somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার লেখা প্রথম ছোট্ট একটি সাইকো থ্রিলার- 'অপমৃত্যু'

১৯ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুট করে একটা শব্দ হল!তাতেই ঘুমটা ভেঙে গেল কৌশিক আকন্দের।নেহাৎ অভ্যাস বশেই চট করে দৃস্টি চলে গেল বিছানার অপর পার্শ্বে,যেখানে অনিতা ঘুমায়।অনিতা তার স্ত্রী।বছর দুয়েক হল তারা বিয়ে করেছে।প্রথম বছরটা বেশ ভালভাবেই কেটে যায়।ঝামেলা শুরু হয় ২য় বছর থেকে।মানসিক রোগির মত আচরন শুরু করে।ধীরে ধীরে সেটা বাড়তে থাকে।ইদানিং ঘুমের মাঝেই হাটতে থাকে।আজকের ঘটনাটাও ঠিক তাই!
দুশ্চিন্তা এসে ভর করল তার মাথায়।দ্রুত বিছানা ছাড়ল সে।দড়জাটা ছিল হাট করে খোলা।অনীতা যে বাইরে আছে,এ থেকেই তা প্রমান হয়।বাইরে বেরিয়ে এলো কৌশিক।নিজেই নিজেকে সাহস জোগাচ্ছে এই মুহুর্তে।ভিষন চিন্তায় পড়ে গেছে সে।মেয়েটা তো অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ।কি যে করে বসেছে কে জানে!

সে সন্দেহ করে যে,অনীতা আসলে ধীরে ধীরে হোমিসাইডাল ম্যানিয়াকে পরিনত হচ্ছে।ওকে সামলানো তার একার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব না।এমনকি শত চেষ্টা করেও অনীতাকে কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারেনি সে।অবশেষে মরিয়া হয়ে গোপনে সে পরিচিত একজন মানসিক ডাক্তারের সাথে আলোচনা করেছে।ভদ্রলোক বিদেশ থেকে সাইকিয়াট্রির উপর পড়াশোনা করেছেন।তারপর দেশে এসে চেম্বার খুলেছেন।এরই মাঝে তার বেশ নাম-ডাক হয়ে গেসে।এক বন্ধুর কাছে তার কথা শুনেই ছুটে এসেছে কৌশিক।খোলাখুলি সব কিছু জানিয়েছে।ভদ্রলোক কিছু পরামর্শ দেয়।সেদিনকার মতো বিদায় নেয় সে।এই তো মাত্র গতকালকের কথা সেটা।এই মুহুর্তে দরজার বাইরে অবস্থান করছে কৌশিক আকন্দ।করিডরের দুধারে দৃস্টি বুলালো আকন্দ।কিন্তু অনীতার ছায়াও দেখতে পেল না।অস্বস্তি ঘিরে ধরল তাকে।চোখ বন্ধ করে নিজেকে অটোসাজেশন দিল সে।তারপর এক পাশ ধরে হাটা আরম্ভ করল।কয়েক পার এগোবার পরই আজব একটা শব্দ কানে এলো বলে মনে হল তার।তবে শব্দটা এতই ক্ষীণ যে,ভালোভাবে বুঝতেও পারছে না।মনে হল গরু কোরবানীর পর গলা থেকে রক্ত বেরোবার সময় যেরুপ শব্দ হয়,ঠিক সেইরকম।কিন্তু এইরকম শব্দ হতে যাবে কেন?তাছাড়া,কেউ তো নেই।সারা বাড়ীতে সে,অনীতা আর একজন কেয়ার্টেকার থাকে মাত্র।ব্যাপারটা মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করল সে।কিন্তু পারল না।অকারনেই গা ছমছম করে উঠল।ভূতে বিশ্বাস নেই কৌশিকের।কিন্তু তবুও ভূতে বিশ্বাসী মানুষ ভয় পেলে যে অনুভূতি হয় ঠিক সেই রকম অনুভূতি হচ্ছে তার।
কেয়ারটেকারের রুমের সামনে চলে এল সে।উত্তেজিত না হলে দেখতে পেত,দরজার নিচ দিয়ে রক্তের সরু একটা ধারা বেড়িয়ে আসছে!

২

দরজার কবজা ধরে মোচর দিয়ে ঘুরে গেল চাকতিটা।খুলে ফেলল পুরোটা।কিন্তু সাথে সাথেই আঁতকে উঠে পিছিয়ে গেল ভিতরের দৃশ্য দেখে।কেয়ারটেকারের রুমটা যেন একটা কসাইখানায় পরিনত হয়েছে।লোকটার গলা প্রায় দুইভাগ করে ফেলা হয়েছে চরম নিশ্ঠুরতার পড়িচয় দিয়ে।খুব ধারাল কোন ছুরি দিয়ে করা হয়েছে কাজটা!
স্থবির হয়ে রইল কৌশিক কয়েক মুহুর্ত।তারপর চিৎকার করে উঠল।কিন্তু চিৎকারের বদলে গলা দিয়ে যে আওয়াজ টা বেরুলো,নিজের কানেই তা বেখাপ্পা শোনালো।তারপর সংবিৎ ফিরে পেতেই ঝট করে দড়জাটা লাগিয়ে দিল সে।তারপর দেয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে জোরে জোরে দম ছাড়তে লাগল।একটু পরে ধাতস্থ হয়ে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল,'খুন হয়ে গেছে আকবর।হ্যাঁ হ্যাঁ খুন।জবাই করেছে তাকে কেউ।ওহ মাই গড......... অনীতা!নিশ্চয়ই অনীতা।আর কে হতে পারে!হোমিসাইডাল টেন্ডেন্সি তাহলে ভালোভাবেই ভর করেছে ওর উপর।আর কেয়ারটেকারকে যখন খুন করতে পেরেছে,তখন কি আমাকে................. ,'মেরুদন্ড বেয়ে কয়েক দফা ঘাম গড়ালো।কেপে উঠল কৌশিক।
হঠাৎ খুট করে একটা শব্দ হল পিছনে।পাই করে ঘুরে দাড়াল সে।কিন্তু খোথায় কি?সম্পুর্ন করিডর ফাকা।কারও ছায়া পর্যন্ত নেই!
শব্দের উৎসের দিকে হাঁটা দিল সে।থেমে দাড়াল মাঝপথে।যেন আঠা দিয়ে মেঝের সাথে তার পা দুটিকে আটকে দিয়েছে কেউ!

৩

সামনে দাড়িয়ে আছে অনীতা।এলোমেলো চুল।চোখে বুনো দৃস্টি।তাকিয়ে আছে তারই দিকে।ভয় পেয়ে গেল কৌশিক,যখন দেখল তার দিকে ধির পায়ে এগিয়ে আসছে অনীতা।হাতে একটা রক্তমাখা ছুরি বাগিয়ে ধরেছে।
আতঙ্কে হাত-পা অসাড় হয়ে আসতে চাইল কৌশিকের।মনে পড়ল কেয়ারটেকারের মৃতদেহর কথা।এই ছুরিটা দিয়েই তো খুন করেছিল তাকে অনীতা।কৌশিকের দৃস্টি এই মুহুর্তে নিবদ্ধ রয়েছে অনীতার ছুরি ধরা হাত এবং ধিরে এগোনো পায়ের দিকে।তাল মিলিয়েই যেন সেও পিছিয়ে যেতে শুরু করল।কিন্তু ক্রমশ এগিয়ে আসছে অনীতা।
নাহ!আমার আর কোন আশা নাই!ভাবল সে।তার কাছ থেকে যখন মাত্র ৫ হাত দূরে,ছুরিটা বাগিয়ে ধরে ওর দিকে ঝাপ দিল অনীতা।মরিয়া হয়ে ডানদিকে সরে গেল কৌশিক।পুরোপুরি এড়াতে পারলনা।গলার একপাশের চামরা কেটে নিয়ে সরে এল ছুরিটা।দুজনেই তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেছে।ধস্তাধস্তি শুরু হল দুজনের মাঝে।কিন্তু উন্মাদিনীর কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হল কৌশিক।মরার আগে তার শেষ কথাটি হছে-'অনীতা তুমি'!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১০:৫২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×