somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সময় এসেছে দুষ্ট গরুগুলোকে গোয়ালছাড়া করার

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সালাম জানবেন। আপনি ও আপনার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় একশ দিনেরও বেশী পার করে দিয়েছেন। স্বস্তিভরেই জানছি এত বিঘ্নের পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। বিডিআর বিদ্রোহ ও সুবাদে সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা কোনোমতে হয়তো সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু ঘরের কোণে যে আগুন লেগেছে সেটা নেভানোটা এই মুহূর্তে টপ প্রায়োরিটি হয়ে দাড়িয়েছে।

আমরা খুবই উদ্বেগ নিয়ে দেখছি একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে। একের পর এক ছাত্র সংঘাতে একটি অবশ্যম্ভাবী পক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে ছাত্রলীগ। তার চেয়েও বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে কিছু জায়গায় প্রতিপক্ষও ছাত্রলীগ! কদিন আগেই ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিহত হয়েছে একজন হবু চিকিৎসক। গতকাল একই ঘটনা ঘটলো বরিশাল মেডিকেলে। আধিপত্য বিস্তারের নামে জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে এই যে ভাতৃঘাতি সংঘর্ষে জড়ানো- এতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চরম অবমাননা হয়। কারণ যে ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলো, তার ছিটেফোটাও ধারণ করে না এইসব ছাত্র নামধারী গুন্ডারা।

ছাত্রলীগের একসময়কার একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেই আমার জানা আছে এই অন্তঃকোন্দলের ইতিহাস। নব্বই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছিলো গোপালগঞ্জ, বরিশাল এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড গ্রুপ। আর তাতে ইন্ধন জুগিয়ে গেছেন যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একদল নেতা। চট্টগ্রামে আখতারুজ্জামান বাবু ও মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত ছাত্রলীগের রক্তারক্তির ছিটে আমারও হাতে লেগেছে। শিবির অধ্যুষিত চট্টগ্রাম কলেজ ও প্যারেড গ্রাউন্ডের সামনে দিয়ে আমরা নিরাপদেই চলাফেরা করেছি। কিন্তু ওআর নিজাম রোডের আশেপাশে যাওয়া ছিলো নিষিদ্ধ। জেলাভিত্তিক ও নেতাভিত্তিক এই গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে সমস্যা করে স্থানীয় ও বহিরাগত বিভেদ। লোকাল ছেলে সে যতই অপগন্ড হোক, তাকেই নেতা করতে হবে- এই অহমের লড়াই আমার জানা মতে দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দলকে টুকরো করে দিচ্ছে।

একজন ছাত্র যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং রাজনীতিতে আসতে চায় কিংবা রাজনৈতিক চর্চা করতে চায়, তাহলে তার আদর্শ হওয়া উচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। কিন্তু সে শর্ত স্বাধীনতার পর কোনো কালেই পালন করতে পারেনি তারা। এই যে আধিপত্যের লড়াই, তা নিতান্তই চাদাবাজি ও টেন্ডারের বখরার জন্যে। ডাইনিংয়ে ফাও খাওয়ার জন্য। অনুগতদের চিরকুট লিখে মার্কেটে পাঠিয়ে ইচ্ছেমতো জামা-জুতো নিয়ে আসার তাগদের জন্য। পরীক্ষায় পাসের জন্য লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই, সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষককে ফোনে হুমকি দিলেই হয়ে যায়। এই যে লোভনীয় সব প্রাপ্তি একজন হালের ছাত্রনেতার জন্য বরাদ্দ থাকে, সেটার জন্যই এই মরিয়াপনা। আমরা এও দেখেছি কোনো কোনো ছাত্রনেতার ছেলেপুলেও একই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র হয়ে আসে, কিন্তু নেতার আসন টলে না। বখরা কমে না। এসব বন্ধ করুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।


আপনি অভিমান করে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন। কিন্তু তার থোড়াই পরোয়া করে এরা। সেদিন আপনার এক মন্ত্রী তো বলেই ফেললেন, নেত্রী যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তখন এই ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি একটা মিছিল আয়োজন করতে। আর এখন তাদের দাপটে টেকা দায়। এটা অতীব সত্য কথন। তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তাতে বিষফোড়ার মতো হয়ে দাড়িয়েছে ছাত্রলীগ। সময় এসেছে শল্য চিকিৎসার। আর তা দক্ষ কিন্তু নির্মম হাতে আপনাকেই করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে না নামিয়ে বরং আপনারি সাংসদদের বলুন তাদের নির্বাচনী এলাকাগুলোয় ছাত্রলীগকে নিয়ে বসতে। তারপর ঝামেলাবাজদের চিরতরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করুন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ে আসুন একদম নতুন মুখ। প্রতিবাদ করলে সরাসরি বহিষ্কার। এসব দুষ্ট গরুই প্রকারান্তরে পিঠে ছুরি মারছে আওয়ামী লীগের। যারা ধান্দা ছাড়া আর কোনো মানেই জানে না রাজনীতির। যদি প্রতিটি জেলায় একশ জনে শুধু দশজন জেনুইন ছাত্রলীগ পাওয়া যায়, তাদের নিয়েই এগিয়ে যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

যেভাবে ঘটনা ঘটছে তাতে সরকারের পতনের জন্য বিরোধী দলের প্রয়োজন হবে না। দখলদারি, খুন-জখম করে দেশটা অচল করে দেবে এই সব কুলাঙ্গাররা। সময় থাকতে ঠেকান প্রধানমন্ত্রী, কঠোর হাতে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
২৪টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিঠে কোদাল, হাতে মোবাইল

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৪



শীতের সকাল।
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ,
পিঠে কোদাল, হাতে সময়—
মাটি আর মানুষের প্রতিদিনের নিরব সংলাপ।

বগুড়া, ২০২৬। ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×