somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

লেনিন - এক যোদ্ধা ও রাষ্ট্রনেতা

০৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :







রাজনীতির মধ্যে বামপন্থীরা সাধারণত একটু বেশি শিক্ষিত হয়। যদিও এটা আমার ধারনা। আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এদের দূরদর্শিতা দেখে অবাক হই। কারণ তাদের চিন্তা ধারা কিছুটা অন্য রকম। এছাড়া তারা গভীর ভাবে ভাবতে জানে। যেটা এক মাত্র পড়াশুনা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই বলে যে অন্যরা পড়াশোনা করে না তা নয়। তবে সেটা তাদের চিন্তার জগত বা কর্মক্ষেত্রে কম প্রতিফলিত হয়।
.
বামপন্থীদের আদর্শ বা মুল বলা যায় মার্কসবাদ। আবার অপর ভাবে বলা যায় কমিউনিস্ট বা সমাজতন্ত্র। কিন্তু কথা হচ্ছে বর্তমান সময়ে তার কতটুকুই বা সরাসরি ব্যবহার হচ্ছে কিংবা বলা যায় আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কমিউনিস্টদের আদর্শ কিন্তু একদম ইস্পাত কঠিন।
.
এই কমিউনিস্টের অন্যতম একজন নেতা হচ্ছেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়া। সম্ভবত নামটা অপরিচিত মনে হচ্ছে। একটু পরে নাম বলছি। এই ব্যক্তিটি সারা জীবন লড়াই করে গিয়েছেন। তিনি তার মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রকে শিখিয়েছেন কি করে উন্নতি করতে হয়। কিভাবে জনগন কে সাথে নিয়েও দেশ পরিচালনা করা যায়।
.
হ্যা, বলছিলাম লেনিন এর কথা। যিনি জন্ম দিয়েছেন রাশিয়ার মত একটি দেশের। জন্ম দিয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন সমাজতন্ত্র দিয়েও দেশ রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব।
.
তবে একদিনে এই সাফল্য আসেনি। তাকে লড়াই করতে হয়েছে। তার পুরোটা জীবন কেটে লড়াই করে। নির্বাসনে থেকে আর জেলে গিয়ে। পরিবার আপজন থেকে দূরে থেকে তাকে পরিচালনা করতে হয়েছে। বার বার ভেঙে গিয়ে আবার গড়েছেন নিজেকে।
.
প্রতি ধাপে ধাপে তিনি বাধা পেয়েছেন। তবু লড়াই করা ছেড়ে দেননি। ছোট বেলাতেই হারান ভাইকে। তার ভাই জারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রাণ হারান। তখনই তিনি ঠিক করেন যে এর প্রতিশোধ তিনি নেবেন। শুরু করেন তার লড়াই। তিনি কিন্তু এর জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দেননি। পড়েছেন, শিখেছেন এবং শিখিয়েছেন।
.
কিন্তু জারের গুপ্তচর সব সময় তার পিছু লেগেছিল। সব সময় লেনিনকে চোখে চোখে রাখত । তাদের বড্ড ভয় ছিল লেনিন কে নিয়ে। লেনিন মার্কস আর এঙ্গেলস এর প্রতি গভীর ভাবে টান অনুভব করতেন। এটাই হয়ত তার লড়াই করার হাতিয়ার ছিল। তিনি গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের কথা শুনতেন। শ্রমিকের অধিকারের কথা বলতেন। আর তাতেই তিনি চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
.
জেলে গিয়েও কমরেডদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। রুটি আর দুধ দিয়ে দোয়াত বানিয়ে লিখেছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। গোপন কালিতে ও সংকতে যোগাযোগ করেছেন বিভিন্ন সময়ে।
.
তবে তাকে প্রায় চার বছরের জন্য নির্বাসন দেয়া হয় এক প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখানেই তার স্ত্রীকেও পরবর্তিতে নির্বাসন দেয়া হয়। একে কে আসেন ট্রটস্কি সহ অনেকেই। তাদের লড়াই আবার শুরু হয়।
.
১৯০৫ সালের কথা রাশিয়াতে ঝড় উঠল। বিপ্লব হল। এবার কিছু একটা হবেই এমন মনে হচ্ছিল। কিন্তু না শেষ পর্যন্ত এটা আর সফলতার মুখ দেখেনি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এত বড় বিপ্লব হলো কেন লেনিন সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। আমার মনে হয়, তিনি থাকলে হয়ত সফলত। আবার এমন মনে হয় যেহেতু ব্যর্থ বিপ্লব তাহলে হয়ত লেনিন কে প্রাণ দিতে হয়।
.
এরপর লেনিন কে প্রায় দশ বছরের বেশি সময় লড়াই করতে হয়। এরই মাঝে বিশ্বযুদ্ধ চলে আসে। রাশিয়া ভেঙ্গে পরে। অপর দিকে চারদিক থেকে চাপ। সব মিলিয়ে একটা ভঙ্গুর অবস্থা। এই অবস্থা থেকে লেনিন দেশকে উদ্ধার করেন।
.
তিনি শুরু করেন দেশ পরিচালনার কাজ। যদিও তখনও অনেক বাধা এসেছে। তিনি শুধু অনুরোধ করেছেন যে সব কিছুই নতুন ভাবে হচ্ছে আপনার সহযোগিতা করুন আমরা উন্নতি করব। ইংল্যান্ড, জাপান, আমেরিকা সহ প্রায় ১৪টি দেশ আক্রমণ করেও জিত্তে পারেনি। লেনিন এর কাছে হেরেছে তারা।
.
লেনিন এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জ্ঞান অসামান্য ছিল। তিনি মাত্র কয়েক বছরে রাষ্ট্রের সব কিছু বদলে দিয়েছিলেন। তবে দুঃখের বিষয় মানুষটি শেষ দেখে যেতে পারেননি। যেই মাতৃভূমির জন্য এত কিছু। তার জন্য শেষটা তার দেখা হল না। মস্তিস্কের রক্তক্ষরনে মারা যান। ভ্লাদিমি ইলিচ উলিয়া ওরফে লেনিন।
.
আবুল হাসনাত এর বই লেনিন মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠার একটি বই। বইটি প্রকাশ করেছে দ্যু প্রকাশন। কিন্তু লেনিন কে মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠায় কি আনা সম্ভব। যদিও বইটি শিশু কিশোরদের জন্য। তবে আমার মনে হয় বইটি তথ্য সমৃদ্ধ করে আরও সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা যেতো। কারণ এখানে পুরো বিষয়টি দুটি লাইন বা একটি লাইনে শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে যদি আরও বিস্তারিত করা যেতো তবে ভাল হতো। বইটি সংস্করন করে বিস্তারতি ভাবে বর্ননা করলে হবে। এত তথ্য এক সাথে দেয়াটা বেশি সংগতি পূর্ন মনে হয়নি।
.
তবে লেনিনের মর্যাদা কিন্তু তাতে কোন অংশ কমে যায়নি। তিনি আছেন তার স্বমহিমায়।
.
কমরেড লাল সালাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২২
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×