somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাভাষা কি সংস্কৃতের দুহিতা?

১০ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাভাষা কি সংস্কৃতের দুহিতা?
শিশির ভট্টাচার্য্য

এ তর্ক বহুদিনের পুরোনো। বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতের দুহিতা জেনে অনেকে গৌরব বোধ করেন। অনেকের আবার এ ধরনের জন্মগত সম্পর্ক মেনে নিতে রয়েছে প্রবল আপত্তি। এ তর্ক নতুন করে শুরু করার আগে আসুন আমরা আলোচনা করে ঠিক করি, ‘বাংলা ভাষা’ বা ‘সংস্কৃত ভাষা’ বলতে আমরা কি বুঝবো? ‘বাংলা ভাষা’’র দু’টি সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব। ভারতের বিহার, আসাম থেকে শুরু করে বঙ্গ (অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ), বাংলাদেশ রাষ্ট্র, ও বার্মার আরাকান অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে সর্বজনবোধ্য যে মান উপভাষাটি আছে যাকে সাধারণভাবে ‘মান চলিত বাংলা’ বলা হয় সেটাকে ‘বাংলা’ বলা যেতে পারে। এ ছাড়া এ অঞ্চলে প্রচলিত বিশেষ কিছু ইন্দো-আর্য্য উপভাষার (যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, মেদিনীপুর, বীরভূম অঞ্চলে প্রচলিত উপভাষা) সমষ্টিকেও ‘বাংলা ভাষা’ বলা যেতে পারে। ইংরেজি, ফরাসি ইত্যাদি সব ভাষার ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারটা আছে। তবে ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে ইংরেজি বা ফরাসির মতো ভাষার ক্ষেত্রে একাধিক মান ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে (যেমন, যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রে আলাদা আলাদা মান ইংরেজি রয়েছে, ফ্রান্স আর কানাডার কুইবেকে রয়েছে আলাদা আলাদা মান ফরাসি)। সুতরাং ‘ইংরেজি’ বা ‘ফরাসি’ বলতে বোঝাবে সেই মান ভাষাগুলোর যে কোন একটিকে, বা একসঙ্গে ইংরেজি বা ফরাসির সবগুলো উপভাষাকে। মোটকথা, বর্তমান পৃথিবীতে ‘ভাষা’ কথাটির অন্ততপক্ষে দু’টি আলাদা অর্থ রয়েছে: ১. সর্বজনবোধ্য মান উপভাষা, এবং ২. সবগুলো উপভাষার সমষ্টি। সুতরাং ১. ‘বাংলা’ বলতে সর্বজনবোধ্য মান বাংলাকে বোঝাতে পারে আবার ২. সবগুলো আঞ্চলিক বাংলা সমষ্টিকেও ‘বাংলা’ বলা যেতে পারে।

ভারতবর্ষ বা দক্ষিণ এশিয়ায় ভাষাগুলোর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে ভাষাতাত্ত্বিকেরা পাঁচটি পর্বে বিভক্ত করে থাকেন। প্রথম পর্বে খ্রীষ্টপূর্ব ১৫০০ সাল বা তার কিছু আগে বৈদিক ভাষা, দ্বিতীয় পর্বে খ্রীষ্টপূর্ব ১০০০ সালের দিকে সংস্কৃত ভাষা, তৃতীয় পর্বে খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সালের দিকে (যখন বুদ্ধদেব ধর্ম প্রচার করছিলেন) বিভিন্ন প্রাকৃত ও প্রাকৃতের অপভ্রংশ, চতুর্থ পর্বে খ্রীষ্টীয় ৭০০ সালের দিকে বাংলা, মারাঠী, হিন্দি ইত্যাদি আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলোর প্রাচীন রূপ এবং অবশেষে পঞ্চম পর্বে খ্রীষ্টীয় ১৪০০ সালের দিকে এই ভাষাগুলোর প্রাগ-আধুনিক রূপ। এই পাঁচটি পর্বের কালবিভাগ নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু এদের অনুক্রম (অর্থাৎ কোনটি আগে আর কোনটি পরে) নিয়ে বিতর্কের তেমন অবকাশ নেই। বৈদিক ভাষায় প্রথম ইন্দোইয়োরোপীয় কাব্য/ধর্ম গ্রন্থ বেদ রচিত হয়েছিল। সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিল রামায়ণ ও মহাভারত (যাতে অন্তর্ভুক্ত আছে হিন্দুদের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ গীতা) এই দুই মহাকাব্য। জৈন ধর্মের অনেক গ্রন্থ ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক প্রাকৃত পালি ভাষায় লেখা। প্রাচীন বাংলার উদাহরণ চর্যাপদ (আনুমানিক ৭ম খ্রীষ্টাব্দ), প্রাগ-আধুনিক বাংলার উদাহরণ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (আনুমানিক চতুর্দশ শতক)।
আমাদের যুগে যেমন একটি মান বাংলা বা মান হিন্দি রয়েছে এবং রয়েছে বহু সংখ্যক উপভাষা, উপরের চারটি ভাষা-পর্বেও নিশ্চয়ই এক বা একাধিক মান ভাষা ছিল এবং তার সাথে বহু সংখ্যক উপভাষাও ছিল। কোন উপভাষাটি মান ভাষা হবে, যেমন, খুলনা-যশোর-কলিকাতা অঞ্চলের উপভাষাটি কেন মান বাংলা হিসেবে গৃহীত হলো, চট্টগ্রামি বা সিলেটি কেন সে আসন পেলো না তা নির্ধারণের পেছনে বিভিন্ন ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক-সামাজিক কারণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আজ থেকে দুই হাজার বছর আগেও মান ভাষা নির্ধারণে এ ধরণের কারণগুলোই নিয়ামক হিসেবে কাজ করতো বলে মোটামুটিভাবে ধরে নেয়া যেতে পারে। মান ভাষাতেই সাধারণত সাহিত্য রচিত হতো। কোন এক সময় সেসব সাহিত্য লিখিত হয়েছিল বলে মানভাষার রূপটি কেমন ছিল তা আমরা এতদিন পরেও জানতে পারছি। কিন্তু সে যুগের উপভাষাগুলো কেমন ছিল সে ব্যাপারে আমরা বিশদ জানি না। আজকের যুগের উপভাষাগুলোর স্বরূপও সম্ভবত আজ থেকে শ’ পাঁচেক পরে আর জানা যাবে না কারণ উপভাষাগুলোর কোন লিখিত রূপ থাকে না। আমাদের ভাগ্য ভালো যে সংস্কৃত নাটকগুলোতে, যেমন ভাস রচিত ‘মৃচ্ছকটিক’ (অর্থাৎ ‘মৃৎ-শকটীকা’ বা ‘মাটির ছোট খেলনা গাড়ি’) বা কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকে নাট্যকারেরা সাধারণ লোকজনের মুখে বিভিন্ন প্রাকৃত-অপভ্রংশ সংলাপ জুড়ে দিয়েছিলেন, অনেকটা বাংলাদেশের নাট্যকার আনিসুল হক বা চিত্রনির্মাতা সারোয়ার ফারুকীর মতো যাঁদের নাটকের চরিত্রেরা বাস্তব জগতের মানুষের মতোই ভাষা ব্যবহার করে (যা অনেক দর্শক-শ্রোতার পছন্দ নয় যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বীতরাগের কোন ভিত্তি দেখি না)। সুতরাং উচ্চবর্গের মানুষ সংস্কৃত ভাষায় কথা বললেও সাধারণ লোকজন প্রাকৃত-অপভ্রংশেই মনের ভাব প্রকাশ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন। শিক্ষিত লোকজন সংস্কৃত ও প্রাকৃত এই উভয় ভাষাই জানতেন এবং প্রয়োজনে যে কোন একটি ভাষা ব্যবহার করতেন অনেকটা আমরা যেমন মান বাংলা আর আঞ্চলিক বাংলা এই দুই ভাষাই ব্যবহার করে থাকি বা করতে পারি। মহাভারতে লিখিত আছে যে বারণাবত নগরে গমনোদ্যত যুধিষ্ঠীরকে তার কাকা বিদুর প্রাকৃত ভাষায় গোপন উপদেশ দিয়েছিলেন যাতে আশেপাশের সংস্কৃতভাষী আত্মীয়স্বজন তাঁর বক্তব্য সম্যক বুঝতে না পারেন।

প্রাকৃত ভাষার যুগেও সাহিত্যের ভাষা ও শিক্ষিত জনের ভাবপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সংস্কৃতের ব্যবহার ছিল। খ্রীষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে রচিত কালিদাসের কাব্য ও নাটকের ভাষা সংস্কৃত। খ্রীষ্টপূর্ব ১০০০ থেকে শুরু করে খ্রীষ্টীয় ১৮০০ সালের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত সংস্কৃত ছিল ভারতবর্ষে জ্ঞানচর্চার অন্যতম মাধ্যম বা ‘লিঙ্গুয়া একাডেমিকা’ (আজকের যুগে যেমন ইংরেজি)। বুদ্ধদেব সংস্কৃত ভাষাতেই লেখাপড়া শিখেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য হবে বলে বুদ্ধদেব কোন একটি প্রাকৃত ভাষায় ধর্মপ্রচার করেছেন। মান ভাষা হিসেবে সংস্কৃত দীর্ঘজীবী হয়েছিল। ভাষার ইতিহাসে ল্যাটিন আর হিব্রু এ রকম দীর্ঘ জীবন পেয়েছে, আরবিও পেতে যাচ্ছে। এই ভাষাগুলোর দীর্ঘজীবনের একটি প্রধান কারণ এই যে এগুলোর প্রত্যেকটিই কোনও না কোন ধর্মের ভাষা।

ভাষা কাকে বলে? শব্দকোষ (অর্থাৎ কোন ভাষার যাবতীয় শব্দের সমষ্টি) আর ব্যাকরণ এই দু’য়ে মিলে হচ্ছে ভাষা। ব্যাকরণের দু’টি অংশ ১. শব্দগঠনের নিয়ম (যার পোষাকী নাম ‘রূপতত্ত্ব’) আর ২. বাক্যগঠনের নিয়ম (যার পোষাকী নাম ‘বাক্যতত্ত্ব’)। বৈদিক ও সংস্কৃতের মধ্যে শব্দকোষগত মিল রয়েছে অর্থাৎ সংস্কৃতের সিংহভাগ শব্দ বৈদিক ভাষায় খুঁজে পাওয়া যাবে। এই দুই ভাষার মধ্যে ব্যাকরণগত মিলও রয়েছে অর্থাৎ এই দুই ভাষার শব্দগঠন ও বাক্যগঠনের নিয়মের মধ্যে প্রচূর সাদৃশ্য রয়েছে। এর মানে কি এই যে বৈদিক থেকেই সংস্কৃতের উৎপত্তি? এর উত্তর ‘হ্যাঁ’ হবে যদি ‘বৈদিক’ বলতে আমরা বৈদিক যুগের মান উপভাষাসহ সবগুলো উপভাষার সমষ্টিকে বোঝাই। খ্রীষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে আজকের আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চলে প্রচলিত কোন একটি উপভাষার বিবর্তিত রূপই খ্রীষ্টপূর্ব ১০০০ সালে মান ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়। সেই মান ভাষাটি হচ্ছে সংস্কৃত। খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০ সালের দিকে পূর্ববর্তি যুগের বৈয়াকরণদের অনুসরণে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের অধিবাসী পাণিনি সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন (পাণিনির গ্রামের নাম ছিল ‘শালাতুর’। কারও কারও মতে গ্রামটি পাঞ্জাবের শিয়ালকোট অঞ্চলের অন্তর্গত)। পাণিনির ব্যাকরণটির নাম ‘অষ্টাধ্যায়ী’ অর্থাৎ যাতে সর্বমোট আটটি অধ্যায় রয়েছে। একই সঙ্গে এত সংক্ষিপ্ত এবং এত পূর্ণাঙ্গ কোন ব্যাকরণ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি, সে সংস্কৃতেরই হোক বা অন্য কোন ভাষারই হোক। আজকের পাকিস্তান-আফগানিস্তান অঞ্চলে জ্ঞানচর্চার জীর্ণদশা দেখে মনে হয়, লক্ষ্মীর মতো সরস্বতীও চির-চঞ্চলা, তাঁর শ্বেতপদ্ম যুগ যুগ ধরে এক জলাশয়ে প্রস্ফুটিত হয় না।
পাণিনি বলেছেন, সংস্কৃতেরও বিভিন্ন রকমফের ছিল যেমনটি আছে আজকের মান বাংলার পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি আর বাংলাদেশের বাঙালি এক মান ভাষা ব্যবহার করে না। এখন, ‘বৈদিক’ বলতে আমরা যদি ভাষা-সমষ্টি না বুঝিয়ে বেদ রচিত হয়েছে যে মান উপভাষায় শুধু সেটিকে বোঝাই তবে কিন্তু বলা যাবে না যে সংস্কৃতের উৎপত্তি হয়েছে ঠিক সেই ভাষাটি থেকেই। চর্যাপদের যুগে যদি কোন মান বাংলা থেকে থাকে (‘যদি’ বলছি কারণ সে ভাষার কোন লিখিত নিদর্শন আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি) তবে ঠিক সেই উপভাষাটি বিবর্তিত হয়ে আজকের মান উপভাষাটি (যে ভাষায় বর্তমান প্রবন্ধ রচিত হয়েছে) সৃষ্টি হয়েছে এরকম বলাও যুক্তিযুক্ত হবে না। তবে চর্যাপদের যুগে ব্যবহৃত অনেক উপভাষার কোন একটি বিবর্তিত হয়ে অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকের কলিকাতা অঞ্চলে ব্যবহৃত উপভাষাটি অর্থাৎ আজকের মান বাংলা সৃষ্টি হয়েছে এ দাবি মোটামুটিভাবে মেনে নেওয়া যেতে পারে। সুতরাং বৈদিক যুগের কোন একটি উপভাষা থেকে সংস্কৃত, সংস্কৃত যুগের বিভিন্ন উপভাষা থেকে বিভিন্ন মান প্রাকৃত, প্রাকৃত-অপভ্রংশ যুগের বিভিন্ন উপভাষার একটি: ‘মাগধী প্রাকৃত’ (সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে) বা ‘গৌড়ী প্রাকৃত’ (মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে) থেকে প্রাচীন মান বাংলা, প্রাচীন বাংলাযুগের কোন একটি উপভাষা থেকে আধুনিক মান বাংলার সৃষ্টি হয়েছে  এ রকম ধারণা অমূলক নয়।

ফিরে আসি দু’টি ভাষার মধ্যে শব্দকোষগত ও ব্যাকরণগত সাদৃশ্যের প্রসঙ্গে। চট্টগ্রামি উপভাষা ও মান বাংলার মধ্যে ব্যাকরণগত ও শব্দকোষগত মিল রয়েছে। বর্তমানে গণমাধ্যমের সর্বব্যাপীতার কারণে শব্দকোষগত এই মিল দিনদিন বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে আরাকানের রোহিঙ্গাদের কাছে চট্টগ্রামি ভাষার বোধগম্যতা চল্লিশ বছর আগে যা ছিল তার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে, কারণ চট্টগ্রামি-ভাষীরা ইদানিং বহু মান বাংলা শব্দ ব্যবহার করছেন তাদের কথাবার্তায়, যেমন, ‘প্রশ্ন’, ‘আবেদন’, ‘পরিকল্পনা’... যেগুলো রোহিঙ্গাদের শব্দকোষে নেই। প্রশ্ন হতে পারে চট্টগ্রামি উপভাষার উৎপত্তি কি মান বাংলা থেকে? অবশ্যই না। চট্টগ্রামি ও মানবাংলা এই উভয় উপভাষার উৎপত্তি চর্যাপদের যুগ বা পরবর্তি কোন যুগে প্রচলিত আলাদা দুটি উপভাষা থেকে। সেই দু’টি উপভাষার মধ্যে শব্দকোষগত ও ব্যাকরণগত মিল ছিল। সেই মিলের কারণেই মান বাংলা আর চট্টগ্রামির মধ্যে শব্দকোষগত ও ব্যাকরণগত মিল রয়েছে। মিল আছে রোহিঙ্গা আর চট্টগ্রামির মধ্যেও। কোন একদিন যদি রোহিঙ্গা মানভাষা হিসেবে স্বীকৃত হয় চট্টগ্রাম-আরাকান অঞ্চলে তবে তখন এ কথা বলা যাবে না যে চট্টগ্রামি থেকে সেই মান রোহিঙ্গার সৃষ্টি। এই অঞ্চলে প্রচলিত আজকের কোন একটি উপভাষা থেকেই সেই ভাষাটির সৃষ্টি হবে।

সাধারণভাবে এ কথা মেনে নেওয়া হয় যে ইরাণ থেকে আর্যভাষীরা এসে আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। বলা বাহুল্য, তারা সবাই এক সাথে আসেনি। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন দলে তারা এসেছে। সুতরাং তাদের ভাষার মধ্যে মিল থাকলেও তাদের একদল অন্য দলের ভাষা বুঝতে পারার কথা নয় যেমন আমরা বাংলাভাষীরা পাঞ্জাবি ভাষা বুঝতে পারি না। অথচ বাংলা ও পাঞ্জাবির মধ্যেও শব্দকোষগত ও ব্যাকরণগত মিল আছে। মিল রয়েছে চট্টগ্রামী আর বৈদিকের মধ্যেও। প্রশ্ন হতে পারে এই সাদৃশ্যের কারণ কি? ধরা যাক, প্রশ্নটি রাখা হলো লাহোরের কিসসা বাজারের এক বুজুর্গ গল্প-বলিয়ের কাছে। সম্মানীর রুপিগুলো কুর্তার বুক পকেটের গভীরে চালান করে দিয়ে বুজুর্গ গড়গড়ি হুকোয় লম্বা এক টান দিলেন এবং তারপর নিজের সফেদ লম্বা দাড়িতে বার কয়েক হাত বুলিয়ে শুরু করলেন ততোধিক ‘লম্বী’ এক ‘কাহানী’। ধরুন, আমার বাপদাদার বাপদাদার বাপদাদা ... আপনারা এলেমদার লোকেরা যাদের ‘আর্য্য’ বা ‘আর্য্যভাষাভাষী’ বলে থাকেন তাদের একটি দল ইরান থেকে আজকের আফগানিস্তানে এসে বসতি স্থাপন করলো। দলটির সদস্যরা একটি বিশেষ আর্য্য উপভাষায় কথা বলতো। উপভাষাটির নাম দেয়া যাক আর্য্য-১। এর পর কেটে গেল শ’ দুয়েক বছর। আর্যরা যেহেতু পশুপালক জাতি, সেহেতু এক জায়গায় বেশিদিন থাকলে সেখানে পশু-খাদ্যের ঘাটতি পড়তো (এছাড়া যুদ্ধ-বিগ্রহ-মহামারীসহ দেশত্যাগের হাজার একটা কারণতো ছিলই)। যে কোন কারণেই হোক, আর্য্য-১ ভাষীদের একটি দল কোন এক শুভ বা অশুভ ক্ষণে আজকের পাকিস্তানের দিকে রওয়ানা হলো।

পাকিস্তানে এসে কাটিয়ে দিল তারা শ’ তিনেক বছর। এই তিনশ বছরে তাদের ভাষার পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তিত এই ভাষাটির নাম দেয়া যাক আর্য্য-২। এর পর কেটে গেল আরও দুই শ বছর। এত বছর কেটে যাওয়ার পরও আর্য্য-১ ও আর্য্য-২ এর মধ্যে শব্দকোষগত ও ব্যাকরণগত কিছু মিল থাকবেই কারণ আর্য্য-১ থেকেই আর্য্য-২ ভাষার সৃষ্টি। আমরা শুধু উদাহরণ দেবার জন্যে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের উল্লেখ করছি না। বৈদিক বা সংস্কৃত যাদের মাতৃভাষা ছিল তাদের উত্তর পুরুষেরাই এখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বসবাস করছেন। চিনা পরিব্রাজক হিউ-এন-সাং যখন ষষ্ট শতকে ভারতভ্রমণে আসেন তখন আফগানিস্তানের জনসংখ্যার অর্ধেক ছিল হিন্দু, আর বাকি অর্ধেক বৌদ্ধ। এছাড়া তুর্কি বৌদ্ধ (তুর্কিদের বেশির ভাগই এক সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন), জরথুস্তপন্থী, প্রকৃতিবাদী, এমনকি ইহুদিরাও ছিলেন সেখানে। ৭ম শতকে আফগানিস্তান আরবদের করতলগত হয়, কিন্তু তারা বার বার বিদ্রোহ করে এবং অবশেষে গজনীর সুলতান মাহমুদের (৯৭১-১০৩০) আমলে আফগানরা বশ্যতা স্বীকার করে শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হয়। যতদূর মনে পড়ে, আলবেরুনী তাঁর ভারততত্ত্বে লিখেছেন, সুলতান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে আফগানরা যেসব শর্তে বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: ১. তাঁরা গোমাংস খাবেন না; ২. আফগান মহিলাদের বেইজ্জত করা যাবে না, এবং ৩. তাদের দেবমূর্তির অপমান করা যাবে না। সুলতান মাহমুদ প্রথম ও দ্বিতীয় শর্ত কতটা মেনেছিলেন তা আলবেরুনী বলেননি, তবে বিখ্যাত একটি পাথরের দেবমূর্তিকে তিন খ- করে তিনটি মসজিদের সামনে রাখা হয়েছিল যার উপর মুসল্লীরা নামাজের আগে হাত-পা ধুয়ে অজু করতেন। সুলতান মাহমুদের এই আচরণ আলবেরুণীকে মর্মাহত করেছিল কারণ ঐ একই ‘বর্বর’ আলবেরুনীর মাতৃভূমিকেও তার সৈন্যবাহিনীর ‘ঘোড়ার খুড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন’ করেছিল। (তবে ভুলে গেলে চলবে না যে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-ইহুদী... প্রত্যেক জনগোষ্ঠীই ইতিহাসের বিভিন্ন মোড়ে অত্যাচারের রেকর্ড বহুবার ভঙ্গ করেছে। উপমহাদেশে এখন শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছেন। ভারতের বাকি বৌদ্ধরা হয় ধর্মান্তরিত হয়েছেন নয়তো দেহান্তরিত হয়েছেন ‘বহুত্ববাদী’ হিন্দুদের হাতে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে চীনের নানকিঙে ‘শান্তিকামী’ বৌদ্ধ জাপানিদের বর্বর নির্যাতনের কাহিনী সুবিদিত। যীশুর ‘প্রেমবাদী’ জার্মান খ্রীস্টানরা মাত্র কয়েক দশক আগেই ইহুদিদের পুড়িয়ে মেরেছেন। আবার সেই ইহুদীদের হাতেই অত্যাচারিত হচ্ছে প্যালেস্টাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠী)। যাই হোক, হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ-উপনিষদ রচনার গৌরব পাঠান-পাঞ্জাবিদের পূর্বপুরুষদেরই প্রাপ্য। যেহেতু ঘটনাক্রমে পাঠানদের প্রায় সবাই এবং পাঞ্জাবিদের একটি বৃহৎ অংশ আজ মুসলমান সেহেতু হিন্দু-বৌদ্ধ যুগের গৌরবে বা অপমানে তাদের কিছু যায় আসে না। তালেবান আমলে বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস এই মানসিকতার ছোট্ট একটি উদাহরণ মাত্র।

ফিরে আসি আর্য ভাষার বিবর্তনের কাহিনীতে। ইতিমধ্যে আর্য্য-২ ভাষার আরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এ ভাষায় বেশির ভাগ শব্দের উচ্চারণভঙ্গী বদলে গেছে, শব্দগঠন ও বাক্যগঠনের নিয়মেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই সব পরিবর্তনের বহুবিধ কারণ রয়েছে। একটি কারণ হচ্ছে ‘ভাষা-সংযোগ’ (ল্যাঙ্গুয়েজ কনটাক্ট)। কেন হয় এই ভাষা-সংযোগ? আর্য্য-১ ভাষীরা যখন পাকিস্তানে এসে বসতি স্থাপন করেছিল তখন সে জায়গাটা খালি পড়ে ছিল এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। সেখানে তখন অনার্য্য-১ ভাষীরা বসবাস করছিল এবং তারা নিশ্চয়ই আর্য্য-১ ভাষীদের পাদ্য-অর্ঘ্য দিয়ে আপ্যায়ণ করেনি। দুই দলে যুদ্ধ হয়েছিল এবং যুদ্ধে অনার্য্য-১ ভাষীরা হেরেও গিয়ে থাকবে (কারণ তা না হলে আর্য্যভাষীরা সুদূর বাঙালমুলুক পার হয়ে বার্মার আরাকান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতো না!)। ধারণা করা যেতে পারে যে হেরে যাওয়া অনার্য্যভাষীদের বেশির ভাগকেই হত্যা করা হয়েছিল আর বাকিরা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই আর্য্য-১ ভাষীদের বশ্যতাস্বীকার করেছিল। মহিলাদের অনেকেরই স্থান হয়েছিল আর্য্য-১ ভাষীদের অন্তপুরে। বশ্যতাস্বীকৃত অনার্য্য পুরুষ ও মহিলারা আর্য-১ ভাষা শিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সে যুগে না ছিল ব্রিটিশ কাউন্সিল, না ছিল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ। লোকজন যে যেভাবে পারতো পরভাষা শিখে নিতো, শেখানোর কোন সরকারি ব্যবস্থা ছিল না। অনার্য্যভাষীদের পক্ষে আর্য্যভাষার ব্যাকরণ সবটা জানা বা মানা সম্ভব ছিল না। তারা কোনমতে আর্য-১ ভাষার শব্দকোষ আয়ত্ব করতো এবং অনার্যভাষার শব্দ ও বাক্যগঠনের কিছু কিছু নিয়ম প্রয়োগ করতো সেই শব্দকোষের উপরে। মোটকথা অনার্য্য ভাষার কঙ্কালের উপর আর্যভাষার মাংস-চামড়া লাগিয়ে কিম্ভূত-কিমাকার একটি ভাষা সৃষ্টি করতো তারা নেহায়েৎ কাজ চালিয়ে নেবার জন্যে। এ ধরণের ভাষার নাম ‘পিজিন’ (ইংরেজি ‘বিজনেস’ শব্দ থেকে এ শব্দের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়) যাকে আমরা বাংলায় বলতে পারি ‘অর্বাচিন’। যেখানেই দুই ভাষার সংযোগ হয়েছে সেখানেই যুগে যুগে দেশে অর্বাচিনের সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক সময় অর্থনৈতিক কারণে একই স্থানে বহু ভিন্ন ভাষাভাষী লোকের বসবাস শুরু হলে সেখানেও অর্বাচিন ভাষার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ রকম ঘটনা ঘটেছে হাইতি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এলাকায়। এ সব জায়গায় ফরাসি অর্বাচিন রয়েছে, রয়েছে ইংরেজি অর্বাচিন।

আর্যপ্রভূরা অর্বাচিন ভাষা বুঝতে পারতেন কারণ তাঁদের পরিচিত সব শব্দই সে ভাষায় ব্যবহৃত হতো। এ রকম না হয়ে উপায় নেই কারণ প্রভুর সাথে যোগাযোগ করার জন্যেই তো অর্বাচিনের সৃষ্টি হয়। দাস যেহেতু প্রভূর ভাষার ব্যাকরণ জানে না সেহেতু নিজের ভাষার ব্যাকরণই সে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। প্রভুর শব্দ আর দাসের ব্যাকরণ এই দুয়ে মিলে অর্বাচিন। অনার্য্যরা নিজেদের মধ্যে অনার্য্য-১ ভাষা বলতো আর প্রভূর সাথে অর্বাচিন। রাস্তাঘাটে, কাজে-কারবারে যেখানেই প্রভূ আর দাসের পারস্পরিক যোগাযোগ সেখানেই অর্বাচিন। প্রভূ নিজেও দাসদের সাথে বা অনার্য স্ত্রীর সাথে অর্বাচিন বলতে বাধ্য হতো কারণ অন্যথায় ‘কাম’ (উভয়ার্থে) চলে না। এভাবে চললো বেশ কিছু দিন। এক সময় এমন একটা প্রজন্ম সৃষ্টি হলো ছোটবেলা থেকে যারা শুধু অর্বাচিনই শিখলো। তারা আর্য্য-১ আর অনার্য্য-১ ভাষা বাবা-মা বা অন্যদের মুখে শুনে বুঝতে পারলেও বলতে পারতো না। প্রজন্মান্তরে সেই বোধগম্যতাটুকুও রইল না একদিন। যখন থেকে কোন অর্বাচিন মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে তখন থেকেই তা আর অর্বাচিন থাকে না। তার নাম হয় তখন ‘ক্রিয়ল’ বা ‘ক্রেয়ল’ যাকে আমরা বাংলায় বলবো ‘অপভ্রংশ’। প্রাক্তন প্রভূর শব্দকোষের অনেকখানি ও ব্যাকরণের কিছুটা আর প্রাক্তন দাসের ব্যাকরণের বেশ কিছুটা ও শব্দকোষের কিছুটা  এই দুয়ে মিলে অপভ্রংশ।

কিসসা বাজারের বুজুর্গ অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ। মুখে গড়গড়ার নলটা নিয়েই তিনি ঘুমিয়েই পড়লেন নাকি! যাক, তিনি ঘুমোলে ক্ষতি নেই কোন। আলোচনার যে ‘আলো’-টুকু তিনি দিয়ে গেছেন, তা দিয়ে ‘চনা’-টুকুর ব্যবস্থা আমরা নিজেরাই করতে পারবো। যে অর্বাচিনের কথা বলছিলেন বুজুর্গ তাকে ঠিক ভাষা বলা যাবে না, এটি নিছকই একটি কাজ চালানো গোছের যোগাযোগ মাধ্যম। অপভ্রংশ কিন্তু একটি ভাষা। বাংলা, ইংরেজি, ফরাসির মতোই একটি ভাষা। অপভ্রংশের ব্যাকরণের সাথে আর্য-১ ও অনার্য-১ এর ব্যাকরণের মিল থাকলেও অপভ্রংশের ব্যাকরণের অনেকখানিই এর নিজস্ব। কোথা থেকে আসে ব্যাকরণের এই সব নতুন নিয়ম? এর একটি উত্তর চমস্কি দিতে চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ একটি ভাষা-অঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। মানবমস্তিস্কের ভাষা-অঙ্গে রয়েছে একটি ‘বিশ্বব্যাকরণ’ যাতে পৃথিবীর সব ভাষার ব্যাকরণগুলোই রয়েছে। মানব শিশু যে ভাষাপরিবেশে বড় হয় তার বিভিন্ন উপাত্ত অনুসারে বিশ্বব্যাকরণের বিভিন্ন নিয়ম ক্রিয়াশীল হয়, বাকি নিয়মগুলো চলে যায় বিস্মৃতির অতলে। যেহেতু আর্য-১, অনার্য-১ ও অর্বাচিন ভাষাপরিবেশের উপাত্ত আলাদা সেহেতু এসব ভাষাভাষী শিশুর ভাষাঅঙ্গে আলাদা আলাদা ব্যাকরণ ক্রিয়াশীল হয়। বলা বাহুল্য, বিজ্ঞানের জগতে শেষ প্রশ্ন বা শেষ উত্তর বলে কিছু নেই এবং অনেক ভাষাবিজ্ঞানীই চমস্কির সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।

বাংলা-ইংরেজি-ফরাসি-জাপানি... সব ভাষাই অর্বাচিন আর অপভ্রংশ পর্যায় পার হয়েছে কোন না কোন সময়ে। ইংরেজির সিংহভাগ শব্দ এসেছে ফরাসি প্রভুর শব্দকোষ থেকে। ফরাসির বেশির ভাগ শব্দ এসেছে ল্যাটিন থেকে। জাপানির অনেক শব্দ এসেছে চিনা ভাষা থেকে। যে ভাষা থেকে শব্দ আসে সে ভাষাকে বলা হয় ‘সুপারস্ট্রাট’ বা ‘উত্তমর্ণ’ ভাষা। যে ভাষা অন্য ভাষা থেকে শব্দ ঋণ গ্রহণ করে তাকে বলা হয় ‘সাবস্ট্র্যাট’ বা ‘অধমর্ণ’ ভাষা। অনেক সময় এমনও হতে পারে যে দু’টি ভাষা পরস্পরের কাছ থেকে শব্দ ধার করছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যেমন, ধরা যাক, এ দু’টি ভাষার প্রথমটিতে দর্শনের শব্দের অভাব আছে, আর অন্যটিতে অভাব রয়েছে জ্যোতির্বিদ্যার শব্দের। ভাষা দু’টি পরস্পরের কাছ থেকে এ দু’টি বিষয়ের শব্দ ঋণ নিতে পারে। এ ধরণের ভাষাকে বলা হয় পরস্পরের ‘অ্যাডস্ট্র্যাট’ যাকে আমরা বাংলায় ‘সহমর্ণ’ ভাষা বলতে পারি।

পাণিনি থেকে শুরু করে এ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বৈয়াকরণদের কাছে ‘ভাষা’ ছিল ‘শব্দের সমষ্টি’ আর ব্যাকরণ বলতে তাঁরা বুঝতেন ‘শব্দ তৈরির নিয়মের সমষ্টি’ অর্থাৎ রূপতত্ত্ব। তাঁদের ধারণা সত্যি হলে ইংরেজি হবে ফরাসির অপভ্রংশ কারণ ইংরেজির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শব্দের উৎস ফরাসি। একই ভাবে, ফরাসি হবে ল্যাটিনের অপভ্রংশ। জাপানি হবে চিনার অপভ্রংশ। মজা করার জন্যে অনেকে ফরাসি ভাষাকে ‘খারাপ ল্যাটিন’ বলে থাকেন বটে কিন্তু যুক্তিসঙ্গত আলোচনার প্রশ্ন আসলে এ কথা কেউই বলবেন না যে ল্যাটিন আর ফরাসি একই ভাষা। প্রশ্ন হতে পারে: এই দুই ভাষার পার্থক্যটা ঠিক তাহলে কোথায়? পার্থক্যটা হচ্ছে এই যে এই দুই ভাষার ব্যাকরণ আলাদা। ব্যাকরণের সংজ্ঞাও বদলে গেছে পঞ্চাশের দশকে যখন সঞ্জননী ব্যাকরণ প্রবর্তন করেন চমস্কি। সঞ্জননী বৈয়াকরণদের মতে বাক্যগঠনের নিয়মই ব্যাকরণ। শব্দগঠনের নিয়ম সেই ব্যাকরণের একটি উপবিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ফরাসি, ইংরেজি, চিনা, ল্যাটিন, জাপানি বাক্যগঠনের নিয়ম আলাদা বলেই এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ভাষা।

ফরাসি ভাষাকেও ল্যাটিনের দুহিতা বলা হয়। একটা ব্যাপার খেয়াল করুন, কেউ কিন্তু বলেন না জার্মান বা ইংরেজি ল্যাটিনের দুহিতা। এর কারণ ল্যাটিনের সাথে ফরাসি (এবং স্পেনিশ, ইতালিয়ান ও রুমানিয়ান) ভাষার যে সম্পর্ক তা যে জার্মান বা ইংরেজির সাথে ল্যাটিন ভাষার যে সম্পর্ক তার চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ঘনিষ্ট তা কেউই অস্বীকার করেন না। ইংরেজি আর জার্মানের মধ্যে যে সম্পর্ক তা যে ফরাসি আর ইংরেজির মধ্যেকার যে সম্পর্ক তার তুলনায় গভীরতর সে সম্পর্কেও সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রশ্ন হতে পারে, এই সব সম্পর্কের ভিত্তি কি? ভিত্তি প্রধানত শব্দকোষগত। ইংরেজি আর জার্মানের মধ্যে শব্দকোষ আর রূপতাত্ত্বিক নিয়মের মিল আছে এবং সেই নিয়মের ভিত্তিতেই এ দু’টি ভাষাকে একই জার্মানিক উপগোষ্ঠীর সদস্য বলে মনে করা হয়। ফরাসি, স্পেনিশ, ইতালিয়ান আর রুমানিয়ানের মধ্যেও শব্দকোষগত এবং রূপতাত্ত্বিক নিয়মের মিল আছে বলে তাদের একই ল্যাটিন বা রোমান ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য বা পরস্পরের ভগ্নীভাষা হিসেবে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মিলের ভিত্তিতেই ফরাসি ল্যাটিনের দুহিতা, ইংরেজি প্রতœজার্মানের দুহিতা। কিন্তু বাক্যবিন্যাসের দিক থেকে যদি দেখা হয় তবে কোন ভাষাই অন্য কোন ভাষার দুহিতা হতে পারে না, বাংলাও এর ব্যাতিক্রম নয়।

প্রতিটি ভাষা বহতা নদীর মতো। বিরামহীনভাবে অন্য ভাষার উপাদান এসে মিশছে প্রতিটি ভাষায়। বেশির ভাগ শিক্ষিত বাঙালির বাচন বা আজকালকার বেসরকারি বেতার সম্প্রচারগুলো শুনলে দেখবেন বাংলা ব্যাকরণে ইংরেজি শব্দ বসিয়ে কি রকম মিশ্রবাংলা বলা হচ্ছে। একে অনেকে ‘বাংরেজি’ বা ‘ডিজুস’ ভাষা বলে অবজ্ঞা করতে পারেন। কিন্তু আপনি আমি আমরা সবাই কমবেশি ডিজুস ভাষা ব্যবহার করছি (আপনার নিজের কথাই রেকর্ড করে দেখুন না!)। অনেকে আবার মনে করেন, এই ডিজুস ভাষা বাংলার (কোন বাংলার?) বারোটা বাজাচ্ছে। কিন্তু ভাবুনতো একবার কিভাবে এতসব ফারসি-আরবি শব্দ, ‘হাওয়া’, ‘সিন্দুক’, ‘বই’, ‘কলম’, ‘কাগজ’... বাংলা শব্দকোষের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে। ফারসি ‘লাল’ সংস্কৃত তদ্ভব ‘রাতা’-কে বিদায় করেছে। আরবি ‘হাওয়া’ সংস্কৃত তৎসম ‘বায়ু’ আর তদ্ভব ‘বাতাস’ এর সাথে সহাবস্থান করছে। ‘বিয়েশাদি’ শব্দে সংস্কৃত তদ্ভব শব্দ ‘বিয়ে’ ফার্সি শব্দ ‘সাদি’’র সাথে কি চমৎকার ‘লিভ টুগেদার’ করছে। এর মানে হচ্ছে বাংলা ভাষার ‘ডিজুসায়ন’ নতুন কোন ঘটনা নয়। এ রকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। বাংলায় ঘটেছে, তুর্কিতে ঘটেছে, ইংরেজিতে ঘটেই চলেছে। মনে রাখতে হবে, ভাষার সৃষ্টি ও ক্রমবিকাশ অনেকটা দই পাতার মতো। পুরোনো দই এর সাথে নিত্যনতুন দুধ মিশে যেমন দইয়ের কলেবর বাড়ে তেমনি ভাষাকেও প্রতিনিয়ত অন্য ভাষা থেকে প্রাণরস সংগ্রহ করতে হয়। অবশ্য ভাষাবিশেষের শব্দঋণ-গ্রহণ-ক্ষমতার তারতম্য রয়েছে। হ্যাঁ এটি একটি ক্ষমতা। পৃথিবীর যে কোন ভাষার যে কোন শব্দকে আপন করে নিতে পারে ইংরেজি, অন্য অনেক ভাষাই যা সহজে পারে না। অতি সম্প্রতি আন্তর্জালে দেখলাম, প্রতি ৯৮ মিনিটে নাকি ইংরেজিতে একটি বিদেশি শব্দ যোগ হয়। হিন্দি ‘জয় হো!’ আমেরিকা-কেন্দ্রীক একটি ইংরেজি শব্দকোষে দশ লক্ষতম শব্দ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। গত বিশ্ব কাপ থেকে পৃথিবীর প্রায় সব ভাষার শব্দকোষে যোগ হয়েছে একটি নতুন আফ্রিকান শব্দ: ‘ভুভুজেলা’ (এক কর্ণবিদারী শানাই-বাঁশির নাম)।

গত দুই শতকে বাংলা প্রচূর সংস্কৃত শব্দ নতুনভাবে ঋণ হিসেবে নিয়েছে। নতুনভাবে বলছি এ কারণে যে চর্যাপদের যুগেও বাংলা শব্দকোষের অনেকখানি জুড়ে ছিল সংস্কৃত তদ্ভব শব্দ। আগে ছিল ‘চাঁদ’, ‘হাত’। নতুন ভাবে ঋণ নেয়া হলো এ শব্দগুলোরই পূর্বপুরুষ ‘চন্দ্র’ আর ‘হস্ত’ কে। নতুন কোন ধারণার জন্যে নতুন কোন শব্দের প্রয়োজন হওয়া মাত্র বাংলা সে শব্দটি সংস্কৃত থেকে নিয়ে নেয় বা সংস্কৃত শব্দে বাংলা রূপতত্ত্ব প্রয়োগ করে নতুন শব্দ বানিয়ে নেয়। ‘শ্রবণমাণ’, ‘অবহেলাময়’, ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’... এই শব্দগুলো আমি গত কয়েক মাসে গণমাধ্যমে শুনেছি। এগুলো আমার কাছে নতুন শব্দ। ‘গণমাধ্যম’ শব্দটিও একসময় নতুন শব্দ ছিল। বাংলাভাষীরা ‘হিরারিঙ-এইড’ বলছে, আবার ‘শ্রবণ-সহায়ক যন্ত্র’ও বলছে। ‘নেগলিজেন্স’ বা ‘নেগলিজেন্সি’ বলছে কিন্তু লক্ষ্য করুন, ‘*হিয়ারিঙ-মান’, ‘*নেগলিজেন্সময়’... (কোন শব্দ বা বাক্যের বামদিকে * চিহ্ন দেবার মানে শব্দ বা বাক্যটি গ্রহণযোগ্য নয়) ধরনের শব্দ কিন্তু বাংলায় তৈরি হচ্ছে না। ইংরেজি থেকে বাংলায় বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয় নেয়া হচ্ছে এন্তার। হরদম বলা হচ্ছে : ‘লিঙ্গুইস্টিকস খুব ডিফিকাল্ট সাবজেক্ট’, ‘লেখাপড়াটা রিসেন্টলি এক্সপেনসিভ হয়ে গেছে’। কেউ কিন্তু বলছে না ‘*ও অনেক টাকা সেইভস’, বা ‘*আমি ওকে ম্যানেজ কুড নট’। অর্থাৎ আনকোড়া ক্রিয়াপদ ধার নেওয়া হচ্ছে না ইংরেজি থেকে। ইংরেজি নামপদের সাথে বাংলা বাহক ক্রিয়া যোগ করে নতুন মিশ্র ক্রিয়াপদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদাহরণ: ‘ব্রাশ করা’, ‘কপি করা’, ‘সেভ করা’, ‘ম্যানেজ করা’, ইত্যাদি। এর মানে হচ্ছে শব্দঋণ যেনতেনভাবে করা হচ্ছে না। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম মেনেই বিদেশি শব্দ ঢুকছে বাংলা ভাষায়। মনে রাখতে হবে শব্দঋণ ভাষাভাষীরা সচেতনভাবে করেন না। সমাজের দ্বিভাষী ব্যাক্তিদের ভাষায় অবচেতনভাবে ‘ভাষামিশ্রণ’ বা ‘কোড-মিক্সিং’ শুরু হয় এবং কালক্রমে তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে যায়। সব যুগে সব ভাষায় এমনটি হয়েছে। না হলে এত ল্যাটিন শব্দ ফরাসিতে ঢুকতে পারতো না, বাংলাভাষায় ঢুকতে পারতো না এত আরবি-ফারসি শব্দ।

সংস্কৃতের সাথে বাংলা ভাষার মিল হচ্ছে শব্দকোষে, অমিল আছে এই দুই ভাষার ব্যাকরণে। সংস্কৃতে আভিধানিক লিঙ্গ আছে, যেমন, ‘দার’ শব্দটি পুংলিঙ্গ যদিও শব্দটির অর্থ ‘স্ত্রী’ (উদাহরণ: দারপরিগ্রহ)। ‘লতা’ শব্দটি সংস্কৃতে স্ত্রী লিঙ্গ। হিন্দি, পাঞ্জাবি, ইত্যাদি ভাষাতেও আভিধানিক লিঙ্গের ব্যাপারটা আছে। বাংলায় আভিধানিক লিঙ্গ নেই। অন্য অনেক ভাষার মতো জন্মগত লিঙ্গ আছে যেমন, ‘ছাত্র’ পুংলিঙ্গ, ‘ছাত্রী’ স্ত্রীলিঙ্গ, ইত্যাদি। বাংলায় টি, টা, খানা জাতীয় উপাদান (যাদেরকে আমি বলি ‘অবধারক’) যুক্ত হয় নামশব্দের সাথে, যেমন, ‘বইটা’, ‘শাড়িখানা’। এ রকম অবধারক আছে বাংলার কিছু প্রতিবেশী ভাষা যেমন ককবরোক বা গারো ভাষায়, আছে বর্মি, চিনা ও জাপানি ভাষায়। সংস্কৃত, হিন্দি, পাঞ্জাবিতে এদের দেখা মেলে না। কেমন করে আভিধানিক লিঙ্গ বাদ পড়ে গেল বাংলায়? কোথা থেকে অবধারকেরা উড়ে এসে জুড়ে বসলো? আমার মতে এ সবই হচ্ছে অপভ্রংশায়নের ফল। এমনটা হতেই পারে যে আর্য্য-৯ ভাষী (এর পরের কোন সংখ্যা ব্যবহার করলেও ক্ষতি নেই কোন) লোকদের কাছে হেরে গিয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষ, বাংলা অঞ্চলের অনার্য্য-৯ ভাষী কোন প্রাচীন কৌম। তারা আর্য্য-৯ এর শব্দকোষ থেকে শব্দ ধার নিয়ে বসিয়ে দিয়েছিল নিজেদের ভাষার কাঠামোতে। সেই কাঠামোতে আভিধানিক লিঙ্গ ছিল না কিন্তু অবধারক ছিল। এর পর চলতে থাকে ক্রমাগত অপভ্রংশায়ণ যার ফলশ্রুতিতে আজকের বাংলা উপভাষাগুলোর সৃষ্টি যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মান বাংলা।

চিকিৎসা শাস্ত্রে আজকাল একজনের যকৃৎ, বৃক্ক ইত্যাদি অঙ্গ আরেকজনের শরীরে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে হরহামেশাই প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। অঙ্গ-প্রতিস্থাপন সফল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে অঙ্গটি নিকট কোন আত্মীয়, যেমন, বাবা-মা, ভাই-বোন, ইত্যাদির হলে ভালো হয়। লক্ষ্য করুন, ‘ইমতেহান’ বা ‘তমুদ্দুন’ হিন্দির মেজাজের সাথে যতটা খাপ খায়, ‘পরীক্ষা’ বা ‘সংস্কৃতি’ ততটা খাপ খায় না। বাংলা অনেক আরবি-ফার্সি শব্দ স্বাভাবিক ভাবে আত্মস্থ করে নিয়েছে অপভ্রংশায়ণের ফলশ্রুতি হিসেবে কিন্তু ‘ইমতেহান’ বা ‘তমুদ্দুন’ এর মতো শব্দ বাংলা শব্দকোষের অন্তর্ভুক্ত করার যে অপচেষ্টা হয়েছিল পাকিস্তান আমলে তা সফল হয়নি। ফার্সি যেহেতু সংস্কৃতের ভগ্নী সেহেতু ফার্সি শব্দ হিন্দি-উর্দুতে মানিয়ে যায়। আমরা আগেই বলেছি, প্রতিটি ভাষার ঋণগ্রহণের ক্ষমতা, প্রয়োজন ও প্রবণতা আলাদা। এর পেছনে ধ্বনিতাত্ত্বিক কারণও নিশ্চয়ই রয়েছে। যে কারণেই হোক, আনকোড়া সংস্কৃত শব্দকে ব
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমলা রোদের মাল্টা-১

লিখেছেন রিম সাবরিনা জাহান সরকার, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:১৫



চারিদিক রুক্ষ। মরুভূমি মরুভূমি চেহারা। ক্যাকটাস গাছগুলো দেখিয়ে আদিবা বলেই ফেলল, ‘মনে হচ্ছে যেন সৌদি আরব চলে এসেছি’। শুনে খিক্ করে হেসে ফেললাম। টাইলসের দোকান, বিউটি পার্লার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-২

লিখেছেন রাবেয়া রাহীম, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:০০



২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের গগনচুম্বী দুটি ভবন। এই ঘটনার জের ধরে দুনিয়া জুড়ে ঘটে যায় আরও অনেক অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ২১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৯



সুমন অনুরোধ করে বলল, সোনিয়া মা'র জন্য নাস্তা বানাও।
সোনিয়া তেজ দেখিয়ে বলল, আমি তোমার মার জন্য নাস্তা বানাতে পারবো না। আমার ঠেকা পরে নাই। তোমার মা-বাবা আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চন্দ্রাবতী

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১


চন্দ্রাবতী অনেক তো হলো পেঁয়াজ পান্তা খাওয়া........
এবার তাহলে এসো জলে দেই ডুব ।
দুষ্টু স্রোতে আব্রু হারালো যৌবন।
চকমকি পাথর তোমার ভালোবাসা ।
রক্তমাখা ললাট তোমার বিমূর্ত চিত্র ,
আমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই নোবেল বিজয়ী নিজ দেশে রাজনৈতিক কুৎসার শিকার

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

সুয়েডীয় বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইলের মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×