somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১- এ আলেমদের ভূমিকা নিয়ে রাখঢাক ছেলেমানুষী। অবশ্যই!

২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭১- এ আলেমদের ভূমিকা নিয়ে রাখঢাক ছেলেমানুষী। অবশ্যই!

প্রভাব ‘মারাত্মক’ একটি জিনিস আর প্রভাবিত হওয়া নিপাতকারী, দুষ্টপ্রকৃতির নাপাক একটি অভ্যাস। এই জনই কবি যামানাকে যারা বদলায় তাদের জয়গান করেেছন। ব্লগে এই ভূমিকাটা দিতে হলো কারণ একশ্রেণীর লোককে প্রভাবিত হওয়ার নাপাক রোগটি ভীষণভাবে পেয়ে বসেছে! স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের হাওয়াটি তাদের গায়েও আছাড় খেয়েছে। শুধু আছাড় খেলে হয়তো কথা ছিলো না, তারা এই ‘আছাড়’ থেকে প্রেরণা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়টি খাড়া করে প্রগতিশীল ও একাত্তরের চেতনায় উজ্জিবিত হওয়াটাকে জরুরি করে নিয়েছেন। এই কাতারে টেনে আনছেন আলেমদেরও। তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানানোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এরা। এই সংগ্রামটা কতটা হালওয়া নির্ভর আর কতটা অন্তরিক সময়েই তা জানা যাবে। অনেকে ইতোমধ্যে জেনেও গেছেন!
৭১- এ আলেমদের ভূমিকা নিয়ে রাখঢাক করা বা নূতন করে গবেষণার মাধ্যমে তাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানো নেহাতই ছেলেমানুষী। অবশ্যই! বরং সত্যটা বলা-ই সাহসিকতা। সত্যটা প্রকাশ করাই সব বিচারে কল্যাণকর। এতে হীনমন্যতার কিছু নেই। ৭১-এ আলেমরা যে ভূমিকায় ছিলেন, সেসময়ে অবশই সঠিক ও বাস্তব ভূমিকায় তারা ছিলেন, এটা হাজারবার প্রমাণ করা যাবেÑ মানুষের আদালতে, ইসলামী আদালতে ও বিবেেকর আদালতে। চ্যালেঞ্জ।
তার মানে এটা নয়, পাকিস্তানীদের কথিত (কথিত বলছি কারণ ৩৮ বছরে স্বাধীনতার ইতিহাস এতোই পরিবর্তন করা হয়েছে কোনটা বাস্তব তা আমাদের পে এখন হলফ করে বলা সম্ভব নয়) বর্ববর জুলুম নৃসংশতার বিরুধী ছিলেন না ওলামায়ে হযরাত। তারা সব নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরোধী ছিলেন। কিন্তু একে কেন্দ্র করে মহত একটি চেতনা নিয়ে জন্ম নেয়া ‘স্বদেশ’ কোনো ‘ফুতকারে’ ম্লান হয়ে যাক, ভেঙে যাক ‘মাতৃভূমি’ সেটা কখনো তারা চাননি। চাননি সঙ্গত কারণেই। শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন এমন একটি কথা শুনাই। তিনি বলতেন, মাথা কেটে ফেলা উঁকুন তাড়ানোর কোনো সমাধা নয়। এই সহজ কথাটির সবচে বোদ্ধা ছিলেন বিদগ্ধ আলেমরা। এ কারণেই পাকিস্তানি সেনাদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতার পরও তাদের বিরদ্ধে অস্ত্র হাতে নেননি তারা ।
সহজ একটি দৃষ্টান্ত দিই। এখন বাংলাদেশের কোনো এলাকা যদি ঢাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আর ওই অঞ্চলের কেউ যদি তাদের বিদ্রোহের সমর্থন না করে তবে তাকে আমরা কী বলবো। ক্যারেক্ট। দেশপ্রেমিক। পারলে অভিধান ঘেঁটে যতটি বিশেষণ দেয়া যায় তা দিতেও কার্পণ্য করব না। তাদের ভূমিকাকে আমরা বস্তবিকই বলবো। আর যারা বিদ্রোহ করেছে তাদের তো গাদ্দারই বলবো। নাকি? ৭১- এ আলেমরা দেশপ্রেমিকের এ্ই বাস্তব কাজটিই করেছেন। কিন্তু যখন দস্তখত নিয়ে আমরা পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে গেলাম, গঠন করলাম স্বাধীন রাষ্ট্র তখনও আলেমরা বাস্তবানুগ। প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তখন তারা ভালোবাসলেন এই দেশকে। নতুন রাষ্ট্রকে। এ সময় যদি আলেমরা বিরোধিতা করতেন তাহলে তাদের অপরাধী করা যেত। কিন্তু তাদের আগের ভূমিকা নিয়ে তাদের একটি কথা বলারও নৈতিক শক্তি কারো নেই।
দুঃখ হলো এই জরুরি কথাগুলো এখন কেউ বলে না। শুধু আলেম মুক্তিযোদ্ধা খোঁজার ধান্ধা করে। আলেম মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্ম সাজার মাতলামি করে। আজ এটুকুই।

নোমান বিন আরমান : সাংবাদিক, কবি, কলাম লেখক।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×