somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুপকথা...

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা দৃষ্টিটা আজ অতোটা ঘোরলাগা ছিল না...


চুপকথা...


মনে পড়ে ?
পায়ে পায়ে হেঁটে চলা একেকটি মুহূর্ত... জড়িয়ে ধরে রাখা একে অপরকে...
বৃষ্টিস্নাত শেষ বিকেলে... সন্ধ্যাটা আসি আসি করছে এমন সময়ে...
রংধনুর বর্ণিল রেখাটার আলতো ছুঁয়ে যাওয়া তোমার টোল পড়া গালটার একপাশে...
কিংবা... উদাস বিকেলের মিষ্টি রোদে বসে আমার অপেক্ষার প্রহর গোনা... তোমার জন্য... !
কি অদ্ভুত ? স্মৃতির পাগলা ঘোড়াটার লাগাম আজকে বারবার ছুটে যাচ্ছে...
বড্ড বেয়াড়া হয়ে পড়েছে... ! কেন বলো তো ?

চোখে কি যেন একটা পড়েছে... তা না হলে কেন এই হঠাৎ ফল্গুধারা ?
অশ্রুর কোন রং হয় না... তাহলে হয়তো বা রংটা দেখে বলে দেয়া যেত...
নীলচে বেদনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লাল লাল কষ্টগুলো যখন কোন
একটা চোরাস্রোতে ভেসে গিয়ে মিশে যায় উপচে পড়া অশ্রুর সাগরে...
সেগুলো তখন কেমন বর্ণ ধারণ করে... !



চুপকথা...


বিকেলগুলো চলে গেছে বহুদিন...
যে বিকেলটায় একেকটা যুগ হেরে যেত একেকটা সেকেন্ডের কাছে...
কাঁধে মাথা রেখে কাটানো মুহূর্তগুলো ভুলিয়ে দিতো আমাদের দুজনের ' আমি 'টাকেই...
আমরা তখন হয়ে যেতাম রুপকথার স্বপ্নের চরিত্র...
একটু একটু করে সাজাতাম জীবনটাকে... মিলিয়েই এনেছিলাম জটিল বাস্তবতার
সরল অঙ্কটা... হয়তো বা আরও কিছু যোগ-বিয়োগ করার বাকি ছিল...
সেটা তো অসম্ভব কিছু ছিল না...

তাহলে কেন ? জীবনের খেরোখাতার অসম্পূর্ণ শেষটার রচনা কেন আমায় একা করতে হবে ?
ঘুম জিনিষটা কি সেটা ভুলে গিয়েছি অনেক আগেই...
বহুদিন হয়েছে... প্রচণ্ড শীতের রাতে... ছাদের এক কোণে বসে কাঁপতে কাঁপতে উষ্ণ সিগারেটের ধোঁয়ার স্বাদ নেয়া হয় না প্রাণভরে...
ধোঁয়াগুলোও মনে হয় এখন আকাশে মিশে যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়ে করুণার হাসি আসে... !
কুয়াশাঘেরা সকালে শিশিরে ভেজা ঘাসে পা ডুবিয়ে হাঁটি নি... বহুদিন...


চুপকথা...


পায়ের উপর পা রেখে আমায় জড়িয়ে ধরে হাঁটতে শিশুর মত আনন্দ পেতে তুমি... মনে আছে ?
একটা ছোট্ট বারান্দার স্বপ্ন দেখতে তুমি... যেখানে কোন পূর্ণিমার পক্ষেই আমাদের ফাঁকি দেয়া সম্ভব হবে না... যেখানে দু'জনের মনের কথা দু'জনের কাছে পৌঁছে দিবে চাঁদটা...
ঝুম বৃষ্টিতে হাতটা বাড়িয়ে অনুভবের সাথে মিশিয়ে ফেলবে প্রতিটি ফোঁটা...
না বলা অনেক কথার পসরা সাজিয়ে বসবে প্রতিটি রাত...
স্বপ্নের সীমানাটা ছড়িয়ে পড়বে অজানা কোন এক সুরে... আকাঙ্ক্ষিত কোন এক ছন্দে... !
পাহাড়ের বিশালতা তোমায় খুব টানতো...
প্রায়ই তোমার মাঝে পাগলামী ভর করতো সেখানে হারিয়ে যাওয়ার...
আমাকে তোমার সেই পাগলামীর সঙ্গী হতে হত... !



চুপকথা...


আমাদের তো পথটা একসাথে চলার কথা ছিল, তাই না ? অমোঘ নিয়তির ডাকে সাড়া
দেয়াটা কি খুব প্রয়োজন ছিল, বল ? আমি তো চাই নি তোমার হাতটা ছাড়তে...
তুমি তো জানতে... আমি কতোটা অসম্পূর্ণ তোমায় ছাড়া... বল, জানতে না ?
তবে কেন চলে গেলে ? আকাশের পরীরা কি তোমায় আমার চাইতেও বেশী যত্নে রেখেছে ?
সবজান্তার সাজানো প্রাসাদের সামনের বাঁধানো পুকুরে অঙ্কিত তোমার ছায়াটা কি আমার সেই তুমির থেকেও গাঢ় ?
বল ? নাকি আজও চুপ করে থাকবে ?

এখন আমার প্রতিটি সন্ধ্যা কাটে এপিটাফের সামনে...
আমরা কিন্তু সেই আগের মতোই কথা বলি...
আমি শুধু চাইতাম তোমার কণ্ঠটা শুনতে...
এতোটা মিষ্টতা স্রষ্টা আর কারও কণ্ঠে দিয়ছে কিনা... আমি জানি না !
তুমি চুপ করে থাকতে... ইচ্ছে করেই... হয়তো আমায় রাগাতে চাইতে... তাই না ?
আমি কিন্তু এখনো তোমার কণ্ঠটা শুনতে পাই... জানো ?
সেই হাসিটা এখনো কানে বাজে আমার...
না... আমার কাছে তুমি হারিয়ে যাও নি... !
এখনো আমার প্রতিটি ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়ার খেয়াল রাখো তুমি...
অভিমানে ঠোঁটটা ফোলাও বাচ্চাদের মত... আবার তোমার গভীর ভালোবাসাময় চোখ
দু'টোর দৃষ্টিতে করুনাধারাও ঝরে পড়ে আমার জন্য...



চুপকথা...


জেনে রেখো...
আমি তোমারই আছি... হয়তো বা আরও কিছুদিন... আমি আসছি তোমার কাছে...
আমাদের স্বপ্নের সেই জোছনামাখা বারান্দাটা আমরা ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেবো...
তোমার প্রিয় রক্তগোলাপ দিয়ে...
রুপকথার দেশের সবাই সাক্ষী থাকবে আমাদের মিলনের...
মন খারাপ করো না... প্লিজ, মন খারাপ করো না...
সবজান্তা অবশ্যই মিলিয়ে দিবেন আমাদের...
মর্ত্যের জীবনের অপ্রাপ্তিটা না হয়... অনন্তের চিরকালীন আকুলতাময় ভালোবাসার
বহ্নিমান শিখা হয়ে জ্বলজ্বল করতে থাকুক... তোমার আমার এক হওয়ার অপেক্ষায়...
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×