somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণমাধ্যম কর্মীর দায় মুক্তির প্রার্থনা ( বিশ্বজিতকে দেখিয়ে দেন এক গনমাধ্যম কর্মী)

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিচয় বিসর্জনের কথা নানা সময়ে বলেছি। বার্তা কক্ষে, সহকর্মীদের আড্ডায় লজ্জা ও বিরক্তি থেকে বহুবার উচ্চারণ করেছি, সাংবাদিকতা থেকে অবসরে যাওয়ার। বলেছি, এখন সময় এসেছে শহীদ মিনারে গিয়ে সমমনাদের একযোগে সাংবাদিকতা ত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার।

আমার আহবানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন কোনো কোনো সমমনা সহকর্মী। সমমনা তারাই, যারা সাংবাদিকতাকে নষ্ট হতে দেখে লজ্জায় কুঁকড়ে উঠি। কোনো সাংবাদিককে অনৈতিক কাজে জড়িত দেখে ঘৃণায় মুখ সরিয়ে নেই। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরাও যখন পুরোনোদের দেখানো নষ্ট সাংবাদিকতার পথে পা বাড়ান, তখনও হতাশায় নিমজ্জিত হই।

ইদানিং এই হতাশায় ডুবে যাওয়ার উপলক্ষ ঘটছে হরদম। সাধারণ, পাঠক, দর্শকের কাছে নতজানু হয়েই থাকতে হচ্ছে বেশিরভাগ সময়। এখনো যেমন নতজানু হয়েই আছি।

এখন বলতে বিশ্বজিৎ দাশ হত্যার পর থেকে।

রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় ছাত্রলীগ তাদের হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে তাড়া করে হরতাল সমর্থকদের। সেই তাড়া করতে গিয়েই বিশ্বজিৎকে শিকারে পরিণত করা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি, দর্জির কাজ করা বিশ্বজিৎ দাস তার বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়েন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকেই লক্ষ্যে পরিণত করেন।

পরবর্তীতে একটি প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানতে পারে, একজন গণমাধ্যম কর্মীই সেদিন (৯ ডিসেম্বর) ছাত্রলীগের ক্যাডারদের কাছে বিশ্বজিৎকে চিহ্নিত করিয়ে দিয়েছিলেন। এই অনুসন্ধানের ফলাফল পত্রিকার পাতায় আসেনি।

কিন্তু ওই পত্রিকারই একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১০ ডিসেম্বর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ছিল এরকম- বিশ্বজিৎ নামের এ ছেলেটিকে পিটিয়ে মারতে টেলিভিশনের এক সাংবাদিক উস্কানি দিয়েছেন। ওই সাংবাদিকই নাকি বিশ্বজিত্কে ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখিয়ে দেন। আমার প্রিয় সহকর্মী তার অনুসন্ধানে এটা পেয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কোথায় যাচ্ছে?

ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটি আসার পর গণমাধ্যম কর্মী ছাড়াও সাধারণ অনেক পাঠক-দর্শকও সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদার আচরণ নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন। মন্তব্য করেছেন। ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা। আর মন্তব্যগুলোর সঙ্গেও আমার দ্বিমত করার দুঃসাহস নেই।

দৈনিক পত্রিকাটির সাংবাদিক তার অনুসন্ধানে একটি প্রতিষ্ঠিত টেলিভিশন চ্যানেলের রিপোর্টারের নাম জেনেছেন। তার অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল নই। তাই আসলেই ওই টেলিভিশনের রিপোর্টার সত্যিই বিশ্বজি‍কে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কিনা, তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

আমি আসলে অনেক দু:সংবাদের মতোই এই খবরটিকেও অবিশ্বাস করতে চাই। কারণ, অবিশ্বাস না করলে যে আমাদের অস্তিত্বই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

তবে আমি একথা বিশ্বাস করি, ভালো ছবি ও ফুটেজের স্বার্থে ইদানিং গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই পিকেটারদের উস্কানি দিচ্ছেন। কারণ, ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া যতো জমজমাট হবে, ছবিও হবে ততোই ফাটাফাটি। তাই পিকেটাররা যখন পিকেটিং করে লুকিয়ে পড়েন, তখন তাদের লুকিয়ে পড়ার পথটিও কোনো কোনো সময় সংবাদ কর্মীরা দেখিয়ে দেন অতি উৎসাহী হয়ে। স্বার্থ হলো, পুলিশ যদি তখন গিয়ে পিকেটারদের ওপর চড়াও হয়, তাহলে ফুটেজটা ভালো হবে।

এ প্রবণতাটি আমি যখন মাঠে রিপোর্টিংয়ে ছিলাম, তখনো দেখেছি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, বাম দল, জাতীয় পার্টির ডাকা হরতালের সময়ে দুই-একজন সাংবাদিক বন্ধুর মধ্যে এ আচরণ দেখেছি। কেউ হয়তো ককটেল মেরে বা রিকশা উল্টিয়ে সাধারণের সঙ্গে মিশে গেছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের কেউ কেউ পুলিশ ডেকে তাকে দেখিয়ে দিচ্ছেন। এ দলে আগে ছিলেন এক-দুই জন। এখন গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও দলভারী হয়েছে।

মাঠে থাকা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো, যা ঘটছে তারই ছবি বা তথ্য নেওয়া। তার কোনো নৈতিক অধিকার বা দায়িত্ব নেই কোনো একটি পক্ষের হয়ে কাজ করার। পিকেটারকে দেখিয়ে দেওয়া বা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়টিও তার নয়। কিন্তু ভালো ছবি, গরম ছবি দিয়ে মাত করার লালসায় আমরা, আমাদের সহকর্মীরা অন্ধ হয়ে যাচ্ছি। সরে যাচ্ছি পেশাদার অবস্থান থেকে। আর ক্রমশ নতজানু হয়ে পড়ছে আমাদের বিবেক।

যদি বিশ্বজিতের হত্যার সঙ্গে সত্যিই কোনো গণমাধ্যম কর্মীর সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে আসুন আমরা সেই গণমাধ্যম কর্মীকে বর্জন করি। না হলে ওই পাপের ভাগীদার হবো আমরাও।

আসুন দায়মুক্ত হই।
Click This Link this link]

৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদির হত্যাকান্ড ও সরকারের পরবর্তি করণীয়!

লিখেছেন আহলান, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৫১

হাদির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সে দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষকে ইনসাফের জীবন এনে দিতে সংগ্রাম করেছে। তাকে বাঁচতে দিলো না খুনিরা। অনেক দিন ধরেই তাকে ফোনে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে এসেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মব রাজ্যে উত্তেজনা: হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪২

রোম যখন পুড়ছিল নিরো নাকি তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল; গতরাতের ঘটনায় ইউনুস কে কি বাংলার নিরো বলা যায়?



বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদটি সবসময় ছিল চ্যালেঞ্জিং।‌ "আল্লাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টেরিম সরকারের শেষদিন : গঠিত হতে যাচ্ছে বিপ্লবী সরকার ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:২২


ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়াকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্তঃদেশীয় প্রকল্পটা সফল হতে অনেক দিন লেগে গিয়েছিল। বাংলাদেশে সে তুলনায় সংশ্লিষ্ট শক্তিসমূহের সফলতা স্বল্প সময়ে অনেক ভালো। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার, ‘রাষ্ট্র’... ...বাকিটুকু পড়ুন

মব সন্ত্রাস, আগুন ও ব্লাসফেমি: হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৩:৫২


ময়মনসিংহে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন মানুষকে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মধ্যযুগীয় এই ঘটনা এই বার্তা দেয় যে, জঙ্গিরা মবতন্ত্রের মাধ্যমে ব্লাসফেমি ও শরিয়া কার্যকর করে ফেলেছে। এখন তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতার নামে মব সন্ত্রাস

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪




ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত।


দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মের নাম ব্যবহার করে সংঘটিত দলবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তৌহিদি জনতা পরিচয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×