প্রথম আলোর আজকের বহুল পঠিত ও আলোচিত একটি সংবাদ হচ্ছে "যে আগাইবা, তারে ধরে আগুনে ফেলব"। এর আগে যারা সিলেটের বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে যাত্রী মেরে ফেলার রোমহর্ষক ছবিটি প্রথম আলো-র সংবাদে দেখেছেন, তাদের যে কারোরই শরীর গুলিয়ে উঠার কথা ছবিটি দেখে। তারপর দুর্বৃত্তদের এই হুমকি শুনে নিজের ভিতরের রাগ সামলানো অনেক মুশকিল হয়ে যায়। তার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে সংবাদটিতে আমার দেয়া নিচের মন্তব্যটি বরং অনেক সাদামাটাই বলা যায়।
"বাসে সব মিলিয়ে যাত্রী ছিলো ৫০-৫৫ জন। আর ৫-৬টি মোটর সাইকেলের একেকটিতে ৩ জন করে আসলেও দুর্বৃত্তদের সংখ্যা ২০ ছাড়ানোর কথা না। ওদের হাতে কি পিস্তল বা আধুনিক কোন অস্ত্র ছিলো??? সংবাদে তো লাঠি আর ইট ছাড়া অন্য কিছু পেলাম না। একেকজন দুর্বৃত্তের উপর ২-৩ জন করে ঝাপিয়ে পড়লে তারা কি করতে পারতো? অথচ নিজের জান বাঁচাতে উটপাখির মতো সবাই বালিতে মাথা ঢুকিয়ে নীরবে দেখে গেলো কিভাবে জলজ্যান্ত একজন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো? আজ অপরিচিত একজনকে মরতে দেখে যারা চুপ করে থাকলেন, কাল তাদেরই কারও ভাই, বাবা বা সন্তান এই অবস্থায় পড়বে না তার নিশ্চয়তা কি? নাকি আমরা এভাবেই মুখ বুজে থেকে এইসব অসভ্য জানোয়ারদের নিরাপদে খুনখারাবী করার নিশ্চয়তা দিয়ে যাবো যেন ভবিষ্যতে একাজ করতে তারা আরও বেশি সাহস পায়? কেন আগুনে পোড়ানোর হুমকিদাতাদের কয়েকটাকে ধরে আগুনে ছুড়ে ফেলা হলো না? তাদের হোন্ডাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়া যেতো না? চারপাশে এতো আগুন দেখতে দেখতে আমাদের ভিতরের আগুন কেন এখনও জ্বলে উঠছে না? আর কতোদিন সেই আগুনের অপেক্ষায় থাকবো যেই আগুন আমাদের দেশের শয়তান রাজনীতিবিদদের সাথে সাথে তাদের চামচিকা জানোয়ারগুলোকেও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে সেই ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো নতুন এক সভ্যতার জন্ম দিবে? নাকি আমাদের স্বপ্ন, আমাদের ভবিষ্যত সবই একে একে তুলে দিবো এইসব নরপশুর হাতে?"
উপরের এই মন্তব্যটি করার কিছুক্ষণ পরেই প্রথম আলো সেটা প্রথম প্রকাশ করে, আবার তার কিছুক্ষণ পরেই দেখি যে মন্তব্যের তালিকা থেকে এটি গায়েব! আরেহ, মন্তব্য যদি প্রকাশের অনুপযোগীই হতো, তাহলে এটা প্রকাশই বা করা হলো কেন? আর প্রকাশ করার মতো হয়ে থাকলে সেটা আবার পরে বাতিলই বা করা হলো কেন? প্রথম আলোর আদৌ কি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে এসবের পিছনে? নাকি মডারেটররা যখন যার যেমন মর্জি হয় তেমন করেই মন্তব্য প্রকাশ বা বাতিল করে থাকেন? প্রথম আলোর মন্তব্য করার নীতিমালার ১২টি নীতির কোনটিই উপরের এই মন্তব্যটি ভঙ্গ করেনি। বরং নীতিমালার ৮ নাম্বার নীতি ভঙ্গ করে এমন মন্তব্য উপরের উল্লেখিত এই সংবাদেই আছে, যেখানে পুরো দেশ ও জাতিকে কেউ গাল দিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবতঃ ইংরেজীতে বলা হয়েছিলো বলেই মডারেটর স্বসম্মানে সেটাকে প্রকাশ করে কৃতার্থ হয়েছে। মন্তব্যটি নিম্নরূপ ছিলোঃ
"২০১১.১২.২০ ০৪:০৬
An example of Barbarian, savage, cruel, uncivilized society. You guys will scavenge each other very soon and extinct. And thats what you deserve."
ক'দিন যাবতই পত্রিকা ও টেলিভিশনে নিয়মিত প্রথম আলো-র স্লোগান দেখি, "উটপাখি নয়, মানুষের জীবন চাই"। সাথের ছবিতে দেখাচ্ছে যে কোন একটি সন্ত্রাসী ঘটনায় আশেপাশের মানুষগুলো উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে নিজের জান বাঁচাতে ব্যস্ত। অদ্ভুত ব্যপার হলো প্রথম আলো আগে নিজেকে বদলে তারপরে অন্যকে বদলানোর লেকচার দিয়ে থাকলেও এখনও নিজেদের উটপাখিসুলভ আচরণই ত্যাগ করতে পারেনি। তাই প্রতিবাদের ভাষা বহনকারী মন্তব্যকে মুছে ফেলে নিজের মাথা বালিতে গুঁজার প্রয়াসে লিপ্ত।
আমি আমার মন্তব্যটি আবারও দিয়েছি এই সংবাদে। এখন অপেক্ষায় আছি দেখার জন্য যে উটপাখি আদৌ বালি থেকে মাথা বের সেটা পুনরায় প্রকাশ করে কিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


