somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মনীষী ড. নীহাররঞ্জন রায়ের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৩০ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেশবরেণ্য ইতিহাসবিদ, সাহিত্য সমালোচক ও শিল্পকলা-গবেষক বাঙালি পণ্ডিত নীহাররঞ্জন রায়। তিনি ছিলেন বাংলার ইতিহাস, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ভারতীয় শিল্পকলায় বিশেষজ্ঞ। শিল্প-ইতিহাস চর্চায় তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যরূপে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ড. নীহাররঞ্জন রায় ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৮১ সালের আজকরে দিনে তিনি কলকাতায় নিজ বাসভবনে লোকান্তরিত হন। আজ এই মনীষীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেশবরেণ্য বাঙালি পন্ডিত নীহাররঞ্জন রায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


নীহার রঞ্জন রায় ১৯০৩ সালের ১৪ই জানুয়ারী ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহে সম্পন্ন হয়। পিতা মহেন্দ্রচন্দ্র রায় ছিলেন স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক।পড়াশোনার শুরু ওই স্কুলেই। এরপর ১৯২৪ সালে শ্রীহট্টের মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স সহ বি, এ পাস করেন। ১৯২৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের শিল্পকলা শাখায় এম এ পাস করে রেকর্ড মার্ক সহ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯২৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এ রিসার্চ ফেলো হিসাবে নিযুক্ত হয়ে গবাষণায় ব্রতী হন। ১৯৩৫ সালে বৃত্তি নিয়ে ইউরোপ যান এবং হল্যান্ড-এর লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী এবং লন্ডন থেকে গ্রন্থাগার পরিচালনা বিষয়ে ডিপ্লোমা নেন। ছাত্রবস্থা থেকেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এক সময়ে রাজনীতি ও সাংবাদিকতা করেছেনঃ আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনুশীলন সমিতির প্রতি, অসহযোগ আন্দোলন-এ অংশ নিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত ইংরেজী লিবার্টি পত্রিকার সাহিত্য বিভাগ পরিচালনা করেছেন। আর এস পি (Revolutionary Socialist party) দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলের মুখপত্র ক্রান্তির পরিচালনা মন্ডলীতে ছিলেন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলন-এ অংশ নেওয়ায় কারাবরণ করেন ড. নীহাররঞ্জন রায়।


কর্মজীবনে বিবিধ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড. নীহাররঞ্জন রায়। তিনি তাঁর কর্মজীবন প্রাচীন ভারতের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপনা দিয়ে শুরু করেন। ১৯৩৭ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারিক নিযুক্ত হন। ১৯৪৬ সালে শিল্পকলা বিষয়ে রানী বাগেশ্বরী অধ্যাপক পদে বৃত হন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েই। ১৯৬৫ সালে অবসর গ্রহনের পর তাঁকে প্রফেসর এমিরেটস করা হয়। সিমালয় প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এ্যডভান্স স্টাডিজ প্রতিষ্ঠানের প্রথম পতিচালক হয়ে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ঐ পদ অলঙ্কৃত করে ছিলেন। ইউনেস্কো-র প্রতিনিধি রূপে ব্রহ্মদেশ সরকারের সংস্কৃতি ও ইতিহাস-বিষয়ক উপদেশক ছিলেন ১৯৭৩-৭৬ সাল পর্যন্ত। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন- শিল্পকলা, প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবনকাহিনীসহ নানা বিষয়ে তিনি বিচরণ করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থঃ ‘রবীন্দ্র-সাহিত্যের ভূমিকা’ (১৯৪৩), ‘বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ’ (১৩৫২), ‘বাংলার নদনদী’ (১৩৫৪), ‘বাঙালীর ইতিহাস’ (১৯৪৯), ‘প্রাচীন বাংলার দৈনন্দিন জীবন’ (১৩৫৬) ১৯২৭ সাল থেকে ১৯৩৩ পর্যন্ত তিনি বার্মায় ছিলেন। ওখানকার মন্দির স্থাপত্যের ওপর গবেষনা করেন। এ সময়েই কারুশিল্পের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ জন্মায়। ওই সময়কার তাঁর উল্লেখযোগ্য তিনটি গ্রন্থ হলঃ Sanskrit Bhuddism in Burma (১৯৩৬); An Introduction to the Study of Theravada Bhddhism in Burma (১৯৪৭), Art in Burma (১৯৫৪)ছাড়াও তার অন্যান্য ইংরেজি গ্রন্থঃBrahminical Gods in Burma (1942), ‘Maurya and Sunga Art’ (1945), ‘Indo-Burmese Art (1947), ‘An Artist in Life’, ‘Idea and Image in Indian Art’, ‘Mughal Paintings, ‘Metal Sculptures of Bengal’, ‘Nationalism in India’ প্রভৃতি। “বাঙালির ইতিহাস” (আদি পর্ব) নীহাররঞ্জনের অক্ষয় কীর্তি। ঐতিহাসিক যদুনাদ সরকার বইটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেনঃ অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায়ের“ বাঙালীর ইতিহাস” একখানি অমূল্য গ্রন্থ। বহু বৎসর ধরিয়া ইহা আমাদের অবশ্য-পঠিতব্য প্রামাণিক গ্রন্থ বলিয়া গন্য হইবে, এবং ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিকের পথনির্দেশ করিবে তাঁর ইচ্ছে ছিল বাঙালির ইতিহাস ২য় খন্ড লিখবেন কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।


ড. নীহাররঞ্জন রায় তাঁর কর্ম কুশলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি, ১৯৩০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোয়াট স্বর্ণপদক, ১৯৫০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৬০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরোজিনী স্বর্ণপদক এবং ১৯৬৯ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়াও ১৯৭০ কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক বিমলাচরণ লাহা স্বর্ণপদক এবং ১৯৮০ সালে কলকাতার প্রফুল্লকুমার সরকার (আনন্দ) পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট তিনি কলকাতায় নিজ বাসভবনে লোকান্তরিত হন। আজ এই মনীষীর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেশবরেণ্য বাঙালি পন্ডিত নীহাররঞ্জন রায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপেল নিয়ে যত গল্প পর্ব - ০১

লিখেছেন অধীতি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১১

আপেল, আমাদের পরিচিত ফল সমুহের ভেতরে অন্যতম। দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি এই ফলটির আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আপেল এক অদ্ভুত ফল। বাসায় মেহমানকে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোগী দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×