দুইঃ
দু'টো বাসের মধ্যে আমাদেরটি আগে আগে চলছিল। শহরকে পাশ কাটিয়ে বাইপাস হয়ে হাইওয়ে ধরবে। বাইপাসটি নতুন হয়েছে। এখনো সিমেন্টের গন্ধ লেগে আছে। ঝকঝকে তকতকে। পাঁচ মিনিট চলার পরেই একটা টানেল পরে। আধা কিলোমিটার হবে হয়তো। টানেলটা এর আগেও অনেকবার পার হয়েছি। টানেলের পরে একটা নতুন ইলেক্ট্রনিক্সের মার্কেট হয়েছে। সেখানে চোখ ধাধানো সব ইলেক্ট্রনিক্সের সমাহার। এত তারাতারি জিনিসের মডেল চেন্জ হয়। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বুঝতে পারবেন।
আমি এক বছর আগে যখন এখানে আসি, তখন ৭ মেগা প্রিক্সেলের ডিজিটাল কেমেরাটাই সম্ভবতঃ সব চাইতে আপডেটেড ছিল। এখন সেই মেগাপ্রিক্সেলের অংকটা ১২ তে গিয়ে ঠেকেছে। ভাবতেই অবাক লাগে।
প্রায় ৩৫ মিনিট বাইপাস রোড দিয়ে চলার পর আমাদের গাড়ী হাইওয়েতে গিয়ে ওঠল। জাপানে আসার আগে হাইওয়ে সম্পর্কে অস্পস্ট একটা ধারণা ছিল। কিন্তু সেই অস্পস্ট ধারণাটাও যে ভুল ছিল, এখানে আসার পরে বুঝতে পারলাম। "হাইওয়ে" গুলো শাব্দিক অর্থেই হাইওয়ে। শহরের রাস্তাগুলো থেকে হাইওয়েগুলো আসলেই অনেক উচু। এখানকার হাইওয়েগুলো সাধারণতঃ চার লেনের। তবে আমেরিকার হাইওয়েগুলো আরো অনেক বেশী লেনের হয়।
আমাদের বাস হাইওয়ে ধরে ঘন্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে চলতে থাকল। হাইওয়েটা জাপান সাগর কে ডানে রেখে একদম সাগরের তীর ঘেষে এগিয়ে গেল রেখার মত। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সাগরের গর্জন শুনতে পেলাম। বিশাল বিশাল কঙ্ক্রীটের ব্লক ফেলে সাগরের দানব শক্তির ঢেউগুলোকে সামলানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ঢেউগুলো সেই কঙ্ক্রীটের ব্লকে প্রবল আক্রোশে আছড়ে পড়ছে। আছড়ে পড়া ঢেউয়ের দু'একফোটা জল এসে বাসের স্বচ্ছ কাঁচে মুক্তার দানার মত বসে আছে। এভাবে প্রায় আধঘন্টা আমাদের বাস সাগরের তীর ঘেসে ছুটে চলল। আমি জানালার পর্দা সরিয়ে সাগরের ঢেয়ের আছড়ে পড়া দেখলাম। মৃদু বাতাসে পাইন আর ঝাউ গাছগুলোর দুলোনি দেখলাম। মনে হল, এই অনন্ত জলরাশির একটা প্রান্ত গিয়ে আমার বাংলাদেশের সৈকতে ও তো আছড়ে পড়ছে ঠিক এভাবেই।
তারপর আমাদের বাস সাগরের পাড়েই একটা হাইওয়ে রেষ্টোরেন্টে থামল। আমাদের গাইড (সম্ভবতঃ ইউনিরই কোন ষ্টাফ হবে) মাইকে ঘোষণা করলেন, এখানে বাস ১০ মিনিটের জন্য স্টে করবে। এরই মধ্যে কারো রিফ্রেসমেন্ট-এর দরকার হলে সারতে হবে। বাসের সবাই নেমে পড়ল ঝটপট। আমরাও নামলাম যথারীতি। এত কাছে এসেও জাপান সাগরের বাতাসের অক্সিজেন রক্ত কনিকায় ভরে না নিলে কিছু একটা মিস করব।
সুন্দর ঝকঝকে আবহাওয়া। সাগরের ঝিরিঝিরি বাতাসে চুলগুলো কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল বারবার। মিজান ভাই আর পলাশ ভাই সিগারেট ধরালেন। আমি আর সারা ভাবি একটু পায়চারি করে অবশেষে সবাই গাড়ীতে ফিরে এলাম সময় মত। মিজান ভাই আমাদের সবাইকে আইসক্রীম খাওয়ালেন। (চলবে)
পাহাড়ে হেলান দিয়ে...... মেঘ ঘুমায় ঐ।।। (পর্ব-২)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।