একাত্তরের আগস্ট মাস। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের বাংলাদেশী সহযোগীদের নিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে, লুট করছে সম্পদ, অত্যাচার করছে নিষ্ঠুর ভাবে। শত্রু তাদের এই স্থানীয় দোসরদের নিয়ে গঠন করল রাজাকার বাহিনী। কিছু কিছু প্রাণী আছে যাদের হাত, পা, নাক, মুখ, চোখ, কান, মাথা সবই দেখতে মানুষের মতো; কিন্তু এরা মানুষ নয়, এরা পশু।
এরা এই অত্যাচার, হত্যা, লুটতরাজ করত ইসলাম রক্ষার নামে মিথ্যা কথা বলে। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং ইসলাম নাজিল হয়েছে মানুষের ওপর পশুদের ওপর নয়।....
.... একাত্তরের সেই পশুরা অনেকেই আজো আমাদের মধ্যে আছে। দেখতে এখনো ওরা ভালো মানুষ। কিন্তু পশু তো পশুই। এদের নির্মূল করার যুদ্ধে আমরা জিততে পারিনি। এ ব্যর্থতা আমাদের। আমাদের সন্তানরা কিন্তু পরাজিত হতে পারবে না। তাদের জিততেই হবে। শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, এ দেশ, এ পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্যও। অন্যায় এবং অসত্যের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে হেরে যাবার কোনো অবকাশ নেই। তারা যখন বড় হবে, এই পশুগুলো বেঁচে থাকবে না হয়তো। কিন্তু পরম্পরায় এদের অনুসারী, অনুগামীরা বেঁচে থাকবে। কোনোভাবেই আমাদের সন্তানরা হারতে পারবে না। জিততেই হবে তাদের, কেননা এই যুদ্ধে রানার-আপ নেই, পরাজিত হলে এই পশুরা আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতার ইতিহাস কলঙ্কিত করে ফেলবে। যেদিন আমাদের মৃত্যু ঘণ্টা বাজবে, সেদিন আমাদের যেন চোখে পানি নিয়ে চোখ বন্ধ করতে না হয়। আমরা তাকিয়ে আছি সেই অবিমিশ্র দিগন্তের দিকে।
(জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা : মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া; পৃঃ ৫১-৫৩)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




