somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাব না তো! কেন যাব?

২৮ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধের কিছু ভিডিও ফুটেজ খুঁজতে গিয়েই স্বাধীনতা পরবর্তী কিছু চলচিত্রের মনযোগি দর্শক হতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ওয়েবসাইটে মাল্টিমিডিয়া রাখার জন্য এই যাচাইবাছাই। অরুনোদয়ের অগি্নস্বাক্ষী দেখতে গিয়েই গানটা পেলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রেডিও বাজছে, গাইছেন আপেল মাহমুদ- মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি। নায়কদের একজন উজ্জ্বল হঠাৎই ভাবাবেগ তাড়িত হলেন। গানের একটি লাইন 'যে নারীর মধু প্রেমেতে আমার রক্ত দোলে'। কমান্ডার কাঁধে ঝাকুনি দিলেন। স্বম্বিত পেয়ে স্বপ্নালু চোখ দুটোয় একঝটকায় আবার আগুনের প্রত্যয়। আড্ডাবাজের ফোনটা আমার জন্য ছিল সেরকম, 'অমি কী করছেন? পোস্ট মুছছেন কেন? কাদের হাত শক্তিশালী করছেন।' লজ্জা পাই। তাই তো! কী করলাম আমি! বাস্তবে ফের পদার্পন।
বোনাই অরূপ আমার সঙ্গে বেশ মজা নেয়। ডাকে সেন্টু পাবলিক। আমার সেন্টু একটু বেশিই। আসলেই চামড়া পাতলা। সহনশীলতা জিনিসটার ব্যাপক অভাব আমার জেনেটিকালি। যাহোক, সামহোয়ার ইন ব্লগে আমার লেখা মূলত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। একটা চেতনা প্রতিষ্ঠার। একজনও যদি উদ্বুদ্ধ হয়। তাহলেই বলতে হবে স্বার্থক এই লেখালেখি। আজ যখন গাজিপুরের মতো প্রত্যন্ত জায়গা থেকে নজরুল ফরাজি ফোন করলেন। বুঝলাম আমি কর্তব্যচু্যত হয়েছি মুহূর্তের ভাবালুপতায়। আমার পানে অনেক মানুষ চেয়ে। আমার হার তাদের হার। যে যুদ্ধ চলছে তাতে আমার সঙ্গীন এবং সঙ্গ তাদের বড় ভরসার। সেটা বঞ্চিত করার অধিকার আমি আসলেই রাখি না।
ব্লগের ওপর বিরক্তি এসে ছিল আসলে এর বৃন্দাবন ভাবমূর্তিতে। যে কেউ দুই লাইন ছড়া এবং আবঝাব লেখে কবিভাব নিচ্ছে। তা নিতেই পারেন সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে কে। ব্লগে আমার যতটা অধিকার, সমান অধিকার এখানে নিবন্ধন করা সবার। যে কেউ যা খুশী নিয়ে লিখতেই পারেন। সে তার অনুভূতি ব্যক্ত করছে ধরে নেওয়া যায়।
সমস্যাটা অন্যখানে। ব্লগ আমাদের ঘরবাড়ি নয়। আমরা আমাদের সামজিকতার সবটুকু পালন করেই ব্লগকে সময় দিই। এতে হয়তো কারো সুপ্ত বাসনা-কামনা-হতাশা রাগ ইত্যাদি নানা আঙ্গিকে নানা পোস্টাকারে বিবৃত হচ্ছে। তবে ব্লগের সুবাদে সামাজিক সম্পর্ক যে হয় না তা নয়। আমার বর্তমান বন্ধুদের একটা বড় অংশ ব্লগের লেখকরাই। এরা অনেকদিন ধরেই লিখছেন। প্যাটার্ন আলাদা, কিন্তু মননের ও চেতনার একটা জায়গায় সবাই একাট্টা।
এবং ব্লগ দিয়ে উন্নততর কোনো মানবিকতা সম্ভব তার প্রমাণ প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন। সাহায্যের ডাকে সাড়া দিয়ে এই ব্লগের মানুষগুলো সব ভেদাভেদ ভুলে সত্যি সত্যি মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন, সম্পর্কটা ভাচর্ুয়াল থাকেনি মোটেই। কৌশিক তার বাড়তি 10 হাজার টাকা আয়ের ধান্দা শিকেয় তুলে দিনের পর দিন চেষ্টা করে গেছে প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনটাকে দাড় করাতে। আমি আমার বিশ্বাসটাকে বন্ধক রেখেছি বন্ধুপ্রতীম ব্লগারদের কাছে। তারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন, এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ।
আমি, কৌশিক আর শরৎ তিনজন তিন মেরুর। কিন্তু আমাদের সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে, অবস্থানগত বিভেদ ভুলে, বয়সকে উপেক্ষা অসাধারণ এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য ব্লগকে হাতিয়াড় করেই কনস্ট্রাকটিভ কিছু করার। তো প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে অনেক ব্লগারই এক হয়েছিলেন। সেইখানে সামাজিক চেনাজানা, আনাগোনা এবং আদরআপ্যায়নও হয়েছে। কিন্তু আমাদের তিন বন্ধুর মাঝে চিড় ধরাতেই হঠাৎই কেউ যেন হামলে পড়ল। ব্যক্তিটি অতিমাত্রায় উচ্চভিলাষী। এতটাই যে সাফল্যের জন্য যতদূর যাওয়া সম্ভব যাবেন এবং চরম নেগেটিভ উপায়ে। তার মানসিক প্যাটার্নটা শুরুতেই পড়ে ফেলেছিলাম আমরা। সাবধান হয়েছিলাম। আমার হাতে মজার কিছু চ্যাট ট্রান্সক্রিপ্ট আছে। এগুলো ব্লগে ছাড়লে একদম খুব নিচে নামা হয়ে যায়। নোংরা ঘাটতে ঘিনঘিনে একটা আপত্তি কাজ করে। তবুও বেশ ক'জন ব্লগার সেই ট্রান্সক্রিপ্ট পেয়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন আমাদের বিরক্ত হওয়ার কারণ।
একজন তার মনের কথা নানা ভাবেই লিখতে পারেন। সেই উপলব্ধিতে রঙ্গিন করতে নানা মশলা মেশাতেই পারেন। কিন্তু সেখানে যদি আমি একটি চরিত্র হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করি এবং দেখি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে_আহত হবই। আমি প্রচণ্ড রিয়্যাকটিভ। তারপরও নিজেকে সম্বরণ করে নিয়েছিলাম। একটা পর্যায়ে আমাদের তিনজনের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলতে লাগল ব্যাপারটা। দেখা গেল আমাদের বিশেষ কিছু নিয়ে আলোচনা করার কথা, কিন্তু আড্ডায় ঘুরে ফিরে আসছে বিশেষ চরিত্রটি। তার বদনাম গেয়েই সময় পার। তার মিথ্যেবাদিতায় হাসাহাসি। তার মিথ্যেভরা আকুতিতে দীর্ঘশ্বাস। একটা সময় ঠিক করা হলো সব একসঙ্গে অবসানের। কারণ আমাদের মুল লক্ষ্য থেকে আমরা বিচু্যত হচ্ছি। ত্রিশঙ্কু নামে একটি পোস্ট দিল কৌশিক। আশ্চর্য যে প্রতিবাদ এল এমন মহল থেকে, যা অভাবনীয়। পরে জানা গেল, এখানে অতিবড় কূটচাল চালা হয়েছে। তখন বোঝা গেল, এটা আসলে পরিকল্পিত একটা ব্যাপার। ব্যক্তিটি লাফান, ঝাপান, ভালোবাসা বিলান, করূণা ভিক্ষা করেন নানান আঙ্গিকে। কিন্তু সেখানে চরিত্র হিসেবে আসে কখনো শরত কখনো আমি। চ্যাটিংয়ে এমনও লেখা হয় যে 'আরে পিয়াল! ও আমারে বিয়া করার জন্য পাগল। আমি ডাক দিলে মুক্তাটুক্তা ফেলে দেখবা ছুটে আসবে'- প্রথমে খুব মজা পাইছিলাম। পরে আর সেই মজা থাকে নাই। বোঝাগেল ওভার কনফিডেন্সের অপব্যবহার হচ্ছে। কল্পনায় আরো অনেক গল্প যোগ হয়। আমার ভালোবাসা কলঙ্কিত হয়। আমি একজন লম্পট হিসেবে চিত্রায়িত হই। চিপককে পোস্টের পর দেখা গেল ভয়ানক ওলটপালট। প্রতিহিংসাপরায়নতা একটা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার প্রকট প্রকাশ।
যাক সে কথা। ব্যক্তি সম্পর্ক হতেই পারে। ব্লগের অনেক প্রবাসীর সঙ্গে রাতে আড্ডা হয়। কেউবা ফোন-এসএমএস করে। আর ঢাকার আমরা ইন্টারঅ্যাকশন করি আমাদের মতো করে।
ব্লগ ছাড়িনি। পোস্ট করিনি। কিছু ভালো পোস্ট রাগের মাথায় মুছে গেছে। কপি আছে প্রয়োজনে আবার দেব। কারো প্রতি বিরাগ নেই। বিরূপতা নেই। আড্ডাবাজ স্রেফ মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন সেই যুদ্ধের কথা। মানব জন্মের নামে কলঙ্কিত হতাম যদি এই দুঃসময়ে শুধু যদি নারীকে সাজাই। সেটা করছি না। আমার কমিটমেন্টে আমি দৃঢ়। বাকিটা অতীত হিসেবেই ধুলোঝাড়ার মতো টোকা দিচ্ছি।
সো ফ্রেন্ডস আম ব্যাক, অ্যান্ড উইদ মোর সফিস্টিকেটেড উইপনারিজ। জাস্ট ওয়েট ফর দ্য ব্যাং অ্যান্ড বুম। ব্লগে তুমুল বিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×