গতকাল রাতভর বৃষ্টি ঝড়েছে। সেটাকে ঠিক বৃষ্টি বলা যাবে কি না বুঝতে পারছিনা। মুষলধার বৃষ্টি বা ইলশেগুরি বৃষ্টি- এর কোনটা দিয়েই একে বুঝানো যাবে না। এর আগে কখনো এমন বৃষ্টি দেখিনিতো, তাই বুঝে ওঠতে পারছিনা কি ভাবে বর্ণনা করব একে।
হালকা কুয়াশার মত অস্পষ্ট (তবে কুয়াশার মত ঘন নয়) মেঘের চাদর বলাটাই মনে হয় সব চেয়ে উপযুক্ত হবে। গায়ে লাগলে শীতল একটা স্পর্শ নিউরণ বেয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ভিজে যায় মুহুর্তে। তবে শীত বোধটা তেমন প্রকট মনে হয় না। এমন ধরণের অদ্ভুত এক বৃষ্টি বৃষ্টি খেলা চলছে সেই রাত থেকেই।
দিনের আলোয় চারদিক জেগে ওঠছে ধীরে ধীরে। আমার এপার্টমেন্টটা যেখানে, সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে তার উচ্চতা কত হবে আমার হিসাবের খাতার সেটা নেই। তবে একটু দূরের পাহাড়গুলোর গায়ে জড়িয়ে থাকা মেঘ মালা দেখে অনুমান করা কষ্টকর হয় না যে এখানটা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় কয়েক হাজার ফুট উচুতে। এত উচ্চতায় বাইরের বৃষ্টি বৃষ্টি খেলাটা যে মেঘেরই, সেটা বুঝতে আমার একটু সময় লেগেছিল বইকি।
ইউনি থেকে কিছুদিন পরপর প্রায়-ই কিছু সুন্দর সুন্দর স্পটে ঘুরাতে নিয়ে যায়। কখনো সেই স্পটটা হয় মাত্র এক ঘন্টার। আবার কখনো সেটা কয়েক ঘন্টার ও হয়। আর এই ট্রিপগুলো কেবল বিদেশী স্টুডেন্টদের জন্যই হয়ে থাকে। কোন জাপানী স্টুডেন্ট থাকেনা। সম্পূর্ণ ফ্রী এই ট্যুরগুলো আমার মত বিদেশী স্টুডেন্টরা খুব এনজয় করে।
আজ তেমনই একটা ট্রিপ। গন্তব্য গিফু। কানাজাওয়া থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার বাস জার্নি। সকাল সাড়ে আটটায় আমাদের বাস ছাড়বে। আমি একা মানুষ। তবে সহযাত্রী হিসাবে পলাশ ভাই এবং সারা ভাবী আছেন। মিজান ভাই-ও এলেন। তবে রত্না ভাবী (মিজান ভাইয়ের বউ) আমাদের সঙ্গী হতে পারলেন না। কারণ, এই ট্রিপে কেবল স্টুডেন্টরাই এলাউড। আর মিজান ভাই ছাত্র হলেও রত্না ভাবী একদম খাটি গৃহিণী। সুতরাং রত্না ভাবীকে মিজান ভাইয়ের চোখ দিয়েই দেখতে হবে "গিফু"র সৌন্দর্য্য।
আমরা ৮ টা ১৫-তেই পৌছে গেলাম ইউনিতে। দুটো বাসে ষাট জন যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে চল্লিশ জনের বেশী হবে বলে মনে হল না। কারণ, অনেকে রেজিষ্ট্রেশান করেও আসেনি। আবার সময় মত না জানতে পারার কারণেও অনেকে আসতে পারেনি। এই যেমন আমার কথাই ধরা যাক না। রেজিষ্ট্রেশন এর ডেডলাইন ছিল ২২ শে জুন। আমি জানতে পারলাম ২৬ তারিখ। মিজান ভাই-এর কাছ থেকে। পরদিন সোজা চলে গেলাম আমাদের ফেকাল্টি অফিসে ইন্টারনেশনাল সেকশনে। সব খুলে বললাম এবং যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করলাম। অনুরোধ করলাম লেট রেজিষ্ট্রেশন করা সম্ভব হলে আমাকে টিম-এ অন্তর্ভূক্ত করে নিতে। অফিস থেকে জানানো হল, ই-মেইলে আমাকে জানানো হবে। আমি আমার ই-মেইল এড্রেস দিয়ে চলে এলাম। তার এক ঘন্টার মধ্যেই আমাকে জানানো হল আমি যেতে পারব।
বাস ছাড়ার কথা ঠিক আটটা ত্রিশ-এ। কিন্তু ছাড়তে ছাড়তে উনচল্লিশ বেজে গেল। জাপানীরাও যে সময়ের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাচ্ছে, টের পেলাম। ধীরে ধীরে বাস চলতে শুরু করল। দুই পাশে সবুজ পাহাড় রেখে ছোট্র উপত্যকার মাঝখান দিয়ে একে বেকে চলা মসৃণ পথে। (চলবে)
পাহাড়ে হেলান দিয়ে...... মেঘ ঘুমায় ঐ।।। (পর্ব-১)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তুমি অমর দিশারী

তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;
তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন
অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন
Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।
বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।