‘হ্যালো, স্যার আসসালামু আলাইকুম। বিক্যাশ কাস্টমার সার্ভিস থেকে সাকলাইন শুভ বলছি। স্যার আপনার কি একটু কথা বলার সময় হবে? বিক্যাশ তার গ্রাহকের সেবা সুরক্ষিত ও শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য সকল গ্রাহকের একাউন্ট হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে। অনুগ্রহ করে আপনার একাউন্ট যেই এনআইডি (জাতীয় পরিচয় পত্র) দিয়ে চালু করেছেন সেই আইডি নাম্বার এবং সর্বশেষ লেনদেনের পরিমাণ ও সে ব্যাপারে আমাদেরকে কিছু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।’ তিন চার দিন আগে এরকমই এক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। তবে যিনি ফোন করেছিলেন তার একটু ভুলের কারণে খেলাটাতে তিনি জিততে পারেননি। কারণ তার কথাবার্তা শুনে বুঝার উপায় নেই যে তিনি প্রতারক। ধরার একটাই উপায় ছিল। তা হলো, উনি আমাকে নিয়ে অসাভাবিক আন্তরিক ও উত্তেজিত ছিলেন। আমি একবার ফোন রেখে দেয়ার পর উনি তিনবার ফোন করেছিলেন। এছাড়া যে নাম্বার দিয়ে ফোন দিয়েছিলেন তা বিক্যাশের হেল্পলাইনের নাম্বার ছিল না। অন্য একটি অপারেটরের নাম্বার থেকে তিনি ফোন করেছিলেন। ঘটনার দিন অফিসে গিয়ে সহকর্মীদেরকে জানানোর সাথে সাথে আরো একজন জানালেন যে, তার মেয়ের দুই বান্ধবী একই ফাঁদে পড়ে এরই মধ্যে কিছু টাকা খুইয়েছেন।
একদিন পরেই আমার এক শুভাকাঙ্খি ফোন করে জানালেন একই ধরণের ঘটনা তার সাথেও ঘটেছে। তাকে ফোন করার পরপরই ওই শুভাকাঙ্খি আমার কাছে পরামর্শ চাইলেন। আমিও তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। এ যাত্রায় হয়তো তিনি প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন। কিন্তু দেশে তো প্রতিদিন এরকম প্রতারণা চলছেই। প্রতিদিনই মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষের কাছে এধরণের অভিযোগ দিচ্ছে গ্রাহকরা। পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। থানা পুলিশের কাছেও এসব অভিযোগ নতুন নয়। তবে কেন থামছে না এধরনের প্রতারণা? প্রচলিত মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে তারা চাঁদা দাবি অথবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মানুষের সর্বনাশ করছে। এসব মোবাইল নাম্বারকে লক্ষ্য করে প্রতারকদের চিহ্নিত করা যায় না? অবশ্যই যায়, আইন শৃংখলা বাহিনী চাইলে মুহুর্তেই সম্ভব। কিন্তু কে কার জন্য কাঁদে বলুন!
ঈদে ঘরমুখো মানুষগুলোকে টার্গেট করে নানা রকম প্রতারণা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সাংবাদিকতার সুবাদে এসব খবর প্রায়ই দেখতে হয়, লিখতে হয়। টিকিট কালো বাজারী, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাই, টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজি, এটিএম কার্ড হ্যাকসহ কত রকম প্রতারণা যে চলছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। এসব প্রতারণা থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন লোভহীন মানসিকতা। রাস্তাঘাটে সতর্কতার সাথে চলাফেরা করা উচিত। মোবাইল ফোনে যেকোন ধরনের লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দেবেন না। তবে কষ্ট হয় এটা ভেবে যে, স্মার্ট ও শিক্ষিত ছেলে মেয়েরাই মোবাইলে প্রতারণার পেছনে কাজ করছে। আপাতত আমার অভিজ্ঞতা সেটাই বলে। তবে কি এটাই ভেবে নেবো যে, তারা পড়াশুনা করে শিক্ষিত হয়েছে সু-শিক্ষিত হয়নি?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




