একটা গল্প। অনেক দিন আগে একটা গ্রাম ছিল। ছোট সেই গ্রামের একদম এক প্রান্তে একটা ছোট্র ঘর। সেই ঘরে ভাল কোন ছাউনিও ছিল না। তালপাতার ছাউনি। বর্ষায় ঘরের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ত। সেই ঘরেই বর্ষার কোন এক তুমুল বৃষ্টির রাতে জন্ম নেয় একটি ছোট্র শিশু। পৃথিবীতে এসেই সে যেটা শুনতে পেয়েছিল, তা ছিল বৃষ্টির তুমুল শব্দ। যা দেখতে পেয়েছিল, সেটা ছিল মাটির ঘরের এককোণে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা কেরোসিনের কুপির লালচে আলো। যা অনুভব করেছিল, তা ছিল মায়ের ছোট্র কোলের অপ্রতুল উষ্ণতা। সেই ছোট্র তালপাতার ছাউনির শান্তির কুড়ে ঘরেই সে বেড়ে উঠতে থাকল ছোট্র গ্রামের পরিশুদ্ধ বাতাসের নিঃশ্বাসে। তার মা বাবা অন্ততঃ দু'বেলা খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারতেন। ছোট্র গ্রামের মেঠো পথ দাপিয়ে বেড়ানো সেই ছোট্র ছেলেটি একদিন কি ভাবে যেন অনেক বড় হয়ে গেল। মনে এবং দেহে। তার ছোট্র মনটাও বড় হয়ে গেল। বড় বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। তালপাতার ছাউনির নীচে ইটের দালান।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পেড়িয়ে কখন যে সে অনেক বড় হয়ে গেল, টেরই পেলনা। এই পথ পরিক্রমায় তার অনেক না হোক কিছু খুব ভাল বন্ধু জুটে গেল। কিন্তু তার সে সব বন্ধুরা তাকে বেশী দিন আটকে রাখতে পারল না তাদের মাঝে। সবাইকে ছেড়ে উড়াল দিল মুক্ত আকাশে। সাত সাগর পাড়ি দিয়ে কোন ভিন দেশে, ভিন পরিবেশে। ভিন্ন মানুষ, আকাশ ছুয়া ঐশ্যর্য, প্রাচুর্য্যের মাঝেও সে কি যেন খুঁজে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। কি এক অপর্ণূতা তাকে অস্থির করে রাখে। ভিন্ন মানুষের ভীরেও সে যেন কাদের খুঁজে ফেরে। কিছু চেনা মখু তাকে বার বার অতীতের কিছু মধুর সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
গল্পটা শেষ হল না। ...................
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৯