somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমনে ভুলিব আমি - ১

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
অদ্ভুত মায়াময় গ্রামটার ঠিক মাঝখানে গাছঘেরা একলা পুকুর।

একটা হাঁস টুপ করে পানিতে ডু্ব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, আবার খানিক পরেই কিছুটা দূরে ভেসে উঠছে।

একটু দূরেই একটা ছাগলছানাকে পেছন থেকে তাড়া করছে দুষ্টু ছেলে।

ট্রেনের গা ছুঁয়ে চলে যাওয়া পাহাড়, যেগুলোর কোনো কোনটায় শান্ত চা-বাগান আবার কোনোটায় ফিক করে হেসে ওঠা আনারসের নতুন পাতা।

কিছু টুকরো ছবি, যেন টুকরো স্বর্গ।

এ রকম একটা সময়ে মনে হয়, যদি বায়োস্কোপের মতো ছবিগুলো শুধু বারবার ঘুরে আসতো, আর আমার বাস্তবতাগুলোকে একটু একটু করে মুছে দিতো...।

২.

ঘুম ভাঙলো শেষ রাতে। ঘুমাতে পারিনি অবশ্য। ছটা চল্লিশে পারাবত এক্সপ্রেস ধরতে হবে। তার আগে অন্যদের তুলে নিতে হবে বিভিন্ন জায়গা থেকে। শান্ত কলাবাগান, রুশাফি ভাই ল্যাবএইড আর বাকিরা বুয়েট থেকে। তানাঈম ভাই, অনিন্দ্য ভাই আর সানি - এই তিনজনের বাসা স্টেশনের কাছাকাছি হওয়াতে ওরা নিজেরাই পৌঁছে যাবে।

সব কাজ প্ল্যানমতই হল। শান্তর বাস ঠিক সময়ে রাজশাহী থেকে কলাবাগানে এল (ও রাজশাহীতে ওর বাসায় ছিল)। বুয়েটে গিয়েও সবাইকে রেডি পাওয়া গেল। ভোর হওয়া দেখতে দেখতে স্টেশনে পৌঁছালাম। ৯ জনই উপস্থিত। ৩টা দল - ফ্যালকন, স্নাইপার, মিসটিক। আমি এই প্রথম দূরে কোথাও কনটেস্ট করতে যাচ্ছি।

৩.

ট্রেন ছাড়লো সময়মতো। অথচ দু'দিন আগেও জানতাম না কিভাবে যাবো। পরশু রাতে কনফারেন্সে বসেছিলাম সবাই। আমরা রাতে কোথায় থাকবো সেটাও জানতাম না। আমি রাতে শাহজালাল সিএসই সোসাইটির জিএস মৃণাল দা কে ফোন করেছিলাম। উনি কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নি। শুধু বলেছিলেন আসলে দেখা যাবে :| নাফির ভাবির বাড়ি আবার সিলেটে, ওখানে হয়তো কয়েকজন থাকতে পারবে কিন্তু এটা তো কোন নির্ভরযোগ্য সমাধান হতে পারে না। ওখানে বন্ধুদের ফোন করে রাখলাম, যাতে বিপদে পড়লে একটা রাত থাকা যায়। হোটেলে থাকাটা একটা উপায় ছিল, কিন্তু ওদের ওয়েবসাইটে যেসব হোটেলের নাম দেওয়া ছিল, সেগুলোর একরাতের খরচ একটু বেশিই মনে হয়েছিল। যাই হোক, কিভাবে যাব সেটা ঠিক হল। যাবো ট্রেনে ফিরবো বাসে। বুয়েট এ কনটেস্টের জন্যে একটা টাকাও দিচ্ছে না, পুরো খরচই নিজেদের দিতে হচ্ছে। আর এজন্যেই এতো হিসেব-নিকেশ। এছাড়া রবিবারের ক্লাস ধরারও একটা ব্যাপার ছিল।

৪.

আমাদের ট্রেনে এই কনটেস্টের মহামান্য 'জাজ' রাও যাচ্ছিলেন। সোহেল ভাই, আরিফ ভাই, প্রিন্স ভাই (মহিউল আলম), সিদকি ভাই (ওরফে স্বামী ঘুটঘুটানন্দ) আর রাইয়ান ভাই। পরে এয়ারপোর্ট থেকে উঠলেন মাহমুদ ভাই। খুব মজা লাগছিল ওদের ফিসফিস করে কথা বলা দেখতে, ওরা এমন করছিল যাতে আমরা কিছু জেনে যেতে না পারি :D। রাইয়ান ভাইয়ারতো প্রতিটা স্টেশনে নামতেই হবে। ট্রেন যখন ছাড়ি-ছাড়ি করছে তখন সবার উৎকন্ঠা - রাইয়ান উঠতে পেরেছে তো? :) বুয়েটের বাকি দু'জনের কথা বলা হয়নি। আমার টীমমেট সামির ভাই আর স্নাইপার এর মাশুক ভাই। পুরো সময়টা তারা কি যেন নিয়ে আলোচনা করে কাটিয়ে দিল।

৫.

ট্রেনটা শহর ছেড়ে যখন গ্রামে গেল তখন জানালার বাইরের অংশটুকু ছাড়া বাকি সব কিছুই যেন আমার কাছে গৌণ হয়ে গেল। প্রকৃতি এতো সুন্দর! মনে হল যেন আমি ট্রেনের জানালা দিয়ে কোন সুন্দর স্বপ্ন দেখছি, হয়তো স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর, অনেক স্পষ্ট। আমার দেহ নশ্বর, ক্ষুধা-তৃষ্ণা আছে। না হলে জানালার পাশে বসে অনন্তকাল কাটিয়ে দেওয়া যেতো। ভালোবাসলে যেমন হয়, ঠিক তেমনি। আমার সীমাবদ্ধতাই আমার আক্ষেপ।

৬.

পূণ্যভূমি সিলেট পৌঁছালাম প্রায় তিনটার দিকে। আব্বুর ডিপার্টমেন্টের সিলেট অফিসের একটা গাড়ি তৈরি ছিল। ওতে আমরা ছ'জন উঠে
বসলাম। নাফি শান্ত আর তানাঈম ভাইকে নিয়ে চলে গেল ওর ভাবির বাড়িতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×