ঠিক এই বটগাছটারই ছবি বড় করে ঝোলানো আছে কোলকাতায় অবস্থিত ইন্ডিয়া তথা বিশ্বব্যাপি সমাদৃত আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর প্রধান শো রুম এ।
কারণটা হল এ বটগাছের গোড়াতেই আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর কর্ণধার বাবু নিতাই এর পূর্বপুরুষরা পূজা অর্চণা করতেন। এ তাদের অন্যতম পারিবারিব তীর্থস্থান এবং এ জায়গাটা বাংলাদেশেই !!
কলকাতার আমার বন্ধু তৃণা ভাদুরীর দেওয়া সামান্য তথ্য ধরে বহুদিন পর জায়গাটার খোঁজ পেলাম।
বাড়ির কাছেই আরশীনগর ......
হাটতে শুরু করলে মাত্র ১৫/২০ মিনিটে পুরো গ্রামটা একবার ঘুরে এসে শেষ করা যায়। কিন্তু দেখতে হলে আপনার কতটুকু সময় লাগবে জানি না ...... আমি সকালে যাওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে গেল বলে ফিরে এসেছি বাধ্য হয়ে। গ্রামটার চারদিকে পানি.. যেন একটা দ্বীপ। বটগাছটা গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও একেবারে কাছাকাছি। শহরের রাস্তা থেকে নেমে হেটে ক্ষীণ নদী পার হলাম খেয়া নৌকায়। পাড়ে ছাউনীতে ২টাকা দিয়ে সামনে তাকাতেই পুরোনো জমিদার আদলের তিনতলা বাড়ি, ছোট পাকুড় গাছ আর বিশাল ঘাটলা নদীতে গিয়ে মিশেছে। জানলাম রজনী সাহা বাড়ি এটা। প্রায় দু - আড়াই’শ বছরের পুরোনো স্মৃতি নিয়ে আজও কালের নীরব স্বাক্ষী। দু – আড়াই’শ বছর ... ... ভাবলেই শিহরণ জাগে। ভাওয়াল রাজার জমিদারীর এলাকার একাংশ এই বিরুলিয়া গ্রাম। এখান থেকেই পরিচালিত হত সাভার, কালিয়াকৈর এর একাংশ, শ্রীপুর বরমীর একাংশ, গাজীপুর এর বিভিন্ন এলাকা এবং এখনকার ঢাকার মীরপুর গাবতলী। উত্তরা থেকে কহর দরিয়ার প্রবল ঢেউ এসে আছড়ে পড়তো এই বিরুলিয়ার ঘাটে।
এই ঘাট এর যে বসার জায়গা... এটা নতুন। এ বসার জায়গা ছিল আরও সামনে যেখানে বড় বড় জাহাজ আর বজরা ভিরতো জমিদার বাবু তারক চন্দ্র সাহা, বাবু কালি কুমার সাহাদের। তারা এখানে বসে নিলাম কিনতেন আর পরিচালনা করতেন জমিদারীর। আর এখানেই একসময় বসতি ছিল আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর কর্ণধার এর পিতৃপুরুষদের। চমৎকার ইট বিছানো রাস্তায় পশ্চিমে আগাতেই প্রথম চেখে পড়বে ৮৫ বছর পুরোনো শ্রী শ্রী বৃন্দাবন চন্দ্র জিউ বিগ্রহ মন্দির। সামেনে নানান ধরণের দোকান/বাড়ি - মাটির, টিনের, আধাপাকা, বিল্ডিং। তারপর আরও এগুতেই চক্ষু চড়কগাছ। পরপর বিভিন্ন প্যাটাণ্যের বিভিন্ন ডিজাইনের দুই তলা থেকে শুরু করে পাঁচতলা পর্যন্ত দেড়শ থেকে দুইশত বছরের পুরোনো বাড়িঘর। ছোট ছোট সিড়িঘর, শ্যাওলাধরা ছাদ আপনাকে অবশ্যই দূর অতীতে নিয়ে যাবে কল্পনার অদৃশ্য টাইম ক্যাসুলে চড়িয়ে। প্রায় বাড়ির পশ্চিমেই লাগোয়া বিশাল বিশাল পুকুর ঘাট।
শুধু দেখাতেই এর বিবরণ সম্ভব, লেখাতে নয়।
প্রতি বাংলা বছরের প্রথম দিনে, পহেলা বৈশাখে মেলা বসে বটতলায় শান— চুপচাপ এই বিরুলিয়া গ্রামে। যাবেন না কি বেড়াতে/দেখতে ?
বললাম না “ বাড়ির কাছেই আরশীনগর ......” তবে কেন যাবেন না ?
উত্তরা আবদুল্লাপুর থেকে ম্যাক্সিতে আশুলিয়া বাধ/ল্যান্ডিং ষ্টেশনকে ডানে রেখে মিরপুর বাঁধ রোডে ১৫ মিনিট পর বিরুলিয়া ঘাট নামতে হবে ভাড়া ১৫/২০ টাকা। মিরপুর থেকেও প্রায় একই ভাড়া। তারপর পশ্চিম দিকে বাঁধ থেকে নেমে একটু হাটলেই খেয়া নৌকা .. .. .. ২ টাকা ভাড়া।
তারপর আপনার যা খুশি করুন আমি আর কিছু বলবো না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


