বেশ অনেক বছর আগের কথা। ঢাকা তখনো এত ভীড়ে ভারাক্রান্ত হয়নাই। বায়তুল মোকাররম মসজিদ বাসার বেশ কাছে ছিল তাই আমরা তিন ভাই সেখানে যাইতাম জুম্মার নামাজ পড়তে। আমি তখন ৬/৭ এ পড়ি। বায়তুল মোকাররম আমাকে আকর্ষন করত যে বিশেষ কারনে তা হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরী। নামাজ শেষে চট করে চলে যেতাম সেখানে। কত বই! আমার মনে আছে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের "কপট্রনিক সুখ দু:খ" বইটা আমি ওখানেই প্রথম পড়ি। (এখন কি তারা এই ধরনের বই রাখে?) গল্পের বই পড়ার তীব্র নেশায় প্রতি শুক্রবারই যেতাম। কোন বই শুরু করে চলে আসবার সময় কোন এক চিপায় সেটি রেখে আসতাম যাতে পরের সপ্তাহে সেটি আবার পাই।
তো এই রকম কিছুদিন চলার পর একদিন সেই লাইব্রেরীতে কাজ করে এরকম একটা লোক আমাকে ডেকে অনেক দারুন দারুন কথা বললো। আমার জ্ঞানের তৃষ্না দেখে সে মুগ্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বাসার ঠিকানা নিলো, বাবা কি করে, কখন কখন বাসায় থাকে এইসব তথ্য নিলো। আরো অনেক কিছু বালছাল বলল- এখন আর মনে নাই।
তারপর যখনি আমি যাই আমার অনেক অনেক প্রশংসা করে, অনেকের সাথে ভাল ছেলে বইলা পরিচয় করায়া দেয়।
একদিন স্কুল থিকা ফিরা বাসায় খেলাধুলা করতাছি, হঠাৎ কলিংবেল। খুইলা দেখি ঐ ভাইজান আসছে আমার জন্যে অনেক উপহার নিয়া। অনেক বই, ম্যাগাজিন এইসব। অনেক গুলায় লেখা ইসলামী ছাত্র শিবির। আমি তো মহা খুশি, কত্ত বই। কিছুক্ষন কিসব বালছাল উপদেশ দিয়া সে চইলা গেল।
আব্বা বাসায় ফিরা বইগুলা দেইখা আমারে জিগায় কে দিছি। আমি কইলাম একটা খুব ভাললোক বাসায় আইসা দিয়া গেছে। আব্বা কয় আইচ্ছা! আগামী সপ্তায় দেখা হইলে তারে বইল আব্বা তার সাথে কথা কইতে চায়।
পরের শুক্রবার তো আমার দাওয়াত পাইয়া সে মহাখুশি। পরেরদিন কিসের জানি বন্ধ ছিল, সে আইসা উপস্থিত। আব্বা কয় আইছেন, বসেন। সে বসতেই পারেনই ঠিকমত হঠাৎ আব্বার হুংকার। বেটা রাজাকারের বংশধর, ফাইজলামির আর জায়গা পাওনা। আর কোনদিন যদি আমার বাড়ির আশেপাশে দেখি বা আমার ছেলের সাথে কথা বলার চেষ্টা কর, তাইলে তর টেংরি ভাইংগা দিমু। তার পড়িমড়ি দৌড়ের কথা এখনো ভুলিনাই।
আব্বা তারপরে আমাকে জামাত আর তার বাচ্চা শিবিরের কাহিনী সব কইল আর তাদের থিকা ১০০ হাত দুরে থাকার পরামর্ষ দিল।
আব্বার কাছে আমার হাজারো কৃতগ্ঞতা প্রকাশ করছি শিবিরের বিষাক্ত ছোয়া থেকে আমাকে চিরদিনের জন্য মুক্ত করার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


