somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাস (পর্ব ০১)

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেল ফোনটার আলোটা অবিরাম জ্বলছে আর নিভছে । সাইলেন্ট করা । তাই আওয়াজ হচ্ছে না । কাল রাত থেকে চলছে ।
আমি জানি কে করেছে । তাই ফোনটা রিসিভ করছি না ।
প্রতিবার ফোনটা এরকম জ্বলছে আর নিভছে আর আমার অভিমান আরো ঘনিভুত হচ্ছে । মিতুর উপর অভিমান আরো প্রবল হচ্ছে ।
ও এমন একটা কাজ কেন করল ?
কেমন করে করতে পারল ?
তাহলে এতো দিন ধরে আমার সাথে কি অভিনয় করেছে ?
আমাকে একটুও বিশ্বাস করেনি ?
আমার ভালবাসাকে একটুও বিশ্বাস করেনি ।
যেখানে ওর ভালবাসার ভিতই নড়বড়ে সেখানে কিভাবে ওকে আপন করে নি ?
ও যতবারই ক্ষমা চাক আমি ওকে কোন দিনই ক্ষমা করবো না । কষ্ট হবে আমার ।
হোক । তবুও ওর সাথে আর না ।
যে আমাকে বিশ্বাস করে না , তার কাছে নয় ।
ফোনটা আবার জ্বলছে নিভছে । এবার ফোনটা রিসিভ করলাম ।
ওপাশ থেকে কান্না জড়িত গলায় মিতু বলল “শুভ প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও । প্লিজ । আমার ভুল হয়ে গেছে । প্লিজ” ।
নিজেকে সামলাই ।
“কি করে মাফ করে দেবো বল ? তুমি আমার ভালবাসাকে ছোট করেছ । সন্দেহ করেছ । অবিশ্বাস করেছ । আর যেখানে বিশ্বাস নেই সেখানে ভালবাসার প্রশ্নই আসে না” ।
“ না । প্লিজ বিশ্বাস কর । আমি এটাকে জাস্ট ফান হিসাবে নিয়ে ছিলাম । বিশ্বাস কর আমি তোমাকে অবিশ্বাস করিনি । তোমার ভালবাসাকে ছোট করি নি” ।
খুব ইচ্ছা করছিল ওর কথা গুলো মেনে নেই । কিন্তু ও যা করেছে আমার সাথে তা কিভাবে ভুলে যাই ।
কিছুতেই না । কোন ভাবেই না ।
আমি বললাম “মিতু আমি রাখি । তুমি আর আমাকে আর ফোন দিবা না” ।
“শুভ শোন .... প্লিজ শোন ....”
আমি ফোন রেখে দিলাম ।
মিতুর সাথে আমার পরিচয় প্রায় এগারো মাসের । ফোনে পরিচয় । প্রথমে টুকটাক কথা । তারপর একে অপরের অনেক কাছে চলে আসা । ও এতো কথা বলতে পারত । ওর এই জিনিসটাই আমার সব থেকে ভাল লাগতো ।
মেয়েরা এতো ছটফটে কেমন করে হয় ? এক সময় ওকে এমন আপন হতে লাগল ওর সাথে একটু কথা না বললে ভাল লাগত না । আমরা প্রায় সারা দিন কথা বলতাম । কত কথা । কথা যেন আর শেষ ই হয় না ।
তারপর একদিন আমাদের দেখা হল । ও বারেবার বলত “যদি আমাকে দেখে তোমার পছন্দ না হয়” ?
আমি বলতাম “যারা কেবল চেহারা দেখে ভালবাসে তাদের ভালবাসা কখনও সত্যি হয় না । আর তোমার উপর আমার টান আছে । ভালবাসা তৈরি হয়েছে । বিশ্বাস তৈরি হয়েছে । চেহারা খুব বেশি ইফেক্ট করবে না” ।
“ তারমানে একটু হলেও ইফেক্ট করবে” !
“মিতু এমন কথা কেন বলছ ? আমার উপর তোমার বিশ্বাস নেই” ?
“আছে তো । কিন্তু আমি তো দেখতে সুন্দর না” ।
“আর একবার এই কথা বলবে না । আমার সুন্দর বউ লাগবে না । ঠিক আছে ! এখন এসব কথা বাদ দাও আর আমাদের সামনের দিন গুলোর কথা ভাবো । ঠিক আছে” ?
“আচ্ছা” ।
ওর সাথে কথা বলে আমার খানিকটা মন খারাপ হয় । তারমানে মিতু দেখতে খুব বেশি সুন্দর না । তো কি হয়েছে ? নিজের মন কে বললাম । এতো দিনে ওর সাথে কথা বলে ওর প্রতি এক অদ্ভুদ টান তৈরি হয়েছে । আর তাছাড়া ওর মনটা অসম্ভব ভাল অসম্ভব নরম । আমি জানি ও আমাকে বিশ্বাস করে । আমি কথনই ওকে কষ্ট দিতে পারবো না ।
পরদিন বিকালে ওর সাথে দেখা করতে গেলাম । যেমনটা ভেবেছিলাম ও দেখতে খুব বেশি সুন্দর না । কিন্তু সত্যি এতে আমার মন একটুও খারাপ হল না । ঐ দিন অনেক কথা বললাম ওর সাথে । এতো কথা বলেছি আমরা কিন্তু আজ আমার আনন্দ লাগছিল বেশি ।
কিন্তু মিতু যেন একটু চুপচাপ ছিল । যা ওর সাথে যায় না । বললাম “চুপ করে আছো কেন ? ফোনে এতো কথা বল আর দেখা হয়ে এই অবস্থা । নাকি আমাকে তোমার পছন্দ হয় নি” ।
মিতু হাসল । “না তা না । আসলে আজ শরীরটা ভাল লাগছে না । আর ঠান্ডা লেগেছে” ।
তাই বলি ফোনে ওর কণ্ঠ টা একটু অন্য রকম লাগতো । যাগ্গে !
“তাহলে কি চলে যাবা এখন” ?
“ হু । আজ যাই ? আবার দেখা করবো” ।
আচ্ছা এবার থেকেতো দেখা হবেই । “মিতু একটা কথা বলবো”?
“বল” ?
“তোমার সাথে রিক্সায় চড়ার খুব শখ আমার । তোমার হল পর্যন্ত তোমাকে পৌছে দিয়ে আসি” ?
“এতো কষ্ট করবে ? তোমার বাসা একেবারে উল্টো দিকে । এবার যখন দেখা হবে সেদিন ঘুরবো । ঠিক আছে” ?
মনটা খারাপ করেই বললাম “ঠিক আছে” ।
মিতু চলে গেল । ওর রিক্সাটা যতক্ষন দেখা যায় তাকিয়ে ছিলাম । মনে হচ্ছিল ও পিছন ফিরে তাকাবে । কিন্তু তাকালো না । মনটা খারাপই হল খানিকটা ।
রাতে ফোন দিলাম । “সোনাপাখির শরীর কেমন এখন” ?
ওপাশ থেকে কোন আওয়াজ এল না । খানিক বাবে মনে হল যেন কান্নার আওয়াজ পেলাম ।
“মিতু তুমি কি কাঁদছো” ?
“মিতু” ! অনেক্ষন ধরে ডাকলাম কিন্তু ও কোন জবাব দিল না । কাঁদতেই লাগল ।
“কি হল ? আমি কিছু করেছি ? আমার কোন ভুল হয়েছে ? কথা কেন বলছ না ? কেন কাঁদছো ? শরীর খুব বেশি খারাপ ? মিতু কথা বল প্লিজ” । এই রকম হাজার টা প্রশ্ন ।
অনেকক্ষন পর মিতু কান্না জড়িত গলায় বলল “আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও । আমি তোমার উপয় বিশ্বাস রাখতে পারি নি” ।
“এসব কি বলছো” ?
“আমি ভেবেছিলাম চেহারা ভাল না হলে হয়তো তুমি আমাকে পছন্দ করবে না । আমার সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না । তাই তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য বিকালে আমি না গিয়ে আমার রুম মেট কে পাঠিয়েছিলাম” ।
“কি ? কি বললে তুমি” ? কেন জানি বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠল । “এমন একটা কাজ তুমি কিভাবে করলে” ?
“আই এম সরি শুভ । আমার ভুল হয়ে গেছে” ।
“তারমানে তুমি এতোদিন আমার কথা বিশ্বাস কর নি । আমার ভালবাসা কে বিশ্বাস কর নি” ?
“না শুভ প্লিজ বিশ্বাস কর এমন কিছু না” ।
“না মিতু তুমি আমাকে কষ্ট দিলে । আমার ভালবাসাকে বিশ্বাস না করে তুমি আমার ভালবাসাকে ছোট করছ । আমাকে ছোট করেছ । আমি কোন দিন তোমাকে ক্ষমা করবো না । কোন দিন না” ।
আমি ফোন রেখে দিলাম । তারপর থেকে মিতু কত বার যে ফোন দিয়েছে কিন্তু মন যে কষ্ট ও দিয়েছে তার জন্য ওকে ক্ষমা করবো না কোন দিন ।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও পদ্মশ্রী পুরস্কার

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:৫৬



এ বছরের পদ্মশ্রী (ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা) পদকে ভূষিত করা হয়েছে, বাংলাদেশের রবীন্দ্র সংগীত এর কিংবদন্তি শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে।

আমরা গর্বিত বন্যাকে নিয়ে । ...বাকিটুকু পড়ুন

কষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯



দেহটা মনের সাথে দৌড়ে পারে না
মন উড়ে চলে যায় বহু দূর স্থানে
ক্লান্ত দেহ পড়ে থাকে বিশ্রামে
একরাশ হতাশায় মন দেহে ফিরে।

সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে অবিরত
কি অর্জন হলো হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : মদ্যপান !

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

প্রখ্যাত শায়র মীর্জা গালিব একদিন তাঁর বোতল নিয়ে মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। বেশ মৌতাতে রয়েছেন তিনি। এদিকে মুসল্লিদের নজরে পড়েছে এই ঘটনা। তখন মুসল্লীরা রে রে করে এসে তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

= নিরস জীবনের প্রতিচ্ছবি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৪১



এখন সময় নেই আর ভালোবাসার
ব্যস্ততার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে নিথর বসেছি,
চাইলেও ফেরত আসা যাবে না এখানে
সময় অল্প, গুছাতে হবে জমে যাওয়া কাজ।

বাতাসে সময় কুঁড়িয়েছি মুঠো ভরে
অবসরের বুকে শুয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Instrumentation & Control (INC) সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫




শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে বাংলাদেশে এক্কেবারেই খারাপ তা বলার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন শিক্ষার মান নিয়ে চেঁচামেচি করলেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সার্ভিস দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×