somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ এমন যদি হত

২১ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ গুগল

লিফটের কাছে আসতেই মৌসুমীর মেজাজটা খারাপ হয়ে এল । শরীরটা ক্লান্তিতে ভরা অথচ লিফট দেখাচ্ছে আউট অব সার্ভিস ! মৌসুমীর ফ্ল্যাটটা ছয় তলাতে । এখন সিড়ি ভেঙ্গে যদি ওর এই ছয়তলাতে উঠতে হয় তাহলে ওর খবর হয়ে যাবে ।
দারোয়ানকে ডাক দিলো চিৎকার করে । দারোয়ান দৌড়ে এল । মৌসুমী বিরক্ত হয়ে বলল, কি হল লিফট বন্ধ কেন ?
-ম্যাডাম লিফটের কাজ চলতেছে ।
-কই কাজ চলতেছে ?
-মানে চলতেছিলো । আইজ শেষ হয় নাই । কাইল আবার আইবো !

কিছু বলতে গিয়েও বলল না । দারোয়ানকে বকা দিয়ে কোন লাভ নেই । সেই সকাল থেকে ও ডিউটিতে করেছে হাসপাতালে এখন বাজে রাত দশটাতে । এমনিতেও এদেশে ডাক্তারদের সংকট । আর এখন এই সংকটময় সময়ে ডাক্তারদের দায়িত্ব বেড়ে গেছে অনেক গুণে । আগে যেখানে ৭/৮ ঘন্টার সিফট করতে হত এখন সেখানে ১২/১৪ ঘন্টার আগে কোন ডাক্তার বাসায় যেতে পারছে না । মৌসুমী সেই সকাল বেলা বের হয় আর আসতে আসতে প্রতিদিনই রাত দশটা বাজে ।

ব্যাগটা হাতে নিয়ে মাস্কটা আরও একটু টেনে নিল । তারপর সিড়ির দিকে পা বাড়ালো । সিড়ি চড়তে ওর সমস্যা নেই তবে এখন ওর শরীর খুবই ক্লান্ত হয়ে আছে । লিফটটা হলে ভাল হত । যাক কি আর করা ।

সিড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করলো উপরে । সারা দিনে মোবাইলটা বের করার সময় পায় নি একদমই । সিড়িতে উঠতে উঠতে মোবাইলটা একটু দেখার সিদ্ধান্ধ নিল । ফেসবুকে একটু ঢু মারা যাক !

কিন্তু সেটা আর হল না মৌসুমীর । ওদের এই এপার্টমেন্ট টা মোট ছয় তলা । প্রতি ফ্লোরে দুইটা করে ফ্ল্যাট । দ্বিতীয় তলায় উঠলো মোবাইলের দিকে চোখ রেখেই । তাই লক্ষ্য করলো না যে কখন দুটো ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গেল । সেখান থেকে একটা ছোট ছেলে বের হয়ে এসেছে । হাতে একটা ভুভুজেলা । সেটা ফু দিতেই মৌসুমী খানিকটা চমকে উঠলো । তাকিয়ে দেখলো ফ্ল্যাট দুটোর দরজা ঠেলে দুই পরিবারের মানুষ বের হয়েছে ।

সাথে সাথেই মৌসুমীর চোখটা সিক্ত হলে এল । কারণ মানুষ গুলোর হাতে বড় বড় দুইটা কাগজ ধরা । সেখানে বড় বড় করে লেখা "থ্যাঙ্কিউ ডক্টর ফর ফাইটিং ফর আস " নিচে আরও লেখা "উই লাভ ইউ"
মৌসুমীর মন থেকে ক্লান্তিটা সাথে সাথে দুর হয়ে গেল । পিচ্চি একজন খানিকটা দৌড়ে এল ওর দিকে । হাত বাড়িয়ে ওকে একটা কার্ড ধরিয়ে দিল । অন্য ফ্ল্যাটের ছোট মেয়েটি এগিয়ে এল একটা ক্যাডবেরি চকলেট ধরিয়ে দিল ওর হাতে ।

মৌসুমী ঠিক তখনই উপরের তলা থেকে চিৎকার আর বাঁশির আওয়াজ শুনতে পেল । ওর বুঝতে কষ্ট হল না যে কেন আজকে লিফটা বন্ধ করে রাখা হয়েছে । যাতে করে ওকে সিড়ি দিয়ে উঠতে হয় ।
প্রতিটা তলাতে মোসুমী যখন উঠছিলো সবার হাতেই দেখতে পেল নানান ধরনের ধন্যবাদ জ্ঞাপক কার্ড ধরা । প্রতি তলা যখন পার হচ্ছিলো সবাই হাতে তালি দিয়ে ওকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলো । চকলেন আর কার্ডে ওর হাত ভরে গেল । নিজেকে সত্যিই খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছিলো সেই সাথে এটা মনে হয়ে খুব ভাল লাগছিলো যে ওরা যে এতো পরিশ্রম করছে সেটা সার্থক হয়েছে ।

যখন নিজের ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাড়ালো ওর পাশের ফ্ল্যাটের আন্টিও ওর দিকে মুখ হাসি করে বলল, আজকে তোমার আমার বাসায় দাওয়াত বুঝেছো ! ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো !

মৌসুমী এই মহামারির চিকিৎসা জন্য ওর বাসার মানুষজন সব সময় খুব চিন্তিত ছিল । ডাক্তারেরা সব থেকে বেশি ঝুকির ভেতড়ে থাকে । কিন্তু আজকে ওর মনে হল যে যদি সে আক্রান্তও হয় তবুও ওর মনে কোন দুঃখ নেই । সত্যিই কোন দুঃখ কোন ভয় নেই আর !





গল্পটা বানানো নয় । একেবারে সত্যিই একটা গল্প । কেবল স্থানটা কাল্পনিক । গতকাল একটা ভিডিওতে দেখলাম জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের ভিডিওটা সম্ভবত । নার্স নিজের ডিউটি শেষ করে সিড়ি দিয়ে উঠছে আর তার প্রতিবেশরা তার জন্য হাতে তালি দিচ্ছে । প্রতি ফ্লোরে যাচ্ছে আর সবাই তাকে প্লাকার্ড হাতে নিয়ে ধন্যবাদ দিচ্ছে কার্ড দিচ্ছে ।
আর আমাদের দেশের বাঙ্গালীরা ডাক্তারদের বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছে, এলাকা ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৭



১। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার পাশে একটি মেয়ে শুয়ে আছে! মেয়েটির মুখে এক আকাশ মায়া। মেয়েটিকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে- খুব আরাম করে সে ঘুমাচ্ছে। মাথা ভর্তি এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাকাতদর্শন

লিখেছেন মৃত্তিকামানব, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০


আমাদের ছোটবেলায় প্রতিদিন নিয়ম কইরা দিনের বেলায় চুরি হইত আর রাতের বেলায় ডাকাতি।ডাকাতরা বেবাক কিসিমের মুখোশ পইরা, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আইসা স্বর্ণালংকার, টাকাকড়ি থেকে শুরু কইরা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা পিঠাপুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার উপদেশ বা অনুরোধ

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৩



একটা গল্প দিয়ে লেখাটা শুরু করি-
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোক তরমুজ বিক্রি করছেন। তরমুজের মূল্যতালিকা এমন: একটা কিনলে ৩ টাকা, তিনটা ১০ টাকা।
একজন তরুণ দোকানে এসে একটা তরমুজের দাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৪






সকালে তৎপর মিডিয়া দেখাচ্ছিল বাবার মোটর বাইকে চড়ে মিন্নি কোর্টে এসেছে মাস্ক পরে । এই তিনটার সময় বাবা মিন্নি ছাড়াই বাইক নিয়ে ফিরে গেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিস্তায় চীনাদের যোগ করার কোন প্রয়োজন নেই, বাংগালীদের পারতে হবে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯



ভারতের সাথে তিস্তার পানি বন্টন ও বন্যা কন্ট্রোল কোনভাবে হয়ে উঠছে না; ভারতের পানির দরকার, এতে সমস্যা নেই; ওদের প্রয়োজন আছে, বাংলাদেশেরও প্রয়োজন আছে, এই সহজ ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×