somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজাতির শেষ জীবিত প্রাণ !

১৩ ই মে, ২০২৪ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিবিসির একটা খবর চোখে এল সেদিন । উত্তরাঞ্চলীয় সাদা গন্ডার প্রজাতির শেষ পুরুষ গন্ডারটি মারা গেছে । তার নাম ছিল সুদান । মৃত্যুর সময় তার বয়স ৪৫। বিবিসির সংবাদটা এবছর করলেও সুদান মারা গিয়েছে ২০১৮ সালে । জীবনের প্রায় সময়ই সে বন্দী অবস্থায় থেকেছে। তবে শেষ সময়ে সে বিস্তৃতি খোলা স্থানেই বসবাস করেছে। তাকে দেখা শোনার জন্য সর্বাক্ষিণ মানুষ নিয়োজিত ছিল। এই প্রজাতির গন্ডার পৃথিবীতে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে ছিল । শেষ পুরুষ গন্ডারটি মারা গেছে । আরো দুটো মেয়ে গন্ডার রয়েছে তবে তারা গর্ভধারণে সক্ষম নয় । তার মানে হচ্ছে এর কদিন পরেই এই প্রজাতির গন্ডার একেবারে পৃথিবী থেকে গায়েব হয়ে যাবে । ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে থাকা একটা প্রাণী একেবারে বিপুল্প হয়ে যাবে ।
বিবিসির পুরো সংবাদটা এখান থেকে পড়তে পারেন।



বার্বেরি সিংহ ! ১৯২৫ সালে একজন ফ্রেন্স মিলিটারি ফটোগ্রাফার প্লেন করে যাওয়ার সময় এটলাস পর্বতের আশেপাশ থেজে এই একা বার্বেরি সিংহটির ছবি তোলেন । এটাই মূলত এই প্রজাতির শেষ বন্য সিংহের ছবি। নিচের ছবিটা উইকি থেকে নেওয়া ।



ছবিটার দিকে তাকিয়ে কেমন যেন একটা বিষণ্ণতা এসে ভর করল । একা একটা প্রাণী বিচরণ করে বেড়াচ্ছে । নিজের প্রজাতির আর কেউ জীবিত নেই । এই মনভাব তার ভেতরে কেমন মনভাব জাগিয়ে তুলেছিল ! জানার কোন উপায় নেই ।

আমাদের মানুষ্য সমাজের এই রকম ভাবে বিলুপ্তির কি কোন সম্ভবনা রয়েছে ? একবার দৃশ্যটা কল্পনা করুন যে কোন এক ভবিষ্যতের সময়ে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোন মহামারির কারণে পৃথিবীর সব মানুষ আস্তে আস্তে মারা গেল । তবে অন্য সব প্রাণীর কিছু হল না। তারা ঠিকই জীবিত রইল । কেবল মানুষ মারা যাচ্ছে । একেবারে সবার শেষে যে মারা যাবে, যে জানবে যে আর কোন মানুষ জীবিত নেই । সবাই মারা গেছে । কেবল সে বেঁচে রয়েছে ! তখন তার মনের ভাবটা কেমন হবে?

আমাদের গ্রামে একজন ছিল অনেক আগে । শুনেছি এক বাপের এক ছেলে ছিল । তার বাবা এবং দাদাও একই রকম । তাদের অন্য সন্তান বাঁচে নি। একজনই বেঁচে ছিল। উনার যখন ছেলে হল তখন সেই জন বাঁচলো না । তারপর কয়েকবার একই রকম । সময়ের সাথে তার স্ত্রী মারা গেল । তিনি একা বেঁচে ছিলেন । তার বংশের শেষ জীবিত মানুষ । তার মৃত্যুর সাথে সাথে তার বংশ বিলুপ্ত হয়ে গেল। এটা আমাদের মায়ের ছোট বেলার গল্প।
সেই সময়ে তার মনে ভাব কেমন ছিল ? কী নিঃসঙ্গ সময় কাটিয়েছেন শেষ বয়সে ! একদম একা ! ঐ সিংহ বা সাদা গন্ডারটির মত !
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:২৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×