somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধ শিশু '৭১ : মাদার তেরেসা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাদার তেরেসা সম্পর্কে নতুন করে বলতে চাওয়াটা এক ধরণের ধৃষ্টতা। শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাই মানবতাবাদী এই তপসীকে। তার অনেক পরিচয়ের একটি হচ্ছে '৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন এই দেশটির নিপিড়িতা-নিগৃহীতাদের একটা হিল্লে করতে সবার আগে এগিয়ে এসেছিলেন তিনিই। বীরাঙ্গনা সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। দিশে পাচ্ছে না কোনো। একটা চুপ চুপ ভাব চারদিকে। মেরে ফেলা হবে না আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হবে- এমন নক্সায় ব্যস্ত সমাজপতিরা। মাদার এলেন। ঢাকার বুকে ৫টি বাড়ি ভাড়া নিয়ে খুললেন বীরাঙ্গনাদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অব্রে মেনেন জুন-জুলাই '৭২ নাগাদ এসেছিলেন এদেশে। তার সাড়াজাগানিয়া আর্টিকেল 'দ্য রেপ অব বাংলাদেশ' বেরিয়েছিল ২৩ জুলাই '৭২। বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছিলেন তিনি। কথা বলেছেন মাদারের সাথেও। কলকাতায় তার আশ্রমে গিয়েছিলেন। প্রাসঙ্গিক খানিকটা তুলে দিচ্ছি মেনেনের বয়ানে

'... ফ্যাকাশে নীল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে তার সহকারীরা আসছেন যাচ্ছেন। আমার সঙ্গে কথাও বলছেন কেউ কেউ। খানিকপর আমার ঠিক পেছনে একজনের নিঃশব্দ উপস্থিতি টের পেলাম। পোশাক দেখে ভাবলাম উনিও মাদারের সহকারীদের একজন। বেটেখাটো একজন মহিলা। তাকালাম তার দিকে। নির্দিষ্ট করে বললে তার চোখের দিকে। বুঝে ফেললাম তার পরিচয়।

মধ্যবয়সী। চেহারায় রুক্ষ একটা ছাপ পড়েছে। কিন্তু চোখদুটো যুবতী। মায়া মায়া, খানিকটা কৌতুকমাখা। পোপ জন ও মহাত্মা গান্ধীরই ওমন চোখ দেখেছি আমি।

মাদার কলকাতায় তার মিশন শুরু করেছিলেন অবহেলিত বয়স্কদের নিয়ে। সংসার ও স্বজন যাদের বোঝা ভেবে ত্যাগ করেছে। শেষ বয়সে এসে মাদারের কোলেই পরম আশ্রয় পেয়েছেন তারা। পরোপকার ও জনসেবার এই মহান ব্রতই তাকে গোটা ভারতে কিংবদন্তীর মর্যাদা দিয়েছে।

বাংলাদেশের (স্বাধীনতা যুদ্ধে) ধর্ষিতাদের উদ্ধারকল্পে তারই অবদান প্রথম- আমার এই স্তুতিটা হেলায় পাশ কাটালেন মাদার। 'হাজার হাজার মানুষ ওখানে কাজ করছে এখন'। খুব শান্ত গলায় বললেন। তারপর অবাক করে দিয়েই যোগ করলেন, 'একদিক থেকে ব্যাপারটা ভালো হয়েছে। বাঙালীরা জাতি হিসেবে খুবই দয়ালু। ওটাই তাদের মজ্জাগত। এই ঘটনাটা তাদের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে। এর দরকার ছিল। এখন তারা গা ঝাড়া দিয়েছে। শ'য়ে শ'য়ে মেয়ে-পুরুষ এগিয়ে আসছে সাহায্যে। আমার ধারণা স্বজাতের এই ট্রাজেডি তাদের মনোজগত বদলে দিয়েছে। তুমি কি জানো, শত শত তরুণ এগিয়ে এসেছে এই মেয়েদের বিয়ে করতে?'

'মাদার তেরেসা। কেউ কি সত্যি বিয়ে করেছে?' প্রশ্ন করলাম। 'এখনো না। তবে দ্যাখো, এসব মেয়ের বেশিরভাগই গর্ভবতী। বাচ্চা হবে বা হয়েছে। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।'

গর্ভবতী হয়ে পড়া মেয়েদের জন্য বাংলাদেশ সরকার গর্ভপাত কর্মসূচী নিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক সমাজ স্বীকৃত নয়। তবে সমাজ তাদের ঠিক ব্রাত্যও করেনি। বেশিরভাগ শিশুই ভুমিষ্ট হবে। মাদার জানালা দিয়ে বাইরে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। ...'

'
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১২
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×