
বিএনপি বাংলাদেশকে মেরামত করার জন্য ২৭ দফা জাতির সামনে উত্থাপন করেছে। দফাগুলো খুব সুন্দর এবং এর মাঝে আসলেই দরকারি বিষয় আছে। এ দফা গুলি সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ভালো কিছু হবে বলাই যায়। এখন বিএনপি এগুলি বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। মজার বিষয় হচ্ছে ৯১এর নির্বাচনের সময়, ২০০১ এর নির্বাচনের সময় এবং এর পরের দুটি নির্বাচনে বিএনপি যে রূপকল্পগুলি দিয়েছে, ঘুরে ফিরে এই ২৭ দফার বিষয়গুলিই ছিল সেই রূপকল্পে। তাই এই ২৭ দফাকে বিএনপি'র জন্য নতুন কিছু মনে হচ্ছে না।
যেটা নতুন মনে হচ্ছে সেটা হলো গত বারের সময় গুলো থেকে এবারের সময় অনেকটা আলাদা আর তাই দফা গুলি নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্য আসছে। যার প্রেক্ষিতে তারা একটি কথা বলেছে, সেটা হচ্ছে অতীতের ভুল এবং আত্মউপলব্ধি থেকে তারা এবার দফা গুলি বাস্তবায়ন করবে। এখন এই কথাটি যদিও তাদের অফিশিয়াল কোন বক্তব্য নয় তারপরও কথাটা কি তারা অন্যদের কটু মন্তব্য থেকে বাঁচার জন্য বলছে নাকি আসলেই মন থেকে বলছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বিএনপি যেহেতু আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। আর এজন্য তাদের দফা গুলোর মধ্যে গণতন্ত্র, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, তাদের ক্ষমতার মেয়াদ ও প্রশাসনের মধ্যে যে সাম্যবস্থার কথা বলছে এটা নির্বাচনে বিজয় হওয়ার আগেই তাদের প্রমাণ করার দরকার। এটাই তাদের এই দফা গুলোর গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিবে। এখন সেটা কিভাবে তারা করবে?
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অনেক বৃহৎ একটি দল তাই তাদের দলের মধ্যে অতি শীঘ্রই যদি এই চর্চাটা নিয়ে আসে তাহলেই সম্ভব। আর এটাতে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগও একটা চাপ অনুভব করবে তাদের নিজের দলে ভিতর গণতন্ত্র চর্চা করার। সর্বপ্রথম বিএনপির উচিত হবে তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের যে ধারায় চেয়ারপারসনকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বানিয়েছে সেটার সংশোধন করা। এছাড়াও নিজেদের দলীয় গঠনতন্ত্রের না করলেও, সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
আসলে বিএনপি নিয়ে এত কথা বলার দরকার হচ্ছে, আওয়ামীলীগ দিন দিন যেভাবে নিজের রাজনৈতিক আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে তার জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধীদল প্রয়োজন। একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী বিরোধীদল হওয়ার জন্য যেসব গুণাবলী থাকা দরকার বিএনপির মধ্যে আপাতত সেগুলি নেই। তাই বিএনপি যেসব দফা গুলি সরকার গঠন করার পর বাস্তবায়ন করবে বলছে, সেগুলির কিছুটা নিজেদের দলের মধ্যে এই মহুর্তে বাস্তবায় করতে পারলে মোটামুটি একটি ভালো বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবে। আর এই কারনেই আওয়ামীলীগও রাজনৈতিকভাবে অনেক অপকর্ম সহজে করতে পারবেনা। আশা করি বিএনপির নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র, সুশাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে কাজ করবে। অতীতের ভুলভ্রান্তি ও অপরাধ সম্পর্কে তাদের যে আত্ম উপলব্ধি হয়েছে, সেটা যেন সত্যিকার অর্থেই মন থেকে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


