somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবদুর রহমান মাসুম
মুজাফফর বিন মহসিন সাহেব রচিত "জাল হাদিসের কবলে রাসুলুল্লাহ সল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত বইয়ের দলিল ভিত্তিক পর্যালোচনাঃ

ভুল নং-৭:মসজিদের দেয়ালে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ প্রভৃতি লিখা

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে অনেক মসজিদের মেহরাবের
একপাশে লিখা থাকে আল্লাহ এবং অপর পাশে
লেখা থাকে মুহাম্মাদ।
মুজাফফর বিন মুহসিন সাহেব লিখেছেন, এমনভাবে
লেখা পরিস্কার শিরক।তিনি কারণ উল্লেখ
করেছেন, এতে নাকি বুঝানো হয়, আল্লাহই
মুহাম্মাদ। অর্থাৎ আল্লাহকে নাকি মুহাম্মাদ
বানানো হয়ে যায়।(নাউযুবিল্লাহ)
জাল হাদীসের কবলে রাসুলুল্লাহ (সা) এর
সালাত/১১০

.
জবাবঃ
.
আমার দেশের একজন মুসলমান ভাই ও তো মনে
করেনা, এখানে আল্লাহ দ্বারা মুহাম্মাদ বুঝানো
হয়েছে।
তাহলে তিনিএ উদ্ভট ও বানোয়াট কথা কোথায়
পেলেন?
.
.
সকল মুসল্লিগণই এ ধরণের শব্দদ্বয় ব্যবহার থেকে
স্পষ্টতই বুঝে থাকে,
১/মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আল্লাহর রাসুল।
১/ ‘আল্লাহ’ আমাদের রাব্ব (প্রতিপালক) এবং
‘মুহাম্মাদ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আমাদের নবী এবং রাসুল।
আর এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই এভাবে
‘আল্লাহ’ এবং ‘মুহাম্মাদ’ লেখা হয়ে থাকে।
মুজাফফর বলেছেন,
আরবীতে ‘একসঙ্গে’ আল্লাহু মুহাম্মাদ লিখলে অর্থ
হয়, আল্লাহই হচ্ছেন মুহাম্মাদ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো,
কোথায় এভাবে ‘একসঙ্গে’ আল্লাহু মুহাম্মাদ লেখা
হয়? কোন মসজিদে? বরং মসজিদে সচরাচর যা
দেখা যায়, মেহরাবের এক পাশে আল্লাহ লেখা হয়
এবং অপর পাশে লেখা হয় ‘মুহাম্মাদ’।
তাহলে এটা তো এক সঙ্গে লেখা হলো না,বরং দুটি
শব্দ লেখা হয় মেহরাবের দু’পাশে।
কিন্তু এটাকে একসঙ্গে লেখার অপপ্রচার করার
মানে টা কী?
ওয়াসওয়াসা?
আর যদি পাশাপাশি/কাছাকাছি এভাবে লেখলে
যদি শিরক হয়ে যায়, তবে তো তারা বলতে চায়
স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
আংটি মুবারকের মধ্যে ও শিরক বিদ্যমান ছিল!!
(নাউযুবিল্লাহ।)
কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
আংটি মুবারকের উপর লেখা ছিল
আল্লাহ
রাসুল
মুহাম্মাদ।
তাহলে মুজাফফর সাহেবের কথা মত এর অর্থ
দাঁড়াবে, আল্লাহই হলেন রাসুল, আর রাসুল ই হলেন
মুহাম্মাদ। তারমানে আল্লাহই হলেন মুহাম্মাদ!!
(নাউযুবিল্লাহ)
এখন যদি তারা বলে,
না, এখানে আল্লাহ, রাসুল, মুহাম্মাদ- উপর নীচ করে
লেখা হয়েছে, একসাথে লেখা হয় নাই। তাই এমন
শিরকের অর্থ নেয়ার সম্ভাবনা নেই।
https://www.youtube.com/watch?v=ey9pVHGBsV8
তাহলে আমরা ও বলবো,
মেহরাবে আল্লাহ মুহাম্মাদ এক সাথে লেখা হয়
না। দুটি শব্দের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। তাই
এখানে ও শিরকের সম্ভাবনা নেই।
যদি তারা বলে যে, হাদীস শরীফে রয়েছে,
আংটিতে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লেখা ছিল।
আমরা বলবো,
মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের আংটিতে তিনটি শব্দ
দেখা যায়। আংটিতে লিখিত ঐ তিনটি শব্দ
আল্লাহ রাসুল মুহাম্মাদ দ্বারা যদি হাদিস শরীফে
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলে বুঝানো হয়ে থাকে,
তবে মসজিদের মেহরাবের দু পাশে লেখা আল্লাহ
এবং মুহাম্মাদ দ্বারা মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল
এটাই বুঝানো হবে। এখানে ওয়াসওয়াসা পূর্ণ অর্থ
নেয়ার কোন অবকাশ নেই।
অন্তরে রোগ থাকলে কেউ এমন আজগুবি কথা বলতে
পারে।
মোট কথা
১/ আল্লাহ শব্দের পাশে মুহাম্মাদ শব্দ লিখলেই
শিরক হয়ে যায় না। এটা ভুয়া কথা।
২/ এ দুটি শব্দ লেখার মাধ্যমে বুঝানো হয়, ‘আল্লাহ
হচ্ছেন মুহাম্মাদ’- এমন কথা বলার কোন ভিত্তি
নেই। কারণ কোন মুসলমান এমন বিশ্বাস পোষণ করে
না। করতে পারে না।
৩/ মূলত আল্লাহ শব্দ দ্বারা রাব্ব এবং মুহাম্মাদ
দ্বারা এখানে তাঁর প্রেরিত রাসুলকে বুঝানো হয়ে
থাকে। আর এটাই মুসলমানগণ বিশ্বাস করে থাকে।
এখানে কোন বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
৪/ কিছু লোক মুসলমানের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি
করার জন্য এভাবে উদ্ভট ও আজগুবি কথা বলছে।
এটা নতুন নয়। মুসলমানদের বিভ্রান্ত ও সন্দেহ প্রবণ
করতে এমন অপপ্রচার বহুকাল থেকেই চলে আসছে।
কেউ সফল হয় নাই।
এরাও সফল হবে না। ইনশা আল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:০৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

লংমার্চ নাকি ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের আজকের লংমার্চ—ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা। শুনে মনে হলো, ইতিহাস বুঝি আবার হাঁটতে শুরু করেছে!

কর্মসূচির ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×