২০০৩ এর দিকে হবে ঘটনাটা। আমার বোন, বছর দশেক বয়স, সারাদিন দেখি হ্যারি পটার পড়ে। এমনকি ঘুমের সময়ও মাথার কাছে সেই বই। আমাদের বাসায় মোটামুটি সবাই গল্পের বইএর পাগল, কিন্তু এরকম নেশাগ্রস্ত হতে কাওকে দেখিনাই। তার ওপর ওই গল্প নিয়ে করা সিনেমাটাও আগেই দেখা হয়ে গেছে (চেম্বার অফ সিক্রেটস মনে হয়) । আচ্ছা এমন কি আছে বইটাতে যে আমার ছোট আপুটাকে এরকম মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে, ভাবতে ভাবতে বইটা হাতে তুলে নিলাম
প্রথম সিনেমা দুটো দেখে হ্যারি পটার আর তার যাদুকরী জগতটাকে ভাল লেগেছে কিন্তু বই পড়ার পর আমি সেই জগতের প্রেমে পড়ে গেলাম। হ্যারির সমবয়সী আমার বোনটা হ্যারির সাথেই বড় হতে থাকে আর আমি বুড়ো হতে থাকি। কিন্তু হ্যারি, রন, হারমাইওনি, ডাম্বলডর সহ আরো অনেকের প্রতি ভালবাসা আর স্নেপ, ভল্ডেমরট, বেলাট্রিক্স এদের প্রতি ঘৃনা দিনে দিনে বাড়তেই থাকে। ২০০৭ সালে “হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্যা ডেথলি হ্যালোজ” দিয়ে শেষ হয়ে যায় সিরিজটা। বইটা যেদিন বের হয় সেসময় আমার বোনটা বেড়াতে এসেছিল আমার কাছে। সে কি উত্তেজনা আমাদের! কি হবে শেষমেষ- হ্যারি কি পারবে ভল্ডেমর্টকে মারতে, স্নেপ আসলে কোন দলের?
সিরিজের সিনেমাগুলো বেশ ভালই হয়েছে বলতে হবে। সিনেমাতে চিত্রনাট্যের সার্থে বই এর গল্পকে পু্রোপুরি অনুসরন করা যায়নি, আর বই পড়া না থাকলে সিনেমা পু্রোপুরি বোঝাটাও সমস্যাজনক মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হ্যারি পটার সিরিজটা শিশুতোষ কোন গল্প হয়ে থাকেনি, হয়ে গেছে চিরন্তন গুড ভার্সেস ইভিল জটিল একটি কাহিনী। শেষ দুইতিনটা পার্টতো রীতিমত ডার্ক!
গত ১৫ই জুলাই মুক্তি পেল হ্যারি পটার সিরিজের শেষ মুভি “হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্যা ডেথলি হ্যালোজ-২”। আমার আর তর সইছিল না সিনেমাটা দেখার জন্য। পপকর্ন আর থ্রি-ডি চশমা হাতে নিয়ে ঝটপট ঢুকে গেলাম থিয়েটারে। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট কোথাদিয়ে চলে গেল টেরই পেলামনা। আমার কাছে এই পর্বটাকেই মনে হয়েছে সিরিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ছবি- অভিনয়ে, সংগীতে, সিনেমেটোগ্রাফিতে, গল্প বলাতে- সব কিছুতেই।
বিশেষ করে বলতেই হবে অ্যালেন রিকম্যানের অভিনয় স্নেইপ চরিত্রে- অসামান্য। হ্যারি পটারকে গল্পকারই জিতিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আমার বেশি ভালো লেগেছে রন চরিত্রে রুপার্ট গ্রিন্ট এর অভিনয়।
চমতকার এই সিনেমাতে অনেকগুলো দৃশ্য মনমুগ্ধকর হয়েছে। আলাদা করে বলতে গেলে বলতেই হয় স্নেইপ এর মৃত্যুর্দৃশ্য, পেনসিভ-এ স্নেইপ এর মেমরি দেখা, ভল্ডেমর্ট এর বিরুদ্ধে নেভিল এর রুখে দাঁড়ানোর র্দৃশ্য।
বেচে থাকুক হ্যারি পটার, ভল্ডেমর্ট আর ফিরে না আসুক, এই দোয়াই করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


