somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসংগঃ আস্তিকের ধর্মকথা-১

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্মীয়, বৈষয়িক এবং সামাজিকতার প্রেক্ষিতে সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত উপলব্ধি, কারো সাথে মিল বা অমিলে কিছু আসে যায় না।


ধর্ম কি? সাধারনভাবে আমরা জানি, এলাকাভেদে পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এক বা একাধিক লৌকিক শক্তিকে অলৌকিক ক্ষমতা দান করে কল্পিত শক্তিকে/ব্যাক্তিকে উপাস্যভেবে নিয়ে অথবা বৈষয়িক নিয়ম-কানুনকে নির্দিষ্ট বেড়াজালে বেধে যে পূজনীয়/পালনীয় সামাজিক প্রথা চালু করে সেটাই ধর্ম। তবে ব্যাক্তি বা বস্তুভেদে এর বিভিন্নতা চোখে পড়ার মতো।

পৃথিবীতে ধর্মের উৎপত্তি এবং বিস্তার প্রাচীনকাল থেকেই। বিভিন্ন কল্পিত অলৌকিক ঘটনা, গোষ্ঠীর শীর্ষব্যাক্তির ক্ষমতা, যুদ্ধ বিজয়ী দল, সামাজিক নিপীড়িত জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ধর্মবিস্তারে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহায়তা করে।

অন্যান্য ধর্মের সাথে সাথে পৃথিবীর বড় একটি জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম পালন করে। এই ধর্ম আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই এবং মুহাম্মদকে তাঁর প্রেরীত রাসূল ধরে নিয়ে বিভিন্ন জাগতিক এবং পরজাগতিক ব্যাখ্যা, বিশ্লেষন এবং নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে পূর্নতা পেয়েছে। এইসব আমরা জানতে পারি কোরান, হাদীস, শরীয়া ইত্যাদির মাধমে।

মুসলমান’রা কোরান কে আল্লাহ’র প্রেরীত জীবনবিধান মেনে নিয়ে ইসলাম ধর্ম পালন করে থাকে। দাবী অনুযায়ী যা সম্পূর্নই মানুষের কল্যানে এবং উন্নতির জন্য ব্যাবহার করা হয়। তবে কোরানে অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে মুসলমান এবং অমুসলমানদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের শেষ আজ অব্দি নেই।

মুসলমানরা ইসলামের উৎপত্তির আগের সময়কে জাহলেয়াতের যুগ বলে থাকে। পৃথিবীর অন্য দুটি প্রধান ধর্ম ইহুদী এবং খ্রীষ্টান’রা কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলেনা। কারন ঐ সময়ে তারা তাদের ধর্ম প্রচার এবং পালন করতো। কোরানের দাবীকৃত নবীদের(মূসা, ঈসা) ধর্মপালনকারীদের যুগ ইসলামধর্মে কিভাবে অন্ধকার যুগ হয় এটা চিন্তার বিষয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, কাবায় ঐ সময়ে ৩৬০ টি মূর্তি ছিল। দিনে কয়েকবার কাবার দিকে মুখ করে উপাসনা হতো। বছরে একবার কাবাকে ঘিরে খুব বড় করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন হতো। কল্পিত অপশক্তিকে পাথর ছোড়া হতো। মাথা কামানো হতো। পশুবলী হতো। বাদ্যসহকারে ধর্মীয় গান-বাজনা বা কীর্তন হতো। এ থেকে বোঝা যায় কাবাকে ঘিরে আরবের ঐ অঞ্চলে ইহুদী বা খ্রীষ্টান ধর্মের বড় কোন প্রভাব পরেনি। বা পরলেও এলাকাভিত্তিক দেব-দেবী এবং ধর্মের আড়ালে তা চাপা পরে গিয়েছিল।

কাবার ঐ সব দেব-দেবীর মূর্তিদের মধ্যে হুবাল’ কে সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং বড় মনে করা হতো। শৈশবে ইসলামের রাসূল মুহাম্মদ, দাদা মুত্তালিবের সাথে হুবালের কাছে যেত। তবে আল্লাহ নামেও তাদের একজন উপাস্য ছিল (মুসলমানদের উপাস্য আল্লাহ নয়)। তাকে তারা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং মেঘনিয়ন্ত্রক বলে মনে করতো। ইসলামের রাসূল মুহাম্মদের বাবা আব্দুল্লাহও (অর্থঃ আল্লাহ’র চাকর) কিন্তু মুসলমানদের উপাস্য আল্লাহ’র চাকর নয়, ছিল মূর্তিপূজারীদের আল্লাহ’র চাকর। ঐ সময়েও এখনকার মতো নামের শেষে আল্লাহ জুড়ে দেওয়ার চল ছিল।

সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহ শব্দটি শুধু ইসলাম ধর্মে নয়, ইসলামের আগের যুগের মূর্তি পূজ়ারী, আরবীভাষী ইহূদী, খ্রীষ্টান এবং ইব্রাহীমের অনূসারীরাও ব্যাবহার করতো। তবে ধর্ম, ভাষা, আঞ্চলিকতা এবং উচ্চারনভেদে আল্লাহ নামের সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। যেমনঃ আল-ইলাহ, আল-লাহ, এলাহা, আলাহা, আলোহো, ইত্যাদি। শাব্দিকভাবে আল্লাহ এসেছে আল-ইলাহ শব্দ থেকে। ইলাহ বা ইলাহা শব্দ এসেছে আল-লাত থেকে।



ইসলাম পূর্ব যূগের আরবদের আল্লাহ (সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং মেঘনিয়ন্ত্রক) একা ছিল না। তার ছেলে এবং তিন মেয়ে ছিল। জ্বীন’কেও আল্লাহ’র সমান মনে করা হতো। আল্লাহ’র মেয়েদের নাম যথাক্রমে আল-উয্‌যা, লাত এবং মানাত। ছেলের ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। লাত ছিল আরবদের তিন প্রধান দেবীদের একজন। তাকে হুবাল’এর মা মনে করা হতো। মানাত ছিল ভাগ্যের দেবী। তাকে হুবাল’এর স্ত্রী মনে করা হতো। আল-উয্‌যা ছিল তিন প্রধান দেবীর শেষজন। মক্কার নিকটে আত-তাঈফে ছিল তার আলাদা মন্দির(কাবা)। ঐ সময়ে মক্কার কাবা ছিল মূলত হুবাল, আল-উয্‌যা, লাত এবং মানাত এর মন্দির।

কাবা কথার অর্থ বর্গাকার বা চৌকোনা। ভবনের আকারের ভিত্তিতে উপাসনালয়/মন্দিরের নাম হয়েছে কাবা(যেমনঃ মসজিদের গম্বুজ ষাটটি, তাই নাম ষাট গম্বুজ মসজিদ)। ঐ সময়ে আরবে তিনটি কাবা বা দেব-দেবীর উপাসনার স্থান ছিল। মক্কার কাবা কালো পাথরের, আরবের দক্ষিনাঞ্চলের ঘাইমান শহরের কাবা লাল পাথরের এবং তাবালা শহরের কাছে অবস্থিত ছিল সাদা পাথরের কাবা।

মহা ক্ষমতাধর হুবাল’কে চন্দ্রদেবতা বলে মনে করা হতো। তার প্রতীক ছিল সরু আকৃতির নতুন চাঁদ। তার মূর্তি ছিল মূল্যবান লাল পাথরের তৈরী। তবে ডান হাত ভাঙ্গা। তাই ক্ষমতাধর কোরাঈশ’রা তাদের ভক্তি দেখাতে স্বর্নের ডান হাত তৈরী করে দেয়। ইসলাম ধর্ম প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত হুবাল এবং তার তিন মেয়েরা অনেক ক্ষমতার সাথে মক্কার কাবায় কোরাঈশ এবং অন্যান্য আরব গোত্রের দ্বারা উপাস্য হতে থাকে।


চলবে…
১৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×