somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নের শহর ভেনিস, ফ্লোরেন্স

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ভেনিসে পা রাখা মানে প্রকৃত অর্থে জলে পা রাখা। অন্য শহর থেকে রেলপথ বা আকাশপথ, যে পথেই আসা হোক না কেন, প্রথম অনুভূতিটা হবে বিস্ময়ের-কারণ ভেনিস রেল স্টেশন বা বিমানবন্দর বিস্তীর্ণ জলরাশির মধ্যে এক একটা বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের ওপর জেগে আছে।
ভিনিৎশিয়া সান্তা রেল স্টেশন থেকে বেরলেই চোখে পড়বে সেই বিখ্যাত গ্রান্দে কানাল যা সাপের প্যাঁচে জড়িয়ে রেখেছে গোটা শহরটাকে। গ্রাণ্ড ক্যানাল হল ভেনিসের ব্রডওয়ে, শহরের ব্যস্ততম পথ যা থেকে অজস্র সরু গলিখাল বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে শহরের চারিদিকে। গ্রাণ্ড ক্যানালে সব সময়ই ব্যস্ত ট্রাফিক-শাঁ শাঁ করে জল কেটে পরবর্তী স্টেশনের দিকে ছুটে চলেছে ওয়াটার বাস ও ওয়াটার ট্যাক্সি। এরই মাঝে ধীরলয়ে এগিয়ে চলেছে ছিপছিপে গন্ডোলা। আধুনিক ব্যস্ততম ভেনিস শহরে পুরাতনী সুরের রেশ বয়ে আনে এই গন্ডোলা। অবশ্য এই গন্ডোলায় চাপা আমাদের পক্ষে বেশ ব্যয়সাধ্য। ভাড়া খুব বেশি। সুতরাং গলিপথে গন্ডোলায় না চাপলেও একবার চড়তেই হবে অপেক্ষাকৃত সস্তার ওয়াটার বাসে- যা আপনাকে গ্রাণ্ড ক্যানাল বেয়ে এগিয়ে নিয়ে চলবে দু পারের চমৎকার দৃশ্য দেখাতে দেখাতে। সকালের মায়াবী আলোয় অপরূপ সৌন্দর্যে একে একে দৃশ্যমান হবে ভেনিসিয়ান পধিক স্থাপত্যে তৈরি প্রসাদোপম অট্টালিকা। এদের ।অধিকাংশই এখন আর্ট গ্যালারি বা মিউজিয়ামে পরিণত। ভেসিনস শহরের প্রাণকেন্দ্র সান মার্কো চত্বরের প্রধান আকর্ষণ বাসিলিকা দে সান মার্কো। গোল্ড মোজাইকে মোড়া এই বিশালকায় গির্জা বাইজ্যান্টাইন স্থাপত্যকীর্তির অনুপম নিদর্শন। গম্বুজাকৃতি গির্জার সামনের দিকে বাইজ্যান্টাইন মোজেইক এবং মার্বেলর কিছু অসাধারণ পেন্টিংয়ে ধরা আছে যিশুখ্রিস্ট এবং সেন্ট মার্কের জীবনী। গোটা সান মার্কো চত্বর দখল করে রেখেছে অগুনতি পায়রা। ৩০০বছরের পুরানো ব্যয়বহুল ওপন-এয়ার রেস্তরাঁতে মধ্যাহ্ণভোজের ফাঁকে আপনার কানে আসবে বেঠোফেনের ফিফথ সিম্ফনি-একেবারে লাইভ কনসার্ট।
জলের ওপর ভেসে থাকা ভেনিস ১১৮টা ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়। ইতালির মূল ভূখণ্ড থেকে জলপথে এর দূরত্ব প্রায় ৪ কিমি। মূল ভেনিস শহর থেকে ওয়াটার বাসে চেপে অবশ্যই যাওয়া উচিত অন্তত আরো দুটি দ্বীপে- ম্যুরানো আর ব্যুরানো। ব্যুরানো দ্বীপ পৃথিবীর ম্যাপে উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছে অসাধারণ লেসশিপ্লের সুবাদে। কাচশিপ্লের স্বর্গ ম্যুরানো দ্বীপে যাওয়ার একটা বিশেষ প্রাপ্তি, গ্লাস ব্লোয়িং চুল্লিতে কারিগরদের কাজ দেখবার সুযোগ। এবার ছুটে চলেছে দুর্বার গতিতে ইউরোপের তাক লাগানো ট্রেন ইউরোস্টার, ফ্লোরেন্স শহরের দিকে। চলচিত্রের পরদার মত নানা দৃশ্য ভেসে উঠছে জানলার কাচে।ছবির মতো ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে যাচ্ছে।
এই সেই ফ্লোরেন্স- ইউরোপের নবজাগরণের উৎসমুখ- যে শহর চতুর্দশ শতকের শেষভাগে সারা ইউরোপে সাহিত্য, শিল্প, ভাস্কর্য,স্থাপত্যে বিপ্লব এনে দিয়েছিল। সেই দান্তে, বোকাচ্চিও, পেত্রাকের শহর। কালজয়ী শিল্পী- ভাস্কর্য লিওনার্দো-দা-ভিঞ্চি, মিকেলাঞ্জেলো জন্ম নিয়েছিলেন এই শহরে। বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক গালিলেয়ো জন্মেছেন এখানে। আপাতদৃষ্টিতে ফ্লোরেন্স শহরটা ভেনিসের মত সুন্দর করে সাজানো নয়। এর সৌন্দর্যের সন্ধান পেতে আপনাকে পৌঁছেতে হবে ফ্লোরেন্স শহরের হৃৎপিণ্ড পিয়াৎজা দেল্লা সিনিওরিয়াতে। মধ্যযুগীয় অলিগলি বেয়ে চলতে চলতে আপনী স্পষ্ট অনুভব করবেন প্রাচীন ইতিহাসকে বিশাল সিনিওরিয়া চত্বর জুড়ে ছড়ানো ছিটানো ভাস্কর্য। আপনার দৃষ্টি আটকে যাবে খোলা চত্বরের দুটি বিশেষ ভাস্কর্যে। একটা চেলিন্নির বিখ্যাত কীর্তি, পারসিউসের মেডুসা বধের মূর্তি। দ্বিতীয়টা মিকেলাঞ্জেলোর 'দিকলোসাল ডেভিড'। এবার দেখুন গ্যালারিয়া দেগলি উফিৎজি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মাস্টারপিস '।অ্যাডোরেশন অফ দি ম্যাজাই' শোভা পাচ্ছে এই গ্যালারিতে। মিকেলাঞ্জেলোর 'হোলি ফ্যামিলি' এই গ্যালারির এক সম্পদ। যুগ যুগ ধরে তিল তিল করে সঞ্চিত এ শিল্প সম্ভারের ঐশ্বর্য আবিষ্কার করতে হবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, রস আস্বাদন করতে। রসিকজনকে তাই ফিরে আসতে হবে ফ্লোরেন্সে একবার নয়, বার বার।

সূত্র -সানন্দা
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×