somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প - উপলব্ধি (২)

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




(১)

ছবিটা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের । সকালে ক্লাস শুরু হবে । পৌছে দেখি কুয়াশা ঢাকা । এবার কুয়াশা তেমন চোখে পরেনি । এই কুয়াশা দেখে দাঁড়িয়ে ছবিটা তোলার লোভ সামলাতে পারিনি । ছোট বেলার কথা মনে পরে যায় । তখন অনেক কুয়াশা পরত । ঘাসে শিশির জমত মুক্তার মত ।

খালি পায়ে ঘাসে হেটে বেড়াতাম । সকাল বেলা বের হতাম গুটিসুটি হয়ে বন্ধুরা মিলে আগুন জ্বালাতাম । দূরে হাটতে যেতাম । নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে কুয়াশা দেখতাম । আবার পানির উপর ধোয়া উঠা দেখতাম । ভাবতাম পানি গরম ।

শৈশব অনেক আনন্দের ছিল । ছিল না কোন চিন্তা । ছিল না কোন ভাবনা । শুধু দুরন্ত শৈশব । ব্যান্ডমিন্টন, ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে হারিয়ে যাওয়া । বাবার হাতে মার খাওয়া । স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলা বা ঘুরে বেড়ানো । কত কিছু করেছি । শীতের ছুটিতে নানা বাড়ি, দাদু বাড়ি বেড়াতে গিয়েছি । গুড়ের পায়েস আর নানা রকম পিঠা । সব যেন এখনও চোখের সামনে ভাসে ।

আজকাল যান্ত্রিকতা আমাদের চেপে ধরেছে । আমরা আমাদের সন্তানদের কি দিচ্ছি । তাদের শৈশবটা কি আমাদের মত । হবে না জানি । তবে তাদের শেকড় এর সাথে পরিচয় করে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের । আমাদের প্রকৃতি আর পরিবেশের যে স্বমন্বয় তাকে ধরে রাখা ।

তাই বলতে চাই, " দাও ফিরিয়ে অরন্য, লও এ নগর "




(২)

সেদিন এক কাজে পল্টনের ওই দিকে গিয়েছিলাম । অফিসের কাজে এখন বাইরে যেতে হয় । বস বলেছে বাইক কিনতে । কিন্তু আপাতত বলে দিয়েছি বাইক কেনা আমার জন্য সম্ভব না । উনি বলেছেন রাইড নেও । তাই উবার ই ভরসা । পাঠাও যা করেছিল । তারপর আর ভরসা পাই না । উবার ছাড়া এখন চলি না ।

তো পল্টনের কাজ শেষ ফিরছিলাম উবার মোটোতে করে । শাহাবাগের ট্রাফিক এ আটকে গেলাম । ভাল, সবাই জেব্রা ক্রসিং এর দূরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । ভাল লাগল । সবাই নিয়ম একটু একটু করে মানছে । আশা আছে তাহলে পরিবর্তন আসবে । হঠাৎ চোখ চলে গেল সামনে । দেখি একটা বাইক একে বারে ট্রাফিকের সামনে জেব্রা ক্রসিং এর ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । নিজেকে নিজেই গালি দিলাম । এদের জন্য বাইকারদের গালি খেতে হয় । ভাবলাম নেমে যাই । তারপর ভাবলাম অফিসে পৌছানো জরুরী । তাই গেলাম না ।

আমাদের সমস্যা এটাই । সবাই মানলেও দু একজন এমন বের হবেই । তার চেয়ে বড় কথা । গ্রাম থেকে অনেক বাইকার এখন ঢাকা শহরে বাইক চালায় । আমি দু দিন দেখছি । তারা এটাকে গ্রাম মনে করে বাইক চালায় । বললাম ভাই এটা গ্রাম নয় । তাই নিয়ম কানুন আর রাস্তার অবস্থা রাইড করুন । না হলে কোন দিন খবর হয়ে যাবেন ।

আমাদের নিয়ম আছে কিন্তু আমাদের মানতে কষ্ট । আর কেউ মানলে তাকে তিরস্কার করি, হাসাহাসি করি । অথচ এটা আমার দেশ এই চিন্তাটা কারো মাথায় আসেই না ।




(৩)

আমি সব সময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি । চেষ্টা করি নিজেকে একটু একটু করে নতুন কিছু শেখার জন্য তৈরি করতে । অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম কি শেখা যায় । তারপর মনে হলো ভাষা শিখি । কি ভাষা শেখা যায় । যেহেতু মুভি দেখি । তাই যেটা শিখতে হবে সেটা হলো জাপানীজ ।

তাই জাপানীজ শেখার জন্য ভর্তি হলাম । যত আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছি ক্লাস করে ততই যেন হতাশ হয়েছি । কি শিখতে আসলাম । কিছুই বুঝি না । বর্নমালা তো সেই রকমের সহজ । তবে ক্যালিগ্রাফি তে লেখা । তাই টানের বিষয়টা বুঝতেই দুই সপ্তাহ লাগল । জাপানীজ ভাষার বর্নমালার দুটি ভাগ । একটা হিরাগানা ও অন্যটি কাতাকান । দুটির উচ্চারন একই শুধু লেখায় ভিন্নতা । আর এটা আমার মাথা জট পাকিয়ে গিয়েছে । একটা মুখস্থ হলে অপরটি ভুলে যাই ।

তবে হাল ছাড়িনি । কিছু কিছু শব্দ শিখে ফেলেছি । আশা করি প্রতিদিন একটু একটু করে ভাল হবে ।

" কোন কিছু শিখতে হলে ধৈর্য্য ধরা জরুরী "




(৩)

গতকাল গিয়েছিলাম একটা মোটরসাইকেল কোম্পানিতে । তারা নতুন বাইক নিয়ে আসবে । সেটার বিষয়ে জানতে । নতুন বাইকের লঞ্চ হবে তো তাদের জন্য একটা আর্টিকেল লিখতে হবে । বসেরা কেউ ঢাকায় নেই । তাই আমাকেই যেতে হবে ।

কোম্পানির ঠিকানায় লেখা আছে লিংক রোড । পরে আমাকে ঘুরে যেতে হয়েছে । কারন পুলিশ কনকর্ড এর ওইপাশে যে আড়ং এর শো-রুম সেখানেই ওই কোম্পানির অফিস । প্রায় তিন কিলো হাটতে হয়েছে । তবে ঠিক টাইমেই পৌছে যাই । হাটতে হাটতে দেখি লেকের পাড়ে এই ছেলের দল ক্রিকেট খেলছে ।

আবার সেই শৈশব আর বন্ধুদের কথা মনে পরল । তারচেয়ে বেশি আহত হলাম আমাদের সন্তানরা আজ কোন মাঠ পাচ্ছে না । তারা মুক্ত ভাবে দৌড় লাফ ঝাপ দেবে তার কোন উপায় নেই । আমি যখন বড় হয়েছি তখন আমাদের মাঠ গুলোও আস্তে আস্তে দখল হয়ে গিয়েছে । কষ্ট লাগত খেলতে পারতাম না । অনেক দূরে দূরে যেতে হতো । আগে বাসার সাইডে খেলতে পারতাম । আর এখন কিছুই নাই ।

আমরা আসলে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য কি রেখে যাচ্ছি? আসলেই কি ভেবে দেখেছি ?




(৪)

আমি নীলক্ষেত যেতে চাই না । কি কাজে জানি গিয়েছিলাম । মনে নেই । তারপর ই এই অঘটন ঘটে গেল আমার সাথে । বই যেন আমার পিছন ছাড়েই না । তারপর কি বাসায় নিয়ে আসলাম ।

বই পড়তে হবে । প্রচুড় পড়তে হবে ।





(৫)

আমি বাসায় ওয়াফাই নিয়ে আসার পর মোবাইলে নেট কেনা বন্ধ করে দিয়েছি । তারপর কি জন্য জানি কিনে ছিলাম । মনে নেই । তাই নেটে ঢুকলে সামুর এপে ঢু মেরে যাই । লেখা পড়ি । যদিও কমেন্ট করতে পারি না । তবে পড়তে তো আর খারাপ লাগে না ।

আশা করি খুব শীঘ্র ই কমেন্ট করা যাবে ।




(৬)

বস এবং একই সাথে আমার বড় ভাই ইংরেজি বইয়ের লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বলল যাও কিনে নিয়ে আসো । কি আর করা নীলক্ষেত চলে গেলাম । তারপর কি পকেট ফাকা । এরা আমাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না ।

ভাবছি বইয়ের বিজনেস করব । তখন আর কিনে পড়তে হবে না । বেচব আর পড়ব । তবে আপাতত ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে । এত বই যে এখন আমার বিছানায়ও বই দখল করে ফেলেছে । আম্মা এ নিয়ে প্রচন্ড বিরক্ত । কোন দিন জানি আমাকে বই সহ বের করে দেন । আপাতত একটা আলমিরা কিনতে হবে ।

তবে বই নিয়ে আমার এই নেশা তিনি খারাপ চোখে দেখেন না । আর বাবার কাছে তো আমি অনেক বেশি প্রশংসা পাই । তবে কলেজের পর বাবার কাছ থেকে বই কেনার টাকা নিয়েছি খুব কম । আর এখন তো নেই না ।

আমার মতে সবার বই কিনে পড়া উচিত । কারন যারা লিখেন, তারা অনেক কষ্ট করে লিখেন । তাই পিডিএফ পড়ে লেখকের ক্ষতি করবেন না ।


ভাল থাকুন । সুস্থ থাকুন । বই পড়ুন । আপনার চারপাশ পরিস্কার রাখুন ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৫৮
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিযোগ, অভিযোগ, অভিযোগ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৫৫



সবার মতোই, আমার প্রাইমারী স্কুলের জীবনটা বেশ আনন্দের ছিলো: টিফিনের সময় ও স্কুল ছুটির পর ফুটবল খেলাই আমাকে স্কুলে ধরে রেখেছিলো। আমাদের টিফিনের ছুটি হতো, আমরা কোনদিন টিফিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ১৩ বছর!!!

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭

দেখতে দেখতে সামুতে ১৩ টা বছর পেরিয়ে গেল!!! অথচ এখনো মনে হচ্ছে এইতো সেদিনের কথা। কিভাবে যে এতটা দিন হয়ে গেলো এখনো ভাবতে অবাক লাগে। সামুর বর্তমান অবস্থা অনেকটা জরুরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ও প্রিয়া তুমি কার?

লিখেছেন এম. বোরহান উদ্দিন রতন, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫৩





রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য প্রিয়া সাহা এমন কান্ড করেছে, এমন মনে করার কোন কারণ নেই। এটা বললে তার অপরাধের গুরুত্ব বরং হালকা হয়ে যাবে। সে যা করেছে তা অতি সুক্ষ্মভাবে বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়া সাহাকে নিয়ে সাধারন মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৩



১। সরল বিশ্বাসে এসব কথা বলা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। দেশের মানুষ জানতে চায় প্রিয়া সাহা কেন এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করল। এর সঠিক উদ্দেশ্য কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়া সাহা কি আর দেশে ফিরতে পারবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩১



*** কোন এক ডোডো পোষ্টটাকে রিফ্রেশ করছে ***

উনার দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে: প্রিয়া সাহার ঘটনা নিয়ে, উনার বিপক্ষে ব্যবস্হা নেয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×