somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাদন আর নিশান জেলেদের গলার ফাঁস (প্রকাশিত)

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পদ্মা পাড়ের জেলে কুবেরের সঙ্গে মেঘনা পাড়ের জেলেদের বেশ মিল রয়েছে। প্রিয় নদী দু'হাত খুলে তাদের যতই দিক, দু'পাড়ের জেলেদের ভাগ্য কিন্তু দাদন মহাজনদের কাছেই জিল্ফ্মি। এখন মেঘনায় ডাকাত নেই। নেই জলকর বাহিনী কিন্তু নিশান প্রথা আছে। আছে দাদনের অভিশাপ। প্রতিদিন প্রায় 10 হাজার জেলে নৌকা ইলিশ শিকারে নামে। প্রত্যেক জেলে নৌকাতেই আছে বিভিল্পম্ন রংয়ের নিশান। রুপালি সমঙ্দ ইলিশকে ঘিরে মেঘনার তীর ও চরে যে মাছঘাটগুলো গড়ে উঠেছে তার একটি ঘাটের মালিকও জেলেরা নন। মহাজনরাই ঘাট মালিক। মহাজনের দেওয়া টাকায় তৈরি হয় জাল, নৌকা। মৌসুম এলেই শিকার করা ইলিশ মহাজনের ঘাটে পেঁৗছে দিয়ে কৃতজ্ঞতায় নত হন প্রানস্নিক জেলেরা।
নৌকায় আর মাছঘাটে নিশানের রহস্য খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে চমকপ্রদ কাহিনী। জেলেরা নির্ভয়ে মাছ শিকার করতে পারলেও নিশান আর দাদন এখনো তাদের গলার ফাঁস হয়ে আছে। অফ সিজনে মহাজনরা টাকা দিয়ে জেলেদের বাঁচিয়ে রাখেন। ওই টাকাই 'দাদন' নামে খ্যাত। মেঘনার 90 শতাংশ জেলে দাদনভোগী। যে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেওয়া হয় সেই মহাজনকেই মাছ দিতে হবে দাদনভোগী জেলেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানান, দাদন নেওয়ার ফলে মহাজন যে দাম দেয় সেই দামেই জেলেকে মাছ বিত্রিক্র করে সন্তুষদ্ব থাকতে হয়। দাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিশান। মেঘনা বক্ষে নিশান ছাড়া জেলে নৌকা সহসা চোখে পড়ে না। একেকজন মহাজনের নিশানের রং একেক রকম। প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনার মহাজনী যাদের হাতে তারা হলেন_ মকবুল দফতরী, অপু চৌধুরী, আবদুল গফফার তালুকদার, নজরুল ইসলাম মিলন, খালেক মাঝি, নুর মোহাল্ফ্মদ সরদার, ফারুক খান, সোলায়মান মিয়া প্রমুখ। এর মধ্যে মকবুল দফতরীর নিয়ন্পণাধীন মাছঘাট ও জেলে নৌকার নিশানের রং সাদা, কালো এবং লাল। অপু চৌধুরীর নিশানের রং হলুদ এবং কালো। গফফার তালুকদারের নিশানের রং হলুদ ও লাল। নজরুল ইসলাম মিলনের নিশানের রং লাল, সবুজ ও হলুদ। জেলেরা জানান, 1996 সাল থেকে চালু হয়েছে এ নিশান প্রথা। নিশান ছাড়া মেঘনায় ইলিশ শিকারে যেতে পারেন না জেলেরা। দাদন না নিলেও মহাজনের নিশান নিয়ে মেঘনায় শেল্কল্টার নেয় জেলেরা। বিশিষদ্ব ইলিশ ব্যবসায়ী আবদুল গফফার তালুকদার জানান, অনেক সময় জাল ফেলতে গিয়ে জেলেদের মধ্যে বিবাদ হয়। তখন সালিশ-দরবারের জন্য নিশান দিয়ে জেলেদের চিহিক্রত করা হয়। মেঘনার একাধিক ইলিশ ব্যবসায়ী জানান, বৈশাখ মাসে তারা দাদন দিতে শুরু করেন। 10 হাজার থেকে সর্বোচ্চ 1 লাখ টাকা দাদন দিয়ে থাকেন জেলেদের। মৌসুম এলে জেলেরা ইলিশ দিয়ে ওই দাদনের টাকা শোধ করে। সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, দাদন নেওয়ার ফলে তারা আর মাছের ন্যায্য দাম পান না। মহাজন যে দাম দেন সে দামেই মাছ বিত্রিক্র করতে হয়। দাদনভোগী শত শত জেলে মনে করেন, সরকারের সংশি্নষদ্ব মন্পণালয় প্রতি অফ সিজনে যদি জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ দিত তাহলে জেলেরা মৌসুমে ওই ঋণ শোধ করতে পারত। আর সেক্ষেত্রে প্রানস্নিক জেলেরা পেত ন্যায্যমহৃল্য।




সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮
×