somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভিঃ ওয়ান্ডার ওমেন ১৯৮৪ - ডিসি ইউনিভার্সের আরও একটা ফেইলিয়র

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি ফ্রম উইকিপিডিয়া

ডিসি ইউনিভার্সের এনিমেশন গুলো দুর্দান্ত হলেও, গত কয়েক বছরে ডিসির মুভি গুলো সব একের পর এক ফেইলিয়র ছাড়া আর কিছুই না । ব্যাটম্যানের মত এতো শক্তিশালী চরিত্রকেও কেমন একটা অসহায় রূপদান করেছে এরা । দর্শকের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে । কেবল ওয়ান্ডার ওমেন মুভিটা ছিল অন্য রকম। ওয়ান্ডার ওমেনের প্রথম পর্বটা দেখে মনে হয়েছিলো যে যাক, এইবার অন্তত মারভেলকে টক্কর দেওয়ার মত একটা মুভি পাওয়া গেছে । কিন্তু এই ওয়ান্ডার ওমেন ১৯৮৪ দেখে আবারও হতাশই হতে হল । পছন্দের এই চরিত্র গুলোকে যখন মুভি পর্দায় আশানরূপ ভাবে চিত্রায়ন দেখতে পাই না তখন ডিরেক্টরদের উপর প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হয় ।

মুভি রিলিজের ডেট অনেক পিছিয়ে এই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর প্রথমে ইউকে এবং ক্রিসমাসে ইউএসএতে রিলিজ দেওয়া হয় । মুভির মোট বাজেট দুইশ মিলিয়ন । এখনও পর্যন্ত একশ আঠারো মিলিয়ন আয় করেছে মুভিটি । প্রথম সপ্তাহের আয়ের থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের আয় মোটামুটি ৮৪% কম । যদিও এখনও টপ চার্টেই রয়েছে তবে ক্রমাগত আয় নিন্মমুখী ।

আসেন মুভির গল্প নিয়ে কথা বলি । মুভির ওপেনিং দৃশ্য দেখা যায় ছোট্ট ডায়ানা কে । সে আম্যাজনের কোন একটা খেলায় অংশ নিয়েছে । এবং খেলাতে জেতার জন্য সে সবার মত করে না গিয়ে একটা সটকার্ট ব্যবহার করে ।কিন্তু খেলার রেফারি তাকে শেষ সীমায় পৌছানোর আগেই আটকে দেয় । বলে যে সে চিটিং করেছে । তখন তার মা এসে তাকে বোঝায় যে কোন কিছু পাওয়ার জন্য সর্টকার্টের ফল কখনই ভাল হয় না । এখানকার গল্প এই টুকুই ।

এরপর গল্প শুরু ১৯৮৪তে । এই দৃশ্য প্রথমে একটা শপিং মলে কিছু অপরাধীদের আটক করে ডায়ানা । সত্যিই বলতে কি এই প্রথম টুকু দেখে আমার মনেই হয়েছিলো যে আরও একটা ভাল মুভি দেখতে যাচ্ছি আমি । কিন্তু এরপর থেকে আমাকে কেবল হতাশ হতে হয়েছে । এরপর মুভির ভেতরে আসলে নতুন কিছুই ছিল না । অন্য সব সুপার হিরো মুভিতে আমরা যা যা দেখি এখানেও তাই দেখানো হয়েছে । কাহিনীতে কোন প্রকার নতুনত্ব ছিল না ।

এই মুভিতে মোট চরিত্রের সংখ্যা চারজন । এক হচ্ছে ওয়ান্ডার ওয়েন ডায়ানা প্রিন্স যে সবার চোখের আড়ালে থেকে মানুষকে রক্ষা করে এবং একজন কালচারল এন্থপলজিস্ট এবং আর্কিওলজিস্ট । অন্য দিকে একেবারেই নিঃসঙ্গ জীবন যাপণ করে । গত মুভিতে স্টিভের মৃত্যুর পরে সে আর কাউকে ভালোবাসতে পারি নি, কাউকে নিজের জীবনের সাথে যুক্তও হতে দেয় নি ।

বারবারা যে একজন জিওলজিস্ট, লিথলজিস্ট এনক্রিপ্টলজিস্ট। খুবই নাজুক এবং সহজ সরল একজন মেয়ে যাকে সবাই ইগ্নোর করে, কেউ দাম দেয় না, পাত্তা দেয় না । কেউ তার প্রতি কোন খেয়ালই করে না ।

এরপর আরেকজন আছে লর্ড ম্যাক্স । ওয়েল কোম্পানীর মালিক । তবে তার কোম্পানী থেকে সবাই টাকা সরিয়ে যাচ্ছে। সে পথে বসতে যাচ্ছে ।

এই কাহিনী শুরু হয় যখন এফবিআই একটা এন্টিক চোরাচালানের লট আটক করে এবং বারবারার সাহায্য চায় সেই জিনিস গুলোর আসল কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য । ডায়ানাও সেখানে হাজির হয় জিনিস গুলো দেখার জন্য । সেখানেই একটা স্টোন থাকে । এটা নিয়েই কাহিনী । বারবার প্রথমে এই স্টোনকে ফেইক বলে । কিন্তু এই ড্রিম স্টোনের বিশাল ক্ষমতা। সে মানুষের উইস পুরন করে কিন্তু এর বদলে তার কাছ থেকে একটা কিছু নিয়েও যায় । ডায়ানা এবং বারবারা দুইজনই স্টোনটাকে ধরে নিজেদের উইস চায় । তবে সেটা অজান্তে ।

ডায়ানা তার ভালোবাসার মানুষ স্টিভ কে ফেরৎ চায় অন্য দিকে বারবারা চায় ডায়ানার মত স্ট্রং কুল হতে । দুজনের উইসই পুরন হয়ে যায় । অন্য দিকে লর্ড ম্যাক্স এই ড্রিম স্টোনের পেছনে পড়ে ছিল অনেক দিন । সে বারবারার কাছে স্টোন চেয়ে নিয়ে যায় । বারবারও সরল মনে সেটা দিয়েও দেয় । লর্ড ম্যাক্স তখন স্টোনের কাছে উইস করে সে সে নিজেই ড্রিম স্টোন হতে চায় । অর্থ্যাৎ মানুষ এখন তার কাছেই উইস করবে এবং এর বিপরীতে তাদের কাছ থেকে লর্ড ম্যাক্স কিছু নিয়ে নিবে । লর্ড ম্যাক্সের উইস পূরন হয় । সে নিজেই হয়ে ওঠে ড্রিম স্টোন ।

এদিকে বারবার ঠিকই ডায়ানার মত হয়ে যায় । স্ট্রং কুল । সবার কাছে সে জনপ্রিয়তাও পেয়ে যায় । কিন্তু এর বিপরীতে ড্রিম স্টোন তার কাছ থেকে তার মনুষ্যত্ব নিয়ে নেয় । সে আর আগের মত সরল সোজা থাকে না । তার ভেতরে এক হিংস্রভাব চলে আসে । অন্য দিকে ডায়ানা ফিরে পায় স্টিভ কে । তবে ডাইরেক্ট স্টিভ আসে না । স্টিভের আত্মা চলে এসে ভর করে অন্য একজনের ভেতরে । ডায়ানা তাকে চিনতে পারে । কিন্তু এর বিপরীতে ডায়ার যে শক্তি থাকে সে ধীরে ধীরে চলে যেতে থাকে । সে আর আগের মত শক্তিশালী থাকে না । এদিকে লর্ড ম্যাক্স একের পর এক মানুষের উইস পূরন করতে থাকে এবং এর বিপরীতে তাদের কাছ থেকে নিজেদের দরকারি জিনিস পত্রও নিয়ে নিতে থাকে ।

তারপর আর কি ডায়ানা আর স্টিভ মিলে লর্ডম্যাক্সকে ঠেকাতে যায় । কারণ খোজ নিয়ে দেখা যায় এই স্টোনটা যেখানে সেখানে গিয়েছে সেই সেই সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে । আর লর্ড ম্যাক্সের এই একের পর এক মানুষের উইস পূরন করে চলেছে আর পৃথিবীতে ক্যায়সের সৃষ্টি করে চলেছে । ডায়ানা আর স্টিভ দুই দুই বার তাকে আটকানোর চেষ্টা করে কিন্তু ক্রমেই অনুভব করে যে ডায়ানার শক্তি কমে আসছে । বুঝতে পারে যে সেই উইস গ্রান্ট করার ফলে তার কাছ থেকে শক্তি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । তখন স্টিভ তাকে বলে ডায়ানার এখন উইসটাকে ফেরৎ দিতে হবে নয়তো সে কোন ভাবেই লর্ড ম্যাক্সকে থামাতে পারবে না । কিন্তু উইস ফেরৎ ছিলে তো স্টিভ চলে যবে যা ডায়ানা মেনে নিতে পারবে না কোন ভাবেই । কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডায়ানা নিজের উইস ফেরৎ নেয় । এবং তার নিজের শক্তিও ফেরত চলে আসে।
অন্য দিকে বারবারা কিছুতেই এতে রাজি হয় না নিজের ইউস ফেরৎ দিতে এবং ডায়ানা এবং লর্ড ম্যাক্সের মাঝে এসে দাড়ায় । শেষ দৃশ্য একটা বড় ফাইট হয় ডায়ানা আর বারবারার ভেতরে ।

গল্প হিসাবে আমার কাছে এ কাহিনী দুর্বল মনে হয়েছে কেবল । অন্য সুপারহিরো মুভির সাথে এর আসলে কোন পার্থক্য নেই । ওয়ান্ডার ওয়েনের কাছ থেকে আরও বেশি আশা করেছিলাম যা মোটেই পূরণ হয় নি । ডিসি বারবার হতাশ করেই চলেছে । আমার মাথায় কেবল এটা ঢুকলো না যে প্যাটি জেনকিংস যে কিনা আগের ওয়ান্ডার ওয়েনটাও ডিরেক্ট করেছিলো সেই এই রকম একটা হতাশা জনক মুভি কিভাবে বানালো !

খুব বেশি আশা নিয়ে এই মুভি দেখতে বসা মোটেও ঠিক হবে না । আমি বলবো কোন প্রকার এক্সপেক্টেশন নিয়ে দেখাই উচিৎ না । হাতে খুব বেশি ফ্রি সময় থাকলে, মন মেজাজ বেশ ভাল থাকলে মুভি দেখতে বসতে পারেন ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার দুঃখ বিলাসের একমাত্র কারণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:০৬



কংক্রিটের রাত্রিতে, আঁধারের ওপার হতে দাও হাতছানি।
তুমি কি আলোর পাখি?

আগুন রঙা তোমার দু পাখায় আলোর ঝলকানি,
আমি বিহ্বল হয়ে চেয়ে থাকি,
তোমার বৈচিত্রময়তায়।

আঁধার হতে আলোয় উত্তরনের চেষ্টায় আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গনেশ মূর্তি-এক্সপেরিমেন্ট আর অন্ধ বিশ্বাস

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৩

Repost


ল্যাবে কলকাতার হিন্দু মেয়ে গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ড হিসাবে জয়েন করল। খুবই করিৎকর্মা ছাত্রী, প্রথম কয়েকমাস ছোট খাটো এক্সপেরিমেন্ট খুব সহজেই করা হত...আসল সমস্য শুরু হয় যখন স্যাম্পল থেকে প্রোটিন বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে থাকা মানেই কি দেশের সেবা করা???

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:০২



ব্লগে আসি কিছু আনন্দময় সময় কাটাতে। লিখতে ভালো লাগে, তাই লেখি। পড়তে ভালো লাগে, তাই যখনই সময় পাই, ব্লগে বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ি। ব্লগে সময় কাটানো মানেই একধরনের কোয়ালিটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রেডিয়াম গার্লদের বেদনাদায়ক ইতিবৃত্ত

লিখেছেন  ব্লগার_প্রান্ত, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:১১



শখের তোলা আশি টাকা। সেই শখ মেটাতে অনেকেই অনেক কিছু কিনে থাকেন। সৌখিন এই সকল মানুষদের তালিকার মধ্যে একসময় ছিলো একটি রেডিয়ামের হাত ঘড়ি অথবা দেয়াল ঘড়ি। এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের জীবনচক্র

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:১৬



মানুষের জীবনচক্র নিয়ে আদি মানুষ থেকে শুরু করে, আজকের সায়েন্টিষ্টদের ধারণা, পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি আপনারা জানার সুযোগ পেয়েছেন; বিশ্বের শিক্ষিত অংশ বাইওলোজী, মেডিসিন, ফিজিওলোজির সাহায্যে মানুষ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×