১.
অদ্ভুত মায়াময় গ্রামটার ঠিক মাঝখানে গাছঘেরা একলা পুকুর।
একটা হাঁস টুপ করে পানিতে ডু্ব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, আবার খানিক পরেই কিছুটা দূরে ভেসে উঠছে।
একটু দূরেই একটা ছাগলছানাকে পেছন থেকে তাড়া করছে দুষ্টু ছেলে।
ট্রেনের গা ছুঁয়ে চলে যাওয়া পাহাড়, যেগুলোর কোনো কোনটায় শান্ত চা-বাগান আবার কোনোটায় ফিক করে হেসে ওঠা আনারসের নতুন পাতা।
কিছু টুকরো ছবি, যেন টুকরো স্বর্গ।
এ রকম একটা সময়ে মনে হয়, যদি বায়োস্কোপের মতো ছবিগুলো শুধু বারবার ঘুরে আসতো, আর আমার বাস্তবতাগুলোকে একটু একটু করে মুছে দিতো...।
২.
ঘুম ভাঙলো শেষ রাতে। ঘুমাতে পারিনি অবশ্য। ছটা চল্লিশে পারাবত এক্সপ্রেস ধরতে হবে। তার আগে অন্যদের তুলে নিতে হবে বিভিন্ন জায়গা থেকে। শান্ত কলাবাগান, রুশাফি ভাই ল্যাবএইড আর বাকিরা বুয়েট থেকে। তানাঈম ভাই, অনিন্দ্য ভাই আর সানি - এই তিনজনের বাসা স্টেশনের কাছাকাছি হওয়াতে ওরা নিজেরাই পৌঁছে যাবে।
সব কাজ প্ল্যানমতই হল। শান্তর বাস ঠিক সময়ে রাজশাহী থেকে কলাবাগানে এল (ও রাজশাহীতে ওর বাসায় ছিল)। বুয়েটে গিয়েও সবাইকে রেডি পাওয়া গেল। ভোর হওয়া দেখতে দেখতে স্টেশনে পৌঁছালাম। ৯ জনই উপস্থিত। ৩টা দল - ফ্যালকন, স্নাইপার, মিসটিক। আমি এই প্রথম দূরে কোথাও কনটেস্ট করতে যাচ্ছি।
৩.
ট্রেন ছাড়লো সময়মতো। অথচ দু'দিন আগেও জানতাম না কিভাবে যাবো। পরশু রাতে কনফারেন্সে বসেছিলাম সবাই। আমরা রাতে কোথায় থাকবো সেটাও জানতাম না। আমি রাতে শাহজালাল সিএসই সোসাইটির জিএস মৃণাল দা কে ফোন করেছিলাম। উনি কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি। শুধু বলেছিলেন আসলে দেখা যাবে
৪.
আমাদের ট্রেনে এই কনটেস্টের মহামান্য 'জাজ' রাও যাচ্ছিলেন। সোহেল ভাই, আরিফ ভাই, প্রিন্স ভাই (মহিউল আলম), সিদকি ভাই (ওরফে স্বামী ঘুটঘুটানন্দ) আর রাইয়ান ভাই। পরে এয়ারপোর্ট থেকে উঠলেন মাহমুদ ভাই। খুব মজা লাগছিল ওদের ফিসফিস করে কথা বলা দেখতে, ওরা এমন করছিল যাতে আমরা কিছু জেনে যেতে না পারি
৫.
ট্রেনটা শহর ছেড়ে যখন গ্রামে গেল তখন জানালার বাইরের অংশটুকু ছাড়া বাকি সব কিছুই যেন আমার কাছে গৌণ হয়ে গেল। প্রকৃতি এতো সুন্দর! মনে হল যেন আমি ট্রেনের জানালা দিয়ে কোন সুন্দর স্বপ্ন দেখছি, হয়তো স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর, অনেক স্পষ্ট। আমার দেহ নশ্বর, ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে। না হলে জানালার পাশে বসে অনন্তকাল কাটিয়ে দেওয়া যেতো। ভালোবাসলে যেমন হয়, ঠিক তেমনি। আমার সীমাবদ্ধতাই আমার আক্ষেপ।
৬.
পূণ্যভূমি সিলেট পৌঁছালাম প্রায় তিনটার দিকে। আব্বুর ডিপার্টমেন্টের সিলেট অফিসের একটা গাড়ি তৈরি ছিল। ওতে আমরা ছ'জন উঠে
বসলাম। নাফি শান্ত আর তানাঈম ভাইকে নিয়ে চলে গেল ওর ভাবির বাড়িতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


