somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে হেলান দিয়ে...... মেঘ ঘুমায় ঐ।।। (পর্ব-২)

০৩ রা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুইঃ

দু'টো বাসের মধ্যে আমাদেরটি আগে আগে চলছিল। শহরকে পাশ কাটিয়ে বাইপাস হয়ে হাইওয়ে ধরবে। বাইপাসটি নতুন হয়েছে। এখনো সিমেন্টের গন্ধ লেগে আছে। ঝকঝকে তকতকে। পাঁচ মিনিট চলার পরেই একটা টানেল পরে। আধা কিলোমিটার হবে হয়তো। টানেলটা এর আগেও অনেকবার পার হয়েছি। টানেলের পরে একটা নতুন ইলেক্ট্রনিক্সের মার্কেট হয়েছে। সেখানে চোখ ধাধানো সব ইলেক্ট্রনিক্সের সমাহার। এত তারাতারি জিনিসের মডেল চেন্জ হয়। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বুঝতে পারবেন।

আমি এক বছর আগে যখন এখানে আসি, তখন ৭ মেগা প্রিক্সেলের ডিজিটাল কেমেরাটাই সম্ভবতঃ সব চাইতে আপডেটেড ছিল। এখন সেই মেগাপ্রিক্সেলের অংকটা ১২ তে গিয়ে ঠেকেছে। ভাবতেই অবাক লাগে।

প্রায় ৩৫ মিনিট বাইপাস রোড দিয়ে চলার পর আমাদের গাড়ী হাইওয়েতে গিয়ে ওঠল। জাপানে আসার আগে হাইওয়ে সম্পর্কে অস্পস্ট একটা ধারণা ছিল। কিন্তু সেই অস্পস্ট ধারণাটাও যে ভুল ছিল, এখানে আসার পরে বুঝতে পারলাম। "হাইওয়ে" গুলো শাব্দিক অর্থেই হাইওয়ে। শহরের রাস্তাগুলো থেকে হাইওয়েগুলো আসলেই অনেক উচু। এখানকার হাইওয়েগুলো সাধারণতঃ চার লেনের। তবে আমেরিকার হাইওয়েগুলো আরো অনেক বেশী লেনের হয়।

আমাদের বাস হাইওয়ে ধরে ঘন্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে চলতে থাকল। হাইওয়েটা জাপান সাগর কে ডানে রেখে একদম সাগরের তীর ঘেষে এগিয়ে গেল রেখার মত। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সাগরের গর্জন শুনতে পেলাম। বিশাল বিশাল কঙ্ক্রীটের ব্লক ফেলে সাগরের দানব শক্তির ঢেউগুলোকে সামলানোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ঢেউগুলো সেই কঙ্ক্রীটের ব্লকে প্রবল আক্রোশে আছড়ে পড়ছে। আছড়ে পড়া ঢেউয়ের দু'একফোটা জল এসে বাসের স্বচ্ছ কাঁচে মুক্তার দানার মত বসে আছে। এভাবে প্রায় আধঘন্টা আমাদের বাস সাগরের তীর ঘেসে ছুটে চলল। আমি জানালার পর্দা সরিয়ে সাগরের ঢেয়ের আছড়ে পড়া দেখলাম। মৃদু বাতাসে পাইন আর ঝাউ গাছগুলোর দুলোনি দেখলাম। মনে হল, এই অনন্ত জলরাশির একটা প্রান্ত গিয়ে আমার বাংলাদেশের সৈকতে ও তো আছড়ে পড়ছে ঠিক এভাবেই।

তারপর আমাদের বাস সাগরের পাড়েই একটা হাইওয়ে রেষ্টোরেন্টে থামল। আমাদের গাইড (সম্ভবতঃ ইউনিরই কোন ষ্টাফ হবে) মাইকে ঘোষণা করলেন, এখানে বাস ১০ মিনিটের জন্য স্টে করবে। এরই মধ্যে কারো রিফ্রেসমেন্ট-এর দরকার হলে সারতে হবে। বাসের সবাই নেমে পড়ল ঝটপট। আমরাও নামলাম যথারীতি। এত কাছে এসেও জাপান সাগরের বাতাসের অক্সিজেন রক্ত কনিকায় ভরে না নিলে কিছু একটা মিস করব।

সুন্দর ঝকঝকে আবহাওয়া। সাগরের ঝিরিঝিরি বাতাসে চুলগুলো কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল বারবার। মিজান ভাই আর পলাশ ভাই সিগারেট ধরালেন। আমি আর সারা ভাবি একটু পায়চারি করে অবশেষে সবাই গাড়ীতে ফিরে এলাম সময় মত। মিজান ভাই আমাদের সবাইকে আইসক্রীম খাওয়ালেন। (চলবে)
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×