
অনেক দিন পরে গতকাল বিকেলে একটা ছুটি পাওয়া গেল । আমার আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা বাসায় বসে থাকতে ভাল লাগে না । অনেক দিনের অভ্যাস । কী মনে হল সাইকেল নিয়ে বের হয়ে গেলাম । কোন দিকে যাবো সেই সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক মিনিট সময় লাগলো । মোহাম্মাদপুর তিন রাস্তার মোড় থেকে রওয়ানা দিলাম বসিলা ব্রিজের দিকে । এই দিকে আমি আগেও এসেছি অনেকবার । ব্রিজের আগেই আমার এক বন্ধু থাকে । ওর ওখানে মাঝে মাঝে আসি । ব্রিজ পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাই ।
ব্রিজ পার হতেই অন্য ঢাকা শহরের পরিবেশ আপনার কাছে অচেনা মনে হতে শুরু করবে । অথচ এটা কিন্তু মাত্র মিনিট দশের পথ সাইকেলে । ঢাকা শহরের রাস্তায় চললে আপনার কেমন লাগে ! সব কিছু মনে হয় কনক্রিট সব কৃত্রিম । গাছপালা যদিও আছে তারপরেও এই গাছ গুলো থেকে শহুরে গন্ধ বের হয় । কিন্তু আপনি এই ব্রিজ পার হওয়ার পরেই আস্তে আস্তে শহুরে গন্ধটা কমে আসবে ।
আপনারা ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন কিনা জানি না তবে আমি ব্যাপারটা প্রথম খেয়াল করি কয়েক বছর আগে । তখন আমার গাছ লাগানোর বাতিক হয়েছিলো । টবে বিভিন্ন বিজ লাগিয়ে গাছ জন্মানো । এই কারণে মাটির দরকার ছিল । আমি তখন টবে মাটি ভরার জন্য মাটি খোজ করতে লাগলাম আর তখনই আবিস্কার কারলাম যে আমার বাসবাসের আশে পাশে আসলে কোন মাটি নেই । ব্যাপারটা আমাকে একটু অবাকই করলো । সব স্থানেই পাকা রাস্তা । আমার আসে পাশে সেই একই অবস্থা । মাটির সন্ধান পেলাম কেবল রাস্তার ডিভাইডারের ভেতরে আর পেলাম লেক পাড়ে । তবে সেই একই সমস্যা । এই মাটি গুলোতে কেমন যেন একটা শহুরে গন্ধ । সব কৃত্রিম । আর অনেকটা দুরে রমনা পার্কেও পাওয়া গেল খোলা মাটি । এখানে ভেতরের দিকে মাটিতে একটু একটু অকৃত্রিম ভাব এখনও টিকে আছে । খালি পায়ে হাটলে ভাল লাগে ।
অথচ আমি যেখানে জন্মেছি যেখানে বড় হয়েছি সেখানে চারিদিকে কেবল মাটি আর মাটি । চাইলেই সকাল বেলা খালি পায়ে সেই মাটিতে হাটাহাটি করা যায় । মাটির অনুভূতি নেওয়া যায় ।
তারপর যখন আমি এই বসিলার দিকে আসা শুরু করি তখনই আবিস্কার করি যে এখানে সেই অকৃত্রিম মাটি রয়েছে । ব্রিজ পার হয়ে কিছু দুরে যাওয়ার পরেই আপনার চোখে সেটা পড়বে । ঘাটারচর মোড় পার হয়ে ডান দিকে গেলেও আপনার মনে হতে থাকবে যে আপনি আর ঢাকা শহরে নেই । রাস্তার পাশেই দেখটে পাবেন খোলা জায়গা , তার পাশে পুকুর, জলাশয় । আপনার চেনা মফস্বলটা যেমন করে দেখে থাকেন একেবারে সেই রকম ।

আরো দেখা যাবে দুরে খোলা মাঠে ছেলেরা ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলা করছে । এটাও ঢাকা শহরের জন্য একটা বিরল দৃশ্যই বটে । এখন খোলা মাঠে খেলা দেখাই যায় না । যা আছে তা হচ্ছে বাচ্চারা কোন ক্লাবের মাঠে খেলা করছে । কিংবা বাড়ির সামনে রাস্তার উপরে ছোট একটু স্থানে কোন মতে খেলছে । কিন্তু এখানে বিশাল মাঠেই তাদের খেলতে দেখে বেশ চমৎকার লাগলো ।
এখানে দেখলাম বেশ কয়েকটা রেস্টুরেন্ট হয়েছে । বেশ বড় জায়গা নিয়ে এই রেস্টুরেন্ট গুলো হয়েছে । দুটো শিশুপার্ক দেখলাম । এই শিশু পার্ক গুলোও আমাকে আমার শহরের শিশু পার্কের কথাই মনে করিয়ে দিলো । আরো দুরে এগিয়ে গেলাম সাইকেল নিয়ে । সামনে একটা সাইনবোর্ড দেখতে পেলাম । একদিকে আটিবাজার অন্য দিকে সিঙ্গাইর । কোন কিছু চিন্তা না করেই আটিবাজারের দিকে সাইকেল ঘুরিয়ে দিলাম ।
সাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরির অভ্যাস আমার অনেক আগে থেকেই । আমাদের থানার এমন কোন রাস্তা নেই যেখানে আমি যাই নি । এমনও দিন গেছে আমি সকালে বের হয়েছি ফিরেছি বিকেল বেলা । এই আটি বাজারে যাওয়ার রাস্তাটাও আমার জেলার রাস্তা গুলোর কথা মনে করিয়ে দিল । দুই পাশে গাছ পালা ছোট গর্ত । মাঝ দিয়ে রাস্তা গেছে । আর সাথে রয়েছে একটা প্রকৃতিক আবহাওয়া । ঢাকার রাস্তা আপনি যখন নিঃশ্বাস নেবেন তখন দেখবেন সেখানে আপনি দুর্গন্ধ কিংবা ধূলোবালি ছাড়া আর কিছুই অনুভব করবেন না কিন্তু এই স্থানে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলে অনুভব হবে সবুজ প্রকৃতির একটা গন্ধ । এই গ্রাম্য পরিবেশ পার হয়ে আমি আটি বাজারে এসে পৌছালাম । এখানে অনেক বাড়িঘর রয়েছে রাস্তার পাশে । তবে এগুলোও আপনাকে সেই মফস্বল শহরের কথাই মনে করিয়ে দিবে । ঢাকা শহরের মত এতো উচু উচু বিল্ডিং নেই এখানে । অবশ্য আমি বেশি দুর গেলাম না । একটা স্কুল মাঠে খেলা হচ্ছে । সাইকেলটা সেখানে দাড় করিয়ে বসে পড়লাম । ছেলেদের খেলা দেখতে শুরু করলাম ।

ফেরার সময়ে আযান দিয়ে দিল । শিশু পার্কের কথা বলেছিলাম । সেই পার্ক থেকে একটু দুরে দুটো ফুচকার দোকান দেখতে পেলাম । মনে এখান থেকে ফুচকা খেয়ে যাই । ফুচকা খেতে খেতেই দেখতে পেলাম এক কাপলকে আসতে । স্কুলে পড়ে কিংবা বড়জোর কলেজে উঠেছে । এদের চাল চলনও সেই মফস্বলের কাপলদের মতই । ঢাকা শহরের কাপলরা যখন রাস্তায় কিংবা পার্কে যায় তখন তাদের ভেতরে কোন দ্বিধা কিংবা সংকোচ থাকে না । কিন্তু এদের ভেতরে দেখলাম দুজন বাইরে বের হয়ে দেখা করছে এইটা নিয়ে কেমন যেন সংকুচিত । এমন কি পাশাপাশি চেয়ারে বসতেও যেন সংকোচবোধ করছে ।
সামনের দিনে আবারও যাবো ভাবছি । এবার আরো ভেতরে ঢোকার ইচ্ছে রয়েছে । বিশেষ করে প্রধান রাস্তার পাশে আরো কিছু শাখা রাস্তা চলে গিয়েছে । সেগুলোর ভেতরে ঢোকার ইচ্ছে একে একে ।
আরো কিছু ছবি তোলা দরকার ছিল কিন্তু সময় ভাল গেলে আমার ছবি তোলার কথা মনে থাকে না । সামনের বার মনে করে ছবি তুলবো । যারা গ্রাম্য পরিবেশ পছন্দ করেন তারা ছুটির দিনে এদিকে ঘুরে আসতে পারেন । অবশ্য অনেকের এসব ভাল নাও লাগতে পারে । আমি এসবের ভেতরেই বড় হয়েছি তাই আামর কাছে এসব পছন্দের । যাদের গাড়ি রয়েছে তারা যেতে পারেন । এখানে বেশ কয়েকটা ভাল ভাল রেস্টুরেন্ট রয়েছে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৩ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




