somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদের আগে স্কুল বন্ধুদের সাথে পিকনিক

১১ ই জুলাই, ২০২২ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের এলাকাতে ঈদের আগের দিন রাতে পিকনিক করার একটা চল আছে । বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছেলেদের মাঝে এটা বেশি দেখা যায় । অবশ্য আমার আগে কখনই রাত জেগে পিকনিক করা হয় নি । কারণ বাসায় সব সময় নিয়ম ছিল একদম সন্ধ্যার পরপরই বাসায় চলে আসা । তাই চাইলেও আগে কখনই রাতে এই পিকনিক করাটা হত না । আমার মনে আছে আমি প্রথম এমন একটা পিকনিক করেছিলাম ভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষে । বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই বিশেষ করে যখন থেকে নিজের ব্যয় নিজেই বহন করতে শুরু করলাম তখন একটা ব্যাপার খেয়াল করা শুরু করলাম যে বাসায় সেই আগের মত শাসনে আমাকে রাখা হচ্ছে না । আমার মনে আছে সেইবার বাসায় ফিরতে আমার প্রায় রাত বারোটা বেজে গিয়েছিলো । সেইবারই প্রথম এতো রাত অবদি আমি বাইরে ছিলাম ।

যাই হোক এইপর থেকে প্রায় প্রতি কোরবানীর ঈদেই আমরা চেষ্টা করতাম ঈদের আগের দিন এই পিকনিক টা করার জন্য । রোজার ঈদে আমাদের স্কুলের বন্ধুদের সবাই চুয়াডাঙ্গাতে আসতো না । কিন্তু দেখা যেত কোরবানীর ঈদে সবাই মোটামুটি আসতো । মূলত আমি আর আরেকজন এই পিকনিকের দায়িত্বে থাকতাম সব সময় । সবাইকে ফোন দাও, টাকা তোল, তারপর বাজার কর এই সব কাজ আমি আর আমার ঐ একজন বন্ধুটিই করতাম । সন্ধ্যার পরে সবাই এসে হাজির হত । আশে পাশের বন্ধুদের বাসা থেকে হাড়ি পাতিল আসতো । রান্না হত আমাদের অন্য আরেক বন্ধুর বাসায় । গল্প আড্ডা খেতে খেতে রাত এগারোটা বারোটা বেজে যেত প্রতিবার । করোনার কারণে এই দুই বছর এই পিকনিকটা হয় নি । এবার আবারও ঈদের আগের দিন পিকনিক করা হল । তবে এবার আমি একদম বাসা থেকে বের হই নি । সন্ধ্যার সময় গিয়ে দেখলাম যে সব কিছু যোগার করা হয়ে গেছে । রাজহাঁস কেনা হয়েছে একটা ।

রাসেল রান্নায় কাজে লেগে গেছে এরই ভেতরে । আমরা এভাবে বসে থাকা যায় না । আমিও হাত লাগিয়ে দিলাম । রান্না হতে হতে সেই সাড়ে দশটা বেজেই গেল । তারপর এক সাথে খাওয়া দাওয়া ।

আমরা স্কুল ছেড়েছি সেই ২০০৫ সালে । সময়ের হিসাবে এটা একটা লম্বা সময় । কিন্তু একটা ব্যাপার আমাদের এই স্কুলের বন্ধুদের মাঝে আছে সেটা হল আমাদের সম্পর্কে সেই স্কুলে যেমন আছে এখনও ঠিক তেমনই আছে । আমাদের মাঝে অনেকে অনেক স্থানে চলে গেছে । বিয়ে শাদী করে সবাই জীবনে সেলেটড হয়ে গেছে । কিন্তু এখনও আমাদের মাঝে সেই আন্তরিকতা রয়ে গেছে । আমরা সেই স্কুল জীবনে ঠিক যেভাবে একে অন্যের সাথে ব্যবহার করতাম, ইয়ার্কি ঠট্টা মারতাম ঠিক একই ভাবে সবার সাথে আচরন করি ।

আমার কলেজ জীবনে কোন বন্ধু ঠিক তৈরি হয় নি । স্কুলে যাদের সাথে পড়তাম কলেজেও তারাই ছিল । নতুন যারা হয়েছিলো তারা কোথায় কোন দিকে চলে গেছে কোন খোজ নেই । এখনও ঠিক আগের মতই টিকে আছে স্কুল জীবনের বন্ধুরা । এমনও কিন্তু না যে আমাদের মাঝে কথা হয় নিয়মিত । আমাদের কোন গ্রুপও নেই ঠিক মত । কিন্তু ঠিক ঠিক সবাই হাজির হয়ে যায় এই সময়ে । রোজার ঈদে আমরা এক সাথে একটা ইফতার পার্টি করি আর কোরবানীর ঈদে এই পিকনিকটা !

পিকনিকের কোন ছবি তুলতে আমাদের কারোরিই মনে থাকে না কোন বার । আসলে গল্প আড্ডায় এমন মেতে থাকি যে সময় কোন দিক দিয়ে চলে যায় কারো খেয়াল থাকে না আর ছবি তো দুরে থাক সামনের বার পিকনিক হলে এবার মনে করে অবশ্যই ছবি তুলবো ! উপরে যে ছবিটা দেখা যাচ্ছে সেটা খিচুড়ি বসানোর সময়ে তুলেছিলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০২২ রাত ১১:৫৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×