ভাল আছি, আসলে ভাল থাকার চেষ্টা করছি। আরো একটু ভাল থাকার জন্য আমার এই লেখা...মনের কোথাও লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কারো সাথে সেয়ার করতে পারলে ভাল লাগে। তাই একটু লেখার বৃথা চেষ্টা করছি। ভুল হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
বাবা-মার একমাত্র ছেলে আমি। কোন চাহিদা নেই আমার। সবসময় যা পেয়েছি, তাই নিয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি বললে ভুল হবে। ভাল থেকেছি। মাঝে মাঝে কিছু ছোট ছোট ইচ্ছা মনের মধ্যে উঁকি দিত। ইচ্ছাগুলো পূরন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম। অনেক সময় পূরন হয়েও যেত, কিন্তু কিছু অপূর্ন থেকে যেত। সেরকমই একটা অজানা অপূর্নতার কথা আপনাদের জানাচ্ছি...
আমি তখন এম.বি.এ. শেষ বর্ষের ছাত্র। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে, পড়ালেখা করে, এদিক সেদিক ঘোরা-ফেরা করে ভালই সময় কাটছিলো। হঠাৎ করেই একদিন পরিচয় হল আমার বন্ধুর এক কাজিন এর সাথে। দেখতে আসাধারন ছিল না, ছিলনা আহামরি কোন কিছু। ভাল লাগার মত তেমন কোন বৈশিষ্ট ছিল না মেয়েটার মধ্যে। তাই প্রথম দেখায় ভালও লাগে নাই। কিন্তু অনেক ক্ষন কথা হল তার সাথে। শুধুই পরিচয় এবং উলটা পালটা কিছু কথা। তারপর একসময় যে যার বাসায় চলে গেলাম। পরদিন আবার দেখা হল তার সাথে, আমার বন্ধু ওকে আমার সাথে বসিয়ে ক্লাস করতে চলে গেল। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্তেও কথা বলতে হল আবার। সেদিন পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত অনেক কথাই হল। কোথায় যেন মেয়েটার মধ্যে একটা কষ্টের আভাস পেলাম আমি। মনে হল একটু সিমপ্যাথি চলে আসলো মেয়েটার জন্য। আসলে মেয়েটার মা ছিলনা। বাবা থেকেও না থাকার মত। সারাদিন নিজের মত ব্যবসা-বানিজ্য, টাকা-পয়সা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এভাবেই অবহেলিত হয়ে বড় হয়েছে সে। আমার কাছে থেকে আমার মার কথা শুনে কেঁদেই ফেললো। মায়ের আদর সে অনেক ছোট বেলায় হারিয়েছে। "মা" শব্দটা তার জন্য অনেক কষ্টের ছিল। হঠাৎ করেই মাথায় এল, মেয়েটাকে আমার মার সাথে পরিচয় করিয়ে দিব। যদি সে একটু ভাল থাকে। আসলে দুধের সাধ ঘোলে মেটানো যেটাকে বলে। তাই করলাম। শুক্রবার আমি ওকে আর আমার বন্ধুকে বাসায় আসতে বললাম। দুপুরে একসাথে লাঞ্চ করবো। ওরাও রাজি হয়ে গেল। বাসায় গিয়ে মাকে সব খুলে বললাম। সব শুনে মা আমাকে বলল ভালোই করেছিস। তারপর সেই শক্রবার আসলো। ওরা ঠিক সময়েই বাসায় এসেছিল। একসাথে সেদিন অনেক গল্প করেছিলাম। মাও কিছুটা সময় আমাদের দিয়েছিল। কিন্তু একটা ব্যাপার- সেদিন মেয়েটা বেশিরভাগ সময় আমার মার সাথে কাটিঁয়েছিল। ওরা চলে যাওয়ার পর মা আমাকে বলল, মেয়েটা অনেক ভাল, অনেক কষ্ট ওর। মাকে ধরে নাকি অনেক ক্ষন কেঁদেছিল সে। শুনে আমারও অনেক কষ্ট লাগছিলো। যাই হোক একটা সুন্দর সম্পর্ক হয়ে গেল ওর সাথে আমার মার। মাঝে মাঝেই বাসায় আসত, মাকে সময় দিত। মার সাথে বাইরে শপিং এ যেত। আমার সাথে তেমন একটা দেখা হত না। শুধু ফোনে কথা হত। এভাবেই চলল পুরো ১ বছর। আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছিল সে। এর মধ্যে মানসিক ভাবে অনেকটাই কাছে চলে এসেছিলাম মেয়েটার। আমার ইন্টেনশন ছিল এমন যে, মেয়েটা ওর পূরো লাইফে অনেক কষ্ট পেয়েছে। চেষ্টা করে দেখি ওকে একটু ভাল রাখা যায় কিনা। মেয়েটা আমাকে বলত, যতটুকু সময় সে আমার পরিবারের সাথে কাটায়, ততটুকু সময় সে অনেক ভাল থাকে। তাই ওর প্রতি আরো মনোযোগ দিলাম। বুঝতে পারছিলাম হয়তোবা একটু দূর্বল হয়ে পড়ছি ওর প্রতি। এভাবেই কাটছিল আমাদের দিন। তারপর হঠাৎ একদিন মেয়েটার ফোন পেলাম-"আমি আর কখনো তোমাদের বাসায় আসবোনা। তোমাকে আর কখনো ফোন দিবনা, তুমিও দিওনা প্লিজ।" ফোনটা কেটে গেল। আমি তখন মায়ের সাথে বিছানায় শুয়ে কথা বলছিলাম। সাথে সাথে অনেক বার ফোন দিলাম মেয়েটাকে। প্রথম কয়েকবার রিং হয়েছিল, কিন্তু ফোন রিসিভ করে নাই। এরপর মোবাইল বন্ধ...... কষ্ট হচ্ছিল অনেক, চোখের জল আটকে রাখতে পারছিলাম না। মাকেও বললাম। মাও তার মোবাইল থেকে অনেক চেষ্টা করলো। কিন্তু কোন লাভ হল না। নির্বিকার আমি আর আমার মা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। চোখ দিয়ে গড়িয়ে জল পরছিল দুজনেরই। বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। হঠাৎ মাথায় এল- আমার বন্ধুকে ফোন দিলাম। জানতে চাইলাম ওর কথা। সে আমাকে জানালো ১০ মিনিট পর ওর ফ্লাইট। কানাডায় সেটেল হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল কথাটা শুনে। কিন্তু কিছুই করার ছিলনা...
আমার কিন্তু কোন চাহিদা ছিলনা। তারপরও এমন কষ্ট কেন হল তার উত্তর আজও আমি পাই নাই। আজও জানতে পারলাম না, মেয়েটা এভাবে না বলে চলে গেল কেন? আজও অপেক্ষা করছি উত্তরগুলো জানার। জানিনা কখনো সেই সৌভাগ্য হবে কিনা। কিন্তু আজও আমি কষ্ট পাচ্ছি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


