somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজউদ্দীন আহমদের ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব মমতাজউদ্দীন আহমদ। বাংলাদেশের নাট্য জগতে যারা আকাশসম খ্যাতি পেয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মমতাজউদদীন আহমদ। তিনি একধারে কলামিষ্ট, উপন্যাসহ নাটক রচয়িতা অভিনেতা ও ও সুবক্তা। প্রখ্যাত এই নাট্যকার এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নাট্যকার হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত হলেও মমতাজউদ্‌দীন টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন। ৩২ বছর অধ্যাপনা করেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৭ বছর বয়সে রাজশাহী সরকারি কলেজের ছাত্রাবস্থায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন মমতাজউদ্‌দীন। বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজে ইট কাদামাটিতে যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল, তাতে মমতাজউদ্‌দীনও ভূমিকা রেখেছিলেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটিতে একজন উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভুষিত হন অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদে। আজ দেশের প্রতিথযশা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক, নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক ও কলামিস্ট মমতাজউদদীন আহমদের ৮৪তম জন্মজয়ন্তী। ১৯৩৫ সালের আজকের দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আইহো গ্রামে জন্ম হয় তার। নাট্যব্যক্তিত্ব মমতাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


মমতাজউদ্দীন আহমদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তাঁর শৈশব কৈশোর কেটেছে। পরবর্তীতে সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পর তাঁর পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বসবাস শুরু করেন। তার পিতা কলিমুদ্দিন আহম্মদ এবং মাতার নাম সখিনা বেগম। খুব অল্প বয়সে তার মা মারা যায়। মমতাজউদ্দীন মালদহে জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তিতে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের পিটস্বার্গে কার্নেগী মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যতত্ত্ব ও নাট্যকলা বিষয়ে শিক্ষা লাভ, জাপানে এশিয়ান ড্রামা ও পাপেট থিয়েটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেমিনারে অংশগ্রহণ। ক্যানবেরাতে এশিয়ান সংস্কৃতি উৎসবে বাংলাদেশ সংস্কৃতি দলে সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ, সংস্কৃতি ও নৃত্য বিষয়ে অভিজ্ঞতা। ভারতে বাংলাদেশ নাট্যদলের নেতৃত্ব নিয়ে দিল্লি, জয়পুর, কলকাতায় মীর মশাররফের জমীদার দর্পণ নাটকের প্রদর্শন। বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি দলে সদস্য হিসেবে দিল্লি, বাঙ্গালোর এবং কলকাতা ভ্রমণ এবং ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি দলের সঙ্গে মতবিনিময়। ছাত্র অবস্থায় তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন রাজনীতি করতেন। রাজশাহীর তুখড় ছাত্রনেতা গোলাম আরিফ টিপুর সান্নিধ্যে ছাত্র রাজনীতিতে ৫২`র ভাষা অান্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালে মমতাজউদদীন আহমদ ৪০ জন ছাত্রননেতার সা্থে কারা বরণ করেন। রাজনীতি করার কারনে তিনি ১৯৫৪, ১৯৫৫ ও ১৯৫৭ সালে গ্রেফতার হন। ১৯৫৮ সালে পূনরায় তাকে পুলিশ তাঁর ভোলাহট উপজেলাস্থ গ্রামের বাড়ি কানারহাট থেকে ধরে নিয়ে যায়। পাক আমলে তিনি ভোলাহাট উপজেলার’র প্রথম রাজবন্দী। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতই রাজশাহী কলেজ এর নিউ মুসলিম হোস্টলের মেইন গেটে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন মমতাজউদদীন আহমদ(তৎকালীন ছাত্র) ঐ সময় এক ঠিকাদারেরর কাজ চলছিল। তিনি ঐ ঠিকাদারেরর শ্রমিকদের নিয়ে রাতারাতি ঐ শহীদ মিনার শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। যা ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের সকাল ৭টায় উদ্বোধন করা হয়। একাত্তর সালে বেশ কিছু জনপ্রিয় নাট্যকরের মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় সেই শূন্যতা পূরণে তিনি অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলেছেন। তিনি অনেক মৌলিক নাটক রচনা করেন, নাটক বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লেখেন, নাটক প্রযোজনা করেন, নাটকের নির্দেশনা দেন, বিশ্ব নাটকের বিশেষভাবে ইংরেজি নাটকের অনুবাদ করেন, নাটক মঞ্চস্থ করেন, নিজের নাট্যদল থিয়েটার গড়ে তোলেন এবং নিজে অভিনয় করেন। এছাড়া অজস্র নাটক ও বেশ কিছু সিনেমাতেও অভিনয় করেন। হুমায়ূন আহমেদের নির্দেশনায় দশটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।


কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের নাট্যকলা ও সংগীতে বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারী কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন উচ্চতম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ভারত এর দিল্লী, জয়পুর এবং কোলকাতায় তিনি নাট্যদলের নেতা হিসাবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার রচিত নাটকের মধ্যে ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’ অন্যতম। তাঁর লিখা নাটক কি চাহ শঙ্খ চিল এবং রাজা অনুস্বরেরর পালা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এ পাঠ্য তালিকাভুক্ত। তিনি প্রথম আলো", "যুগান্তর", "কালের কন্ঠ" ইত্যাদি বিভিন্ন দৈনিকের কলামিস্ট হিসাবে নিয়মিত লিখে চলেছেন। নিয়মিত রাজনৈতিক প্রবন্ধ ও কলাম রচনা অব্যাহত রেখেছেন প্রথিতযশা লেখক অধ্যাপক মমতাজ। স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্র রচনার জন্য প্রায় দশ বছর নিয়মিত কলাম ও প্রবন্ধ রচনা। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সামরিক শাসনবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাহিত্য বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা। নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান ও পরিচয় বিষয়ে গ্রন্থ রচনা। মহান অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে একটি গ্রন্থ এবং বিশ্বসাহিত্য বিষয়ক আলোচনা গ্রন্থ-অমৃত সাহিত্য। সৃজনশীল কাজের স্বকৃতি স্বরুপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানি হয়েছেন। নীতি-আদর্শে দৃঢ়চেতা, স্বাধীনচেতা, নির্লোভ-নিরহংকার, তারুণ্যভরা চির নতুন, আধুনিক সাহিত্য-সংস্কৃতির অগ্রপথিক এমন ব্যক্তিত্ববান সফল পুরুষ সম্পর্কে জানবার-জানাবার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরই। খুব কঠিন সময়ের কঠিন কথাগুলো অতি সহজ করে হাস্যরস দিয়ে আনন্দবর্ণনায় সার্বজনীন উপস্থাপনের নিপুণ কারিগরের আজ ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা-সংগ্রামী, নাট্যকার মমতাজউদ্‌দীন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি বিলাস!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮



বৃষ্টির জন্য খুব বেশি হাহাকার জমেছিল বলেই কিনা,
জমিয়ে বৃষ্টি এসে রীতিমতো আমাদের জমিয়ে রেখেছে-
এখন গৃহ কারাবাস!
বৃষ্টি তুমি কিনা জমিয়ে রেখেছিলে এতটা ক্রোধ!
থামছেই না তোমার চোখ রাঙানি!
অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×