somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুরণন

১৯ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাজু’র ফোন পেয়ে ঘুম ভেঙে গেল।ঘুমের ঘোরে “হ্যালো” বলতেই ও পাশ থেকে মেয়েটা ভেজা গলায় গড়গড় করে কি সব বলে গেল।আমার পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ওর কথা শুনে।আজ নাকি পারু আসছে।আমি উঠে বসলাম।আহ,কতদিন পর পারুকে কাছ থেকে দেখব।

বিছানায় বসেই ঠিক করলাম,আজ পারুকে ভালোবাসা’র কথা জানিয়েই দিব।মনের ভেতর চরম উত্তেজনা,তবুও সবার সামনে স্বাভাবিক ভাবেই থাকব।কাউকে কিছু বুঝতে দেয়া যাবে না।ব্রাশ করে,গোসল দিয়ে আলমারি থেকে ভাঁজ করা পাঞ্জাবি টা বের করে পড়লাম।কখন যে ১০টা বেজে গিয়েছে,টেরই পাইনি। বাসা থেকে বের হব,সেই সময় পেছন থেকে আম্মা ডাকলেন খাওয়ার জন্য।আগেই ঠিক করেছি,কাউকে কিছু বুঝতে দিবো না।তাই বাধ্য ছেলের মত খেতে বসে গেলাম।খুব সাবধানতার সাথে সবকিছু করছি,তারপরও আম্মা কিভাবে যেন ধরে ফেললেন।মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

-কিছু হয়েছে তোর?এরকম অস্থির হয়ে আছিস কেন বাবা?
-আরে নাহ। কি হবে? জানো আম্মা,আজ খুব important একটা কাজ করব।দোয়া কোরো,যেন ঠিক মত করতে পারি।

আম্মা আবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।একটু সাহস বাড়ল।

বাসা থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেলাম জাহাঙ্গীর এর চায়ের দোকানে।নিয়ম ভেঙে কড়া করে চিনি আর মালাই দিয়ে ১ কাপ চা দিতে বলে কোনার দিকের টেবিলে গিয়ে বসলাম।মানসিক ভাবে প্রস্তুতির ব্যপার আছে।ওকে কি কি বলব,তা গুছিয়ে নিতে হবে না! পরে যদি এলোমেলো হয়ে যায়?আমি আবার ওর সামনে গেলেই কেন যেন তোতলা হয়ে যাই।এইতো,গত বছর যখন ওর সাথে দেখা হয়েছিল,তখন “ক্যামন আছিস?” কথাটা বলতেই ১মিনিট পার হয়ে গিয়েছিল।সামনে থাকা বন্ধুরা এটা নিয়ে এখনও খোঁটা দেয়।বন্ধুরাও যা হয়েছে না!

হেঁটে হেঁটে ওর বাসার দিকে আসলাম।ওইতো ওর বাসা দেখা যাচ্ছে।হুট করে ১০/১২ বছরের একটা মেয়ে এসে বলল,
-স্যার,ফুল লইবেন?আইজ সকাল সকাল সব ফুল বিক্রি হয়া গ্যাছে।মাত্র এই কয়টা আছে।লইবেন?
- কতগুলো আছে তোমার হাতে?
- ৫টা। লইবেন? কম রাখুম নে। ৫টা ২৫ টাকা।

আমি সবগুলো ফুল নিয়ে নিলাম।ভালোবাসার কথা জানাব,আর ফুল দিবো না,তা কি করে হয়!মেয়েটির হাতে ১০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে হাঁটা দিলাম।মেয়েটি পেছন থেকে ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছে,”স্যার টাকা লয়া যান।” আমার ওইসব শোনার সময় কোথায়!পারু’র বাসায় এসেই পরেছি।সবাই দল বেধে কোথাও যাচ্ছে।আমিও যন্ত্রের মতো সেই মানুষগুলোর পেছন পেছন হাঁটছি...

বড় দরজা’র কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভেতরে অনেক মানুষ।ঠিক করেছি, সবাই চলে গেলে তারপর ওর কাছে যাব।আমার পা কাঁপছে।সবাই এত সময় নিচ্ছে কেন?মনে হচ্ছে,অনন্তকাল ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ওই ফুলওয়ালী মেয়েটাও যে আমার পেছনে পেছনে টাকা দেয়ার জন্য এসেছে,তা বুঝিনি।কাছে এসে আবার বলল,”স্যার,টাকা লইবেন না?” আমি মেয়েটির কথার কোন জবাব না দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম।ততক্ষনে সবাই চলে গিয়েছে।মেয়েটি বড়বড় চোখে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কি সব বলছে।অথচ আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি,মেয়েটি বলছে,”যতসব পাগল ছাগল।তুই টাকা না লইলে আমার কি?”

হাতে রাখা ফুলগুলো কিছুক্ষন আগের বানানো পারু'র কবরের কাছে রেখে স্বাভাবিক ভাবেই বললাম, "পারু,তোকে খুব ভালোবাসি।সারা জীবন এই ভাবেই ভালোবেসে যাব। যেখানেই থাকিস,ভাল থাকিস।"
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×