছের নিচে। ফাহিমের সাথে কথা বলছিলাম। নানা বিষয়ে টুকরো টুকরো কথা বলতে খুব ভালো লাগছিল। আর গাছের ছায়াটাও খুব আরামদায়ক মনে হচ্ছিল।
ওখান থেকে বেরিয়ে প্রচন্ড রোদের মধ্যে হেঁটে সবার খিদে পেয়ে গেল। পকেট গড়ের মাঠ। সমবায় করে খেলাম পাবলিক লাইব্রেরির ক্যান্টিনে। প্রচন্ড গরম, মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। সবাই গিয়ে বসলাম একটা গাছের ছায়ায়, ঘাসের ওপর। একটা সময় কেয়া এসে আমাদের সাথে যোগ দিল, ওর ধারণা ছিল আমরা অনেক মজা করে ফেলছি, মিস করে ফেলেছে বোধহয়। হ্যাঁ, মজা তো করেছিলামই, তবে হ্যাঁ, ওকে সবাই খুব মিস করেছি। তারপর সবাই বেরুলাম, অনেকক্ষণ এলোমেলো হেঁটে আমরা ছ'জন পৌছালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ওখানটায়। সূর্য তখন মধ্যগগনে, আমরা সবাই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মাঝেমধ্যে ফাহিমের মেটালিক ভয়েসের গান শুনলাম। আমাকে বাসায় ফিরতে হলো, কারণ জেঠু, জেঠি, দাদামনি, ভাবি সবাইকে নিমন্ত্রন করা হয়েছিল বাসায়। তার উপর রাতে হলে ছিলাম, নববর্ষের দিন, বাসার কারো সাথে দেখা হয়নি। খুব, খুব খারাপ লাগছিল বন্ধুদের ছেড়ে যেতে।তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলাম, পেছন ফিরে তাকালাম না, চোখের কোণে মনের অজান্তেই জল চলে আসলো একটু...।
এসব বিশেষ দিনে রিকশাওয়ালারা শাহেনশাহ বনে যান। 'তাঁরা'ই ঠিক করেন কোথায় যাবেন, এবং ইচ্ছেমতন ভাড়া হাঁকেন। শেষপর্যন্ত কতকটা হেঁটে, কতকটা রিকশায় চড়ে ফিরলাম বাসায়। এই টার্মে অনেক হাঁটা হচ্ছে, কদিন আগেই কেনা স্যান্ডেলের সোল ক্ষয়ে অবস্থা খারাপ, হয়তো একসময় সেটা খসে পড়বে। তখন আমি সেটা খুঁজতে থাকব - sole-searching...
বিকেলে হলে ফিরে আসলাম, আসার পথে দেখলাম পলাশী মোড়ে ভয়াবহ জ্যাম। কোন কোন রাস্তা ওয়ানওয়ে হয়ে গেছে! আমার মনে হচ্ছিল গাড়িগুলোকে তুলে তুলে ঠিক জায়াগায় বসিয়ে না দিলে এ জ্যাম কখনোই কাটবে না।
তারপর, ল্যাব রিপোর্ট নিয়ে দৌড়োদৌড়ি, রাকিবের ইম্প্রুভটা খাওয়া
মোরাল: পহেলা বৈশাখে বের না হওয়াই ভাল, সব অনুষ্ঠানই টিভিতে লাইভ দেখায়।
যদি বের হতেই হয়:
১. ফকির হয়ে পহেলা বৈশাখে বের হওয়া যাবে না।
২. ১.৫ লিটারের কম পানি নিয়ে বেরোনো যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


