যাক গা। প্রথম টিটুর লগে আমার পরিচয় আইডিয়াল স্কুলে। ক্লাস এইটে মাত্র ভর্তি হইছি। আদমজী ক্যান্ট থাইকা আসছি বইলা আমারে স্কুলের পোলাপান ডাকত আদমজী। পিয়াল নামটা আর কইতাম না, তাইলে শিয়াল ডাকতে পারে। একদিন স্কুল ছুটির পর টিটু আমারে ধাক্কা দিল। আমার অপরাধ সেই দিন ইংরেজি ক্লাসে মোজাম্মেল স্যার র্যাপিড রিডিং পড়তে দিছে, টিটু সার্কাসরে কার্কাস পড়ছে- আমি হাইসা দিছিলাম। ব্যাপারটা স্যারও মার্ক করছেন। আমারে পিচার, তারপর আর কী কী বানান জিগাইছিলাম। চটপট জবাব দিছি, স্যার খুশী হইছে। কিন্তু ধমকাইছে কখনো অন্যদের নিয়া হাসবা না। টিটু ধাক্কা দিল, আমিও পালটা দিলাম। তখনো গালাগালি জানি না তেমন। অমনি দেখি ঘেরের মইধ্যে পড়ছি। কলোনীর পোলাপান। অবধারিত সেই মাইরের থাইকা আমারে রক্ষা করছিল মন্টি। ওরে নিয়া লিখছিলাম সম্ভবত আগে। মন্টিও কলোনির, বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক কলোনি। ওর লগে পরে দারুন ভাব হইছিল। এখন দেখা নাই, ওয়ার্লড ব্যাঙ্কের দুঁদে কর্মকর্তা। লাস্ট কথা হইছিল রুহুল আমিন নামে আমাদের এক জানি দোস্তের অকাল প্রয়াণে।
সেই টিটুর লগে আমার দারুণ ভাব হইয়া গেছিল পরে। সেইটা কলেজে উঠার পর। সে তখন রাজাবাজার থাকে। এবং মোটামুটি ভালো গুন্ডা। তেজগা কলেজে জেন্ডারগো ওইখানে যাইতাম (আলেকজান্ডার, পরে গুটিতে স্ত্রী কন্যার সামনে গুলিতে নিহত)। তখন দেখি আমাগো টিটু বড় হ্যাডম।
স্কুলেই আরেক টিটু আমারে স্কুলছাড়া করছিল এক মাসের জন্য। তখন বনিএম , অ্যাবার যুগ। সে একটা টিডিকে ক্যাসেট আনছিল বনিএমের। আমি নিছিলাম শুনতে। ক্লাসেও নিয়া আসছি ফেরত দিতে। পরে দেখি খাপ আছে, ভিতরে ক্যাসেট নাই। আমি তো গেছি। টিটু খালি কইল, তোরে খুইন কইরা লামু। যেমনে পারছ ক্যাসেট দিবি। আমি এত টাকা কই পামু। হাইয়েস্ট 50টাকার নোট দেখছি (ঈদের সালামি বাদে)। যাই হোক, বাইত্তে স্কুলের কথা কইয়া বাইরাইতাম, সোজা পাবলিক লাইব্রেরি। নিচের শিশুদের অংশে টেনিদা, ঘনাদা, ফেলুদা আমার সেই সময়ই ঠোটস্থ করা। আমার মায় কেমনে জানি খবর পাইল আমি স্কুলে যাই না। মামারে নিয়া একদিন আমারে ফলো করল, দেখল আমি কই যাই। বাসায় ফেরার পর একটা মাইর খাইলাম (লজ্জার কথা বলি, আমার মা আমারে কলেজে ওঠার পরও মারছে। আর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা পর্যন্ত যে কোনো পরীক্ষা নিয়া গেছে, আসছে)
পরে মামা জিগাইল কি হইছে? কইলাম। সে দোকান থাইকা রেকর্ড কইরা আনল টিডিকে ক্যাসেটে। ক্যাসেট ফেরত দিলাম, ক্লাসেও ফেরত গেলাম। কিন্তু স্কুল পালানোর মজা তখন পাইয়া গেছি। মধুমিতা হলে সোফিয়া লরেন লাগলেই আমি বাঙ। কিসের স্কুল কিসের কী!
আতেল টিটু (ওরফে টিটো) আমার কলেজ লাইফের বন্ধু। তখন বেগমবাজার হট আমাগো লাইগা। ঢাকা কলেজ থাইকা আরিচার বাসে উঠতাম। 30 পয়সা পার হেড। যাইতাম সোজা পুরাণ ঢাকা। কলেজটার নাম মনে নাই। ওইখান থাইক া হাটলেই বুলু বুলু। সাত টাকা টিকেট। জানালা দিয়া ঢুকতে হয়, দরজা দিয়া বাইরাইতে হয়। আমরা বিশ-পচিশ জনের কম হইতাম না। তারপর কেউ কোচিংয়ে, কেউ বা ধুন খাইতে (নতুন খাওয়া শিখছি)। আতেল টিটু আমারে ভালো ছবি দেখাইত। তার কাছে লিস্ট আছিল অস্কারে নমিনেটেড ছবিগুলার। স্টারপ্লাস থাইকা আইনা দেখতাম। এছাড়া আছিল আমেরিকান লাইব্রেরি, ব্রিটিশ কাউনিসল, জার্মান আর ইন্ডিয়ান হাইকমিশনে। হালায় এখন টেক্সাসে বড় আর্কিটেক্ট।
মহল্লার টিটুর ব্যাপক প্রভাব আমার জীবনে। তার লগেও মারামারিতে পরিচয়। পুরাডাই কলিজা। ডাবল মার্ডার খাইয়া জাপান গেল গা। ওইখানে ডাকাতি আর ড্রাগসের বিজনেস করতে গিয়া ধরা খাইল, 7 বছর গরাদ খাটল। দেশে ফিরল নিঃস্ব হইয়া। আমরা তখন পুরা হিরোইনচি। সে আমাগো নিষেধ করত। পরে দেখি ওই ধইরা লাইছে। অবশ্য আমাগো হাতেখড়ি তার হাতেই। পরে আমাগো সেন্টার থাইকা রিহ্যাব করছে। খুব ভালো আছে। নারী প্রসঙ্গে অসাধারণ একটা ফিডব্যাক দিছিল, - দোস্ত যত যাই কও, মাইয়া লাগান যায় বহুত। মাগার বউরে যদি ঠিক মতো বানাইয়া লইতে পারো, তয় দেখবা প্রতি রাইতে ভিন্ন মজা।' মনে রাখছি, শিগগির কাজে লাগব মনে হইতাছে
আরেকজন টিটুর লগে হালকা-পাতলা ভারচুয়াল খাতির হইছে। মানে ঠিক খাতির না, মাঝে মইধ্যে হাটার পথে পরস্পররে ক্রস করি। তারে বহুত ট্যালেন্ট লাগছে। এখন অ্যাড দিছি ম্যাসেঞ্জারে, সে অ্যাকসেপ্ট করছে। বাতচিত হয় নাই, ভাবলাম এত পিছলায় ক্যান পোলা। পরে শুনি কাহিনী অন্য। এক দুজেকে লিয়ে
। অপেক্ষায় আছি বন্ধু। দেখা হবে তোমার আমার অন্য গানের ভোরে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



