
২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ নতুন বছর শুরুর দিনে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে ৮ সহস্রাধিক শিশু। এদিন সার বিশ্বে জন্মগ্রহণ করেছে আনুমানিক ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ জন শিশু। এর অর্ধেকেরও বেশি শিশুর জন্ম হয় ৯টি দেশে। আর নতুন বছরের প্রথম শিশু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট দ্বীপ কিরিবাতির ‘ক্রিসমাস আইল্যান্ডে’ জন্ম নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে শিশুর জন্ম উদযাপন করেছে। নতুন বছরের প্রথম দিনের সর্বশেষ শিশুটির জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে। গতকাল (সোমবার) জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ জানিয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে জন্ম নেয় ৮ হাজার ৩৭০ জন শিশু, যা এদিন সারা বিশ্বে জন্ম নেয়ার শিশুর ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের প্রথম দিন সবচেয়ে বেশি শিশু জন্ম নেয় ভারতে। এ সংখ্যা ৬৯ হাজার ৭০ জন। এরপর রয়েছে চীন, যেখানে ভূমিষ্ঠ হয়েছে ৪৪ হাজার ৭৬০ জন। এরপর যথাক্রমে নাইজেরিয়ায় ২০ হাজার ২১০ জন, পাকিস্তানে ১৪ হাজার ৯১০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩ হাজার ৩৭০ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ১১ হাজার ২৮০ জন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ৯ হাজার ৪০০ জন, ইথিওপিয়ায় ৯ হাজার ২০ জন।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমান বিশ্বের নবজাতকদের ২২ শতক দেখার সুযোগ থাকা উচিত। দুর্ভাগ্যবশত, এ বছর জন্মানো অর্ধেক শিশু নাও বেঁচে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সুইডেনে জন্ম নেয়া একটি শিশু ২১০০ সাল বা তারও বেশি বেঁচে থাকতে পারে। অথচ এ সময়ে বাংলাদেশে জন্ম নেয়া শিশুটি হয়তো ২০৯১ সাল পর্যন্ত জীবিত নাও থাকতে পারে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেয়া ২৬০০ শিশু জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। প্রায় ২০ লাখ নবজাতক জন্মের প্রথম সপ্তাহ এ পৃথিবী ত্যাগ করে। আর ২৬ লাখ শিশু জন্মের প্রথম মাসে পরিবার-পরিজন কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। ইউনিসেফ বলছে, জন্মের প্রথম দিনে, প্রথম সপ্তাহে এবং প্রথম মাসে মৃত্যুবরণকারী এসব শিশুর ৮০ ভাগের মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে সঠিক সময়ে নিরাপদ জন্ম নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এবং নিউমোনিয়া সংক্রমণ ঠেকানো গেলে এ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব, যা রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছা এবং স্বল্পব্যয়েই সম্ভব। এ বিষয়ে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার বলেন, ইউনিসেফ একদিন, এক সপ্তাহ এবং এক মাস বয়সে যেসব শিশু মৃত্যুবরণ করে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, যাতে তারা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়। ইউনিসেফ জন্মের প্রথম দিনে সব শিশুর বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা বিধানে প্রতিশ্রুতিশীল। এক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের সরকারের সুদৃষ্টি ও আন্তরিকতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত যে, অত্যন্ত স্বল্প খরচে এসব শিশুকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এডওয়ার্ড বেগবেদার বলেন, ইউনিসেফ আগামী মাসে জীবিত জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিটি মা ও নবজাতকের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যের ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা শুরু করবে। এ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া শিশু জন্মের সময় দক্ষ স্বাস্থ্য পরিচর্যাকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, জন্মের প্রথম ঘণ্টায় বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ (স্কিন টু স্কিন কন্টাক্ট) অন্তর্ভুক্ত।
সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


