somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

রাস্তা ঘাটে চলতি পথে - যাপিত জীবন কড়চা (পর্ব - ১)

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকল ব্লগারদের। নতুন বছরের শুরুতে কিছুটা ব্যস্ততা যাবার কারণে ব্লগে আসতে পারিনি। তবে ব্লগে আসব আসব করে সময় না পাওয়া ব্লগ লেখা বা এসে পড়াও হচ্ছিল না। তাই ভাবলাম একে বারে নির্বাচনের পর ব্লগে আসব। এই সুযোগে বাড়ি মানে গ্রামের বাড়ি কুয়াকাটা থেকেও ঘুরে এসেছি। বেশি অল্প সময়ের জন্য ভাল একটা রিফ্রেশমেন্ট হয়ে গিয়েছে।

তারপর ব্লগবাসী সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সবাই ভাল আছেন। এবার থেকে নিয়মিত ব্লগ লেখার চেষ্টা করব। সেই সাথে পড়া। আর এই সুযোগে জানিয়ে দিচ্ছি রাস্তা ঘাটে চলতি পথে - যাপিত জীবন কড়চা নামে ব্লগ শুরু করে দিলাম।

ঘটনা - ১

আজ শুক্রবার হবার কারণে বাসা থেকে বের হয়নি। বিকেলে ভাবলাম বের হই। তাই বাইক নিয়ে বের হলাম। বাসা থেকে বের হয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে যাবার ইচ্ছে হল। শুক্রবার অনেক মানুষ থাকে। মানুষ দেখতেও ভাল লাগে। তাই সেই দিকেই যাচ্ছিলাম। রাস্তায় অনেক রিকশা থাকার কারণে আমি আস্তেই যাচ্ছি। বাইক নিয়ে হর্ণ বাজিয়ে উড়াধুরা টান কখনই দেইনি। আর গলি বা এলাকার রাস্তায় এমনিতেই রিকশার জ্যাম থাকে। তাই এসব উঠতি বয়সী পোলাপান করে থাকে।

আমি আমার মতই যাচ্ছিলাম। হুট করেই একটা রিকশা ইউটার্ন নিয়েছে। হুট করে মানে হচ্ছে একদম হুট করেই, আমি সেকেন্ডের ভগ্নাংশের সময় পেয়েছি বাইকটি ব্রেক করার। হয়ত রিকশা লাগতে পারত। ক্ষতি হয়ত তেমন হত না, তবে শখের বাইকের কিছু তো ক্ষতি হতই। আমি বাইকটি দাড় করিয়ে রিকশাওয়ালার দিকে একটু তাকিয়ে রইলাম। আমি কিছুই বলিনি তাকে। কারণ বাইক চালানোর সময় মাথা গরম করা যাবে না।

আমি সুন্দর ভাবে চলে যাব বলে এক্সেলারেশন দিচ্ছি তখন রিকশাওয়াল বলে বসেছে, "চোখ নাই, দেখেন না"। সত্যি বলতে আমার মেজাজ তখন গরম হয়েছে। এই বেটাকে আমি কিছুই বললাম না, সে আমাকে এই কথা বলে। তখন আমি ওকে একটু চড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "আমি কি তোমাকে কিছু বলছি?"। তো সে রীতিমতো আমাকে শাসিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি তখন আর চুপ থাকতে পারিনি। আমিও ইউটার্ন নিয়ে ওকে যেয়ে ধরলাম। আর একটা কথাই জিজ্ঞেস করছি, আমি কি কিছু বলছি। তখন সে থতমত খেয়ে বলে যে না, এই সেই, এমনকি ওনার যাত্রী পর্যন্ত আমাকে বলেছে ভাই আপনার কোন দোষ নাই। কিন্তু সে স্বীকার করবেই না। আমার পেছনে এক বাইকার ছিল। উনিও চলে আসল।

উনিও রিকশাওয়ালাকে বলল, তোমাকে তো কিছু বলে নাই। তুমি উলটা কথা বললা কেন। কিন্তু তার এক কথা, উনি এই সেই ভাবে বলেন। আমি তখন আবার জিজ্ঞেস করছি আমি কি গালি দিছি? খারাপ কিছু বলছি? উত্তর দেও। তখন বলে যান যান দোষ আমারই। কিন্তু তার বলার ধরণ ছিল হু, দোষ আমার না আমি তাও স্বীকার করে নিলাম।

রিকশাওয়ালাদের প্রতি একটা সিম্প্যাথি কাজ করত। এখন ধীরে ধীরে সেটা কমে এসেছে। আরও কমে যাবে। এরা কোন উপলক্ষ্য পেলেই রেট বাড়িয়ে দেয়। ৪০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা হয়ে যায়। পুরো সিন্ডিকেট করে বসে থাকে। তাও ভাড়া কমায় না। এরপর তো ওইদিকে যাব না, তো দশ বিশটাকা বাড়ায়ে দিয়েন। এসব আছেই।

এরপর আমি আর কথা না বাড়িয়ে নিজের কাজে চলে গিয়েছি। কারণ দেরি হয়ে যাচ্ছিল। এজন্য ওই রিকশাওয়ালার সাথে আর কথা বাড়াইনি।

ঘটনা - ২

ঘুরতে ঘুরে চলে গেলাম হাতিরঝিল। শীত হলেও মানুষের আনাগোনা কম না। ভাবলাম রামপুরা বা বনশ্রীর দিকে যাই। তো বনশ্রীর দিকে ঢুকতেই একটা পুলিশ বক্স আছে। সেখানে সার্জেন্ট সহ কনস্টেবল দাঁড়িয়ে থাকে। আমি ওই দিকে প্রায় যাই। কিন্তু আমাকে সেভাবে কখনই থামায়নি। আজকে থামিয়েছে।

আমি জানি কি কি দেখাতে হবে, তাই আমাকে দাড় করানোর সাথে সাথে। আমি ব্যাগ থেকে লাইসেন্স, বাইকের ট্যাক্স টোকেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড বের করে দিলাম। ব্যাস আমার কাজ শেষ। সার্জেন্ট উনি আমার সব কিছু দেখে আমাকে কাগজ ও কার্ড ফেরত দিলেন। আমি ছোট করে তাকে বললাম, থ্যাংক ইউ। উনিও জবাবে বললেন, ওয়েলকাম। সেই সাথে একটা মুচকি হাসি দিলেন।

বিশ্বাস করুন আমার যে কিছু আগে রিকশাওয়ালার সাথে ঝগড়া হয়েছিল সেটা বেমালুম ভুলে গেলাম। আমি পুলিশের কাছ থেকে এমন সুন্দর ব্যবহার পাবো সেটা কিন্তু একটু হলেও সবার কাছে স্বপ্নাতীত বলে মনে হয়। তবুও মানুষটার ব্যবহার আমাকে ও ৫ মিনিটে বেশ মুগ্ধ করেছে। কিন্তু জ্যাকেট পরে থাকার কারনে নাম দেখতে পারিনি।

ঠিক আমার অপর পাশে এক বাইকার বাইকের কাগজ ছাড়াই চলে এসেছে। উনি ওনার কাছে গিয়ে কাগজ চাইলেন তখন সে বাসায় বা কোথাও ফোন দিয়েছে কাগজের জন্য। সুন্দর ভাবে তাকেও বললেন যে আপনি কাগজ দেখিয়ে চাবি নিয়ে যাবেন। এই বলে বাইকের চাবি নিয়ে গেলেন। কোন জরবদস্তি না, কথাকাটাকাটি না। বেশ সুন্দর ও ভদ্র ভাবেই বললেন।

আমি যখন চলে আসছি তখন ভাবছি সব সার্জেন্ট যদি ওনার মতো হতো। তবে আমরা যারা মোটরসাইকেল রাইড করি তাদের রাস্তা ঘাটে চলে আর অসুবিধা হত না। এরপর আমি আমার মতো হাতিরঝিল ঘুরে বাসায় চলে আসি।

দুদিন হল বেশ ঠান্ডা ও শীত। সবাই সাবধানে থাকবেন। আজকের মত এই পর্যন্তই।

ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৩৯
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

দুইদিন আগে সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের একজন সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×