somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলা

৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

অনেক দিন আগের কথা। ভালোমত মনেও নেই। নাকি আছে বুঝতে পারছিনা। হ্য়তো বলতে বলতে মনে পড়ে যাবে। এইসব হাবিজাবি আর না বকে সোজা গল্পে চলে যাই নাকি বলেন।

২.

আমি তখন পড়ি গ্রেড সেভেনে। নাকি এইটে? ঐ যেবার ঢাকা বন্যায় ভেসে গেলো- হ্যা হ্যা, গ্রেড এইটই। যা হোক কোন ক্লাসে পড়ি বা না পড়ি সেটা নিয়ে গল্প করতে বসিনি, খামোখা এটা নিয়ে সময় আর নষ্ট না করি। গল্প হলো আমার সহপাঠীকে নিয়ে। বড়লোকের বাচ্চাদের জন্য স্কুল, এক ক্লাশে কজনই ছাত্র। আর প্রথম থেকে একসাথেই পড়ছি প্রায় সবাই। তাই স্কুলের সব সহপাঠীকে আমার এখনও মনে আছে। আর রেহানকে মনে থাকবেনা? মনে রাখার মতন একজন সে তো অবশ্যই। আপনার সাথে এরকম কারো পরিচয় হলে আপনিও ভুলতেন না। আর সবাইকে ভুলে গেলেও ওকে ভোলাটা আসলে সম্ভব না। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল একটা বিশেষ কিছু। আপনারা কি এমন কাউকে দেখেছেন যাকে দেখলে মনে হয় যে ইন করে শার্ট পড়ার মত ভুড়ি ইন করে পড়েছে? আমাদের রেহান ছিল সেরকম একজন। এত বড় ভুড়ি বহন করার উপযুক্ত বিশাল একটা দেহের অধিকারও সে ছিল, আর ছিল বিরাট এক পশ্চাতদেশ। হাজার গজের কাছাকাছি কাপড়ের তৈরি সাদা শার্ট আর ধূসর প্যান্টের স্কুল ড্রেসে শরীরের বাকি বৈশিষ্টগুলো ঢাকাই পড়তো মনে হ্য়।

৩.

প্রতি মংগলবারের জিম ক্লাসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম আমরা সবাই। ক্লাসের শুরুতে সাদা শর্টস, নীল টি শার্ট আর টেনিস শু পড়ে হানিফ টিচারের তত্ত্ব্বাবধানে স্কুলের পিছনের বিশাল খেলার মাঠে আমাদের ক্লাসটা হতো। তিনটা সমান্তরাল লাইনে ভাগ হয়ে প্রথম মিনিট পনের হানিফ টিচারের বাশির তালে তালে নানারকম ব্যয়াম কসরৎ চলতো। তার মাপের জিম ড্রেস ছিলোনা বলে কিনা অথবা বাশির তালে তাল মিলাতে পারতোনা বলে কিনা নাকি অল্প নড়াচড়াতেই হাফিয়ে যেত বলে রেহান কখনো আমাদের সাথে ব্যায়ামে যোগ দিতো না। হানিফ টিচারও হাল ছেড়ে দিয়েছিলো অনেক ছোট ক্লাসেই- রেহানকে কিছুই বলতোনা। সে মাঠের এক কোনে একটা চেয়ারে বসে চুপচাপ তাকিয়ে আমাদের কসরৎ দেখত। ব্যায়াম শেষ হবার পর হানিফ টিচার বলটি ছুড়ে দিলে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত আমাদের মাঝে। জিসান চমৎকার খেলত বলে সে কোন দলে খেলবে এটা নিয়ে ঝগড়া করতে করতে দুটো দল হয়েও যেত একসময়। খেলা শুরু হলে সব ঝগড়াঝাটি ভুলে বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি, ডজ এবং গোল দেয়াদেয়ি শুরু হয়ে যেত। গোল হলে টিভিতে দেখা প্লেয়ারদের মত উদযাপনও বাদ যেতনা। মাঠের চারপাশের বিরাট গাছগুলো কি সত্যি সত্যি গাছ ছিল নাকি আমাদের গোল দেখে মুগ্ধ দর্শক এই মুহুর্তে ঠিক মনে পড়ছেনা। বোধগম্য কারনেই রেহান আমাদের এই ফুটবল খেলায় সরাসরি অংশগ্রহন করতনা। সরাসরি করত না বললাম কারন পরোক্ষ একটি ভুমিকা তার ছিলো। গোলপোষ্টে নেট ছিলোনা বলে মাঝেমধ্যেই গোল হয়েছে কি হ্য়নি এইনিয়ে গোল বেধে যেত। রেহান বসে থাকত এইসব মুহুর্তের জন্যই- তার পক্ষে ছুটে আসা অসম্ভব হলেও প্রায় ছুটে এসেই হড়বড় করে তার মতামত দিত। আমরা মেনেই নিতাম তার মত- এইসব মুহুর্তে তার মুখচোখের ভাব দেখে মনে হত সে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ। এখন যখন সেইসব দিনের কথা ভাবি, তখন মনে হ্য় রেহান নিশ্চই মনে মনে ভাবত আহা আমি যদি ওদের সাথে খেলতে পারতাম! অথবা আমি যদি নিদেনপক্ষে আরেকটু কম মোটা হতাম, তাহলে আমাকে নিয়ে কেউ হাসাহাসি করতনা।

কিন্তু ঐ বয়সে এধরনের চিন্তা কি মাথায় আসে? এত হাস্যকর রকমের মোটা একজন তো হাসাহাসির পাত্র হবেই। বিনামুল্যে এরকম বিনোদনের সুযোগ কে ছাড়ে? সার্কাসে গিয়ে বাঘ ভালুক দেখে যেরকম আনন্দ পেতাম, রেহানের ভোটকু শরীর আমাদের সেরকম আনন্দই প্রায় দিত।

৪.

মংগলবারের ফুটবল খেলা আমাদের যেরকম আনন্দ দিত ঠিক সেরকম না হলেও রেহানকে খোচাখুচি প্রায় তার কাছাকাছি আনন্দই দিত। প্রায়ই দেখা যেত দুটো ক্লাসের মধ্যের ব্রেকে কেউ না কেউ রেহানকে খোচাচ্ছে আর বাকি সবাই পরম আনন্দে হোহো করে হাসছে আর পাচশো মজা লুটছে। এই খোচাখুচির ধরনটা মোটামুটি একই রকম ছিল সবসময়। দেখা যেত কেউ হঠাৎ করে দৌড়ে গিয়ে রেহানের পিঠে ধুম করে একটা কিল বসিয়ে দিয়ে তার খাতা বা কলম টেবিল থেকে তুলে নিয়ে নিরাপদ দুরত্ব্বে দাড়িয়ে বলছে,
"ঐ বেটা ভোটকু! তুই কোন দোকানের চাল খাসরে?"
এরকমটা চলতেই থাকত পরের ক্লাসের টিচার না আসা পর্যন্ত। এ সময় গুলোতে রেহান কি করতো? এভাবে আমাদের বিনোদন দেয়া সে যে উপভোগ করতোনো তা তো আপনারা অবশ্যই বুঝতে পারছেন। কিন্তু ঐ সময়ের আমাদের তাতে কিছু যায় আসেনা। আটোসাটো চেয়ার থেকে উঠে (আমাদের জন্য চেয়ারগুলো অবশ্য যথেষ্টর থেকেও বড় ছিলো) আক্রমনকারীকে ধরাটা অসম্ভব এটা বুঝেই হোক বা রেগে গেলে আমরা আরো বেশী আমোদ পাবো এই অভিগ্গতা থেকেই হোক সে এমন ভাব করতো যে ওখানে সে উপস্হিতই নেই। খুব বেশি হলে মুখে এক চিলতে হাসি একে আমাদের দিকে ফিরে বলত,
"আহা, সমস্যা কি এই ছেলের?"

পিছনের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয় রেহানের চোখে মিনতি ঝরে পড়ত, আমার সাথে এমন করো কেন? ঐ সময়ের আমাদের তাতে কি যায় আসে তাটে? খুব স্ব্বাভাবিক ভাবেই মনে হত রেহান কে জ্ব্বালাতন করে আনন্দ লাভ করাটা আমাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।

৫.

রেহান সবসময়ই চেষ্টা করত অন্যদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে, তা সে ঘুষ দিয়েই হোক বা অন্যভাবে। না চাইতেই বাড়ি থেকে আনা স্যন্ডুইচ বা আপেল, বিদেশ থেকে বাবার এনে দেয়া কলম, প্রিয় খেলোয়াড়ের পোষ্টার এ সব অকাতরে বিলাতো আমাদের মাঝে। কেউ একদিন স্কুলে না এলে তাকে ফোন করে সেদিনের স্কুলের সব ঘটনা, হোমওয়ার্ক এসবের বিশদ বর্ননা দেয়াকে সে নিজের অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব্ব মনে করতো। আমাকে মাঝে মাঝেই কানে কানে বলত গোপন সুত্রে পাওয়া নানান খবর। যেমন কালকে ম্যাথ টিচার সারপ্রাইজ টেষ্ট দেবে, তৈরী থাকিস (সব টিচারের কাছেই সে প্রাইভেট পড়ত তাই সচরাচর তার দেয়া টিপস গুলো ভালোই কাজে লাগত।) এ সবই করত সে আমাদের মন পাওয়ার জন্য কি নিদেনপক্ষে আমাদের ভেতর একটু অপরাধবোধ জাগানোর জন্য যাতে তাকে না জ্ব্বালাই। আমরা বুঝতাম সবই, কিন্তু জলজ্যান্ত একটা মজা হাতের কাছে পেলে কে ছাড়ে বলুন? আপনারা ছাড়তেন? তাই তার ঘুষটুষ কোন প্রভাবই ফেলত না আমাদের ওপর। সে আমাদের বিনোদন দিয়েই যেতে লাগলো।

৬.

এর মাঝে রিটায়ার করে নাকি বরখাস্ত হয়ে নাকি বদলি হয়ে হানিফ টিচার স্কুল থেকে আউট হয়ে গেলেন, ইন হলেন মোবারক টিচার। কানাঘুষায় শুনতে পাই মোবারক টিচার নাকি অনেক কড়া। আগে যে স্কুলে ছিলেন সেখানে অনেক ত্যাড়া ঘাড় সোজা করেছেন। আমাদের হানিফ টিচার সে তুলনায় অনেক নরম ছিলেন। মোবারক টিচারের ভয়েই নাকি হানিফ টিচারকে মিস করেই গোপনে আমরা দুচার ফোটা অশ্রু বিসর্জন যে দেইনি সেটা হলফ করে এখন বলতে পারবো না। মোবারক টিচারের সাথে প্রথম জিম ক্লাসের দিন জিম ড্রেস পড়ে মাঠে দাড়িয়ে আছি আমরা সবাই। কথাও বলছি না নিজেদের মধ্যে, কি জানি কি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য। রেহান আমাদের সাথে নেই, পাশের চেয়ারে বসে আছে যথারীতি, এই ক্লাসে যেরকম সে করে আসছে আবহমান কাল ধরে। মোবারক টিচার এলেন, প্রথমেই তার চোখ পড়ল রেহানের দিকে। তা মোবারক টিচারের আর দোষ কি, আপনারা এতক্ষনে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন এটাই স্ব্বাভাবিক। তার প্রথম কথা,
"এই ছেলে তোমার জিম ড্রেস কোথায়?"
রেহান ভয়ের চোটে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকলো।
"ঠিক আছে, আজকে থাক। পরের দিন থেকে তোমাকে যেন এই অবস্হায় আর না দেখি।"

আমাদের ক্লাস ভালই গেলো। শুধু ঠিকমত ব্যায়াম না করার জন্য রেশাদ কানমলা খেল একবার আর কয়েকজন টুকটাক বকা খেলো। আমরা যেন হাফ ছেড়ে বাচলাম, মোবারক টিচার লোকটা আসলে অতটা খারাপ না। ক্লাশ শেষ হলে আমরা রেহান কে গিয়ে ধরলাম। "কি রে মোটু, জিম ড্রেস তো এবার তোকে পড়তেই হবে, কি করবি?"
কেমন জানি আত্মবিশ্ব্বাসহীন গলায় রেহান বললো, "জ্ব্বী না অত সহজ না, মরে গেলেও আমি জিম ড্রেস পড়বো না। বিশেষ অবস্হায় সব নিয়ম ফলো না করলেও হয়।" রেহান যে আসলেই বিশেষ অবস্হা সেটা নিয়ে আমাদের অবশ্য কোন সন্দেহ ছিল না। তাই ভাবলাম সে হয়তো রেহাই পেয়ে যাবে। তার খাচায় বন্দী পশুর মত অস্হির চোখ দেখে আমরা তাকে খোচাতে ছাড়লাম না অবশ্য।

৭.

পরের মংগলবার আমরা রেডি হয়ে মোবারক টিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু রেহানের কোন দেখা নাই। অবাক হয়ে গেলাম আমরা। রেহান গেল কোথায়। হঠাৎ মুনিরের চিৎকার, "ঐ যে ভোটু"। মাঠের পাশের বিশাল এক গাছের পিছে হাস্যকর ভাবে লুকানোর চেষ্টা করছে রেহান আর কচ্ছপের মত মাঝে মাঝে মাথা বের করে এদিকে দেখছে। অতবড় গাছটাও তাকে পুরোপুরি আড়াল করতে পারছেনা। আমরা হাসিতে ফেটে পড়লাম। মোবারক টিচারের আসবার সময় হওয়ার আগেই আমরা অবশ্য চুপচাপ হয়ে গেলাম। কি জানি বাবা, আমাদের হাসতে দেখলে টিচার যদি আবার রেগে যায়! মোবারক টিচার এসেই বললেন, "এই ছেলে তুমি গাছের পিছনে কি কর। সামনে এস।" রেহান আর কি করে, কিইবা আর করার আছে? অপরাধীর মত মুখ করে টিচারের সামনে দাড়ালো।
"তুমি জিম ড্রেস এনেছ?" রেহান মাথা নেড়ে জানালো এনেছে। আমরা অবাক, এতবড় জিম ড্রেস পাওয়া যায়? "যাও ড্রেস চেন্জ করে এস"- মোবারক টিচার বললো। এটা ছিল "বোম্বশেল অফ দ্যা ইয়ার" যাকে বলে। রেহান আর জিম ড্রেস- হা হা হা- কেমন কম্বিনেসন আপনারা চিন্তা করে দেখুন-হাসি থামাতে পারবেন?

মাথা নিচু করে রেহান চলে গেল চেন্জরুমের দিকে। আর আমাদের অবস্হা তখন অনভিগ্গ শিকারী প্রানীর মত- অধৈর্য হয়ে আছি নিশ্চিত অসহায় নধর শিকারের অপেক্ষায়। চিন্তা করেই হাসি পাচ্ছিল কি দেখব একটু পর, কিন্তু প্রানপন চেষ্টায় হাসি চাপিয়ে রাখছিলাম মোবারক টিচারের ভয়ে। সবার চোখ রেহানের ফেরার পথে। খুব বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হল না, রেহান বের হয়ে এল, এতটাই হাস্যকর দেখাচ্ছিল তাকে যে আমরা হাসতেও ভুলে গেলাম। স্ব্বপ্নেও ভাবিনি এরকম হাস্যকর কিছু থাকতে পারে। চাপা টি শার্ট ফেটে বেরিয়ে আসছে ইয়া বড় দুটি বুক যা দেখলে ইমপ্ল্যানটেড ব্রেস্ট ওয়ালা মেয়েদের ইয়ের কথা অবধারিত ভাবে মনে আসবে (কিছুদিন আগেই রেশাদের বাসায় নীল ছবি দেখার ডেব্যু হয়ে গেছে আমাদের অনেকের), হাটার ছন্দে সামনে পিছনে দুলছে বিরাট ভুড়ি। টাইট শর্টস তার বিরাট পাছাকে ঠিক সমান দুভাগে ভাগ করেছে, ভুড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করে এগুলোও ওঠানামা করছে। মোটের ওপর এরকম কিছু আমরা কখনো দেখিনি বলতে পারেন।

কিরন আর চেপে রাখতে না পেরে খিক করে হেসে উঠতেই যেন বাধ ভেংগে পড়ে। আমরা সবাই হাসতে হাসতে মাটিতে গড়িয়ে পড়লাম, এমনকি রাশভারী মোবারক টিচারের ঠোটের কোনেও হাসি ফুটে উঠতে দেখলাম। হাততালি দিতে দিতে, শিষ দিতে দিতে দৌড়ে গেলাম সবাই রেহানের কাছে, তাকে ঘিরে ধরে চিৎকার করতে থাকলাম আনন্দে সবাই, "রেহান, রেহান!"

রেহান খুব আশ্চর্যজনক ব্যবহার শুরু করলো। সে পাগলের মত হাসতে থাকলো আর এমন ভাব করতে থাকলো যে হাসি থামাতে পারছেনা। তারপর ভুড়ি পাছা এগুলোকে আরো দোলাতে থাকলো। সে বোধহয় চেষ্টা করছিল নিজেকে যতটা সম্ভব হাস্যকর করে তোলা যায়। সে বোধহয় বলতে চাচ্ছিল, "তোরা দেখ আমি এতটাই হাস্যকর যে নিজেও হাসি থামাতে পারছিনা!"

রেহানের এই ব্যবহার আমাদের অনেকটাই থমকে দিলো। রেহানের মেকি হাসি আমাদের ঠাট্টা বিদ্রুপের মজা পুরোটাই মাটি করে দিলো। তার বেদনা আর চাপা কষ্ট ছাড়া আমাদের আনন্দ ছিলো অসম্পুর্ন। আমাদের মজায় এরকম পানি ঢেলে দেয়ায় আমরা পুরো ক্ষেপে গেলাম। এমনকি মোবারক টিচারের ডাক উপেক্ষা করে আমরা রেহানকে খোচাতে লাগলাম, হো হো করে হাসতে লাগলাম তাকে ক্ষেপানোর জন্য। আমরা তাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে থাকলাম। সেই মুহুর্তে আমরা তার চেহারা দেখে হাসছিলাম না, আমরা হাসছিলাম শুধুমাত্র তাকে ব্যথা দেয়ার জন্য, যে খোলসের আবরনে সে তার দুঃখ ঢেকে রেখেছে সেই খোলস ভাংগবার জন্য। কিন্তু রেহান যেন পন করেছে সে কিছুতেই আমাদের কাছে হার মানবে না- সে তার মেকি হাসি হাসতেই থাকলো, তার ভুড়ি পাছা দোলানো আরো বাড়িয়ে দিলো। আমরাও আমাদের আক্রমন বাড়িয়ে দিলাম, যা নয় তা বলতে থাকলাম। হঠাৎ রেশাদ বলে উঠলো, "একটা বাচ্চা এইমুহুর্তে তোকে দেখলে তোর দুধ খেতে চাইবে"। এটা শুনে আমরা পাগলের মত হাসতে থাকলাম, এরকম করে আগে কখনো হাসিনি। ঠিক সেই মুহুর্তে রেহানের প্রতিরোধ ভেংগে পড়ে। আমাদের দিকে এলোপাথারী ঘুষি ছুড়তে লাগলো, কিন্তু কারো গায়েই লাগলোনা। তারপর আমাদের দিকে শুন্যদৃষ্টিতে তাকালো, মুখ ফাক করলো যেন কিছু বলবে। হঠাৎই তার বিশাল মুখ ভেংগেচুড়ে গেলো আর চোখ থেকে নেমে এল অশ্রুর বন্যা।।
--------------------------------------------------------
(আলা আল আসওয়ানী-র "গেমস" গল্পের ছায়া অবলম্বনে। সব চরিত্র কাল্পনিক)








সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৩৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×