নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অব্রে মেনেন জুন-জুলাই '৭২ নাগাদ এসেছিলেন এদেশে। তার সাড়াজাগানিয়া আর্টিকেল 'দ্য রেপ অব বাংলাদেশ' বেরিয়েছিল ২৩ জুলাই '৭২। বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছিলেন তিনি। কথা বলেছেন মাদারের সাথেও। কলকাতায় তার আশ্রমে গিয়েছিলেন। প্রাসঙ্গিক খানিকটা তুলে দিচ্ছি মেনেনের বয়ানে
'... ফ্যাকাশে নীল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে তার সহকারীরা আসছেন যাচ্ছেন। আমার সঙ্গে কথাও বলছেন কেউ কেউ। খানিকপর আমার ঠিক পেছনে একজনের নিঃশব্দ উপস্থিতি টের পেলাম। পোশাক দেখে ভাবলাম উনিও মাদারের সহকারীদের একজন। বেটেখাটো একজন মহিলা। তাকালাম তার দিকে। নির্দিষ্ট করে বললে তার চোখের দিকে। বুঝে ফেললাম তার পরিচয়।
মধ্যবয়সী। চেহারায় রুক্ষ একটা ছাপ পড়েছে। কিন্তু চোখদুটো যুবতী। মায়া মায়া, খানিকটা কৌতুকমাখা। পোপ জন ও মহাত্মা গান্ধীরই ওমন চোখ দেখেছি আমি।
মাদার কলকাতায় তার মিশন শুরু করেছিলেন অবহেলিত বয়স্কদের নিয়ে। সংসার ও স্বজন যাদের বোঝা ভেবে ত্যাগ করেছে। শেষ বয়সে এসে মাদারের কোলেই পরম আশ্রয় পেয়েছেন তারা। পরোপকার ও জনসেবার এই মহান ব্রতই তাকে গোটা ভারতে কিংবদন্তীর মর্যাদা দিয়েছে।
বাংলাদেশের (স্বাধীনতা যুদ্ধে) ধর্ষিতাদের উদ্ধারকল্পে তারই অবদান প্রথম- আমার এই স্তুতিটা হেলায় পাশ কাটালেন মাদার। 'হাজার হাজার মানুষ ওখানে কাজ করছে এখন'। খুব শান্ত গলায় বললেন। তারপর অবাক করে দিয়েই যোগ করলেন, 'একদিক থেকে ব্যাপারটা ভালো হয়েছে। বাঙালীরা জাতি হিসেবে খুবই দয়ালু। ওটাই তাদের মজ্জাগত। এই ঘটনাটা তাদের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে। এর দরকার ছিল। এখন তারা গা ঝাড়া দিয়েছে। শ'য়ে শ'য়ে মেয়ে-পুরুষ এগিয়ে আসছে সাহায্যে। আমার ধারণা স্বজাতের এই ট্রাজেডি তাদের মনোজগত বদলে দিয়েছে। তুমি কি জানো, শত শত তরুণ এগিয়ে এসেছে এই মেয়েদের বিয়ে করতে?'
'মাদার তেরেসা। কেউ কি সত্যি বিয়ে করেছে?' প্রশ্ন করলাম। 'এখনো না। তবে দ্যাখো, এসব মেয়ের বেশিরভাগই গর্ভবতী। বাচ্চা হবে বা হয়েছে। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।'
গর্ভবতী হয়ে পড়া মেয়েদের জন্য বাংলাদেশ সরকার গর্ভপাত কর্মসূচী নিয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক সমাজ স্বীকৃত নয়। তবে সমাজ তাদের ঠিক ব্রাত্যও করেনি। বেশিরভাগ শিশুই ভুমিষ্ট হবে। মাদার জানালা দিয়ে বাইরে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। ...'
'
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


