somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিটুদের কথা...

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জীবনে কয়েকজন টিটু আসছে। একজন টিটো, মানে তারে টিটু ডাকলে ঝাড়ি লইত, 'মিয়া মার্শাল টিটোর নাম হোনো নাই! যুগোশ্লাভিয়ার। বাপে তার নামে নাম রাখছে। পচাও ক্যান।' আমি তারে আরো বিলা করতাম 'হিটো' ডাইকা। কইতাম, 'তোমার বাপে ক্যান যে জার্মানির অমন ডাকাবুকা মানুষডা ছাইড়া যুগোশ্লাভিয়া গেল, বুঝলাম না।'

যাক গা। প্রথম টিটুর লগে আমার পরিচয় আইডিয়াল স্কুলে। ক্লাস এইটে মাত্র ভর্তি হইছি। আদমজী ক্যান্ট থাইকা আসছি বইলা আমারে স্কুলের পোলাপান ডাকত আদমজী। পিয়াল নামটা আর কইতাম না, তাইলে শিয়াল ডাকতে পারে। একদিন স্কুল ছুটির পর টিটু আমারে ধাক্কা দিল। আমার অপরাধ সেই দিন ইংরেজি ক্লাসে মোজাম্মেল স্যার র্যাপিড রিডিং পড়তে দিছে, টিটু সার্কাসরে কার্কাস পড়ছে- আমি হাইসা দিছিলাম। ব্যাপারটা স্যারও মার্ক করছেন। আমারে পিচার, তারপর আর কী কী বানান জিগাইছিলাম। চটপট জবাব দিছি, স্যার খুশী হইছে। কিন্তু ধমকাইছে কখনো অন্যদের নিয়া হাসবা না। টিটু ধাক্কা দিল, আমিও পালটা দিলাম। তখনো গালাগালি জানি না তেমন। অমনি দেখি ঘেরের মইধ্যে পড়ছি। কলোনীর পোলাপান। অবধারিত সেই মাইরের থাইকা আমারে রক্ষা করছিল মন্টি। ওরে নিয়া লিখছিলাম সম্ভবত আগে। মন্টিও কলোনির, বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক কলোনি। ওর লগে পরে দারুন ভাব হইছিল। এখন দেখা নাই, ওয়ার্লড ব্যাঙ্কের দুঁদে কর্মকর্তা। লাস্ট কথা হইছিল রুহুল আমিন নামে আমাদের এক জানি দোস্তের অকাল প্রয়াণে।
সেই টিটুর লগে আমার দারুণ ভাব হইয়া গেছিল পরে। সেইটা কলেজে উঠার পর। সে তখন রাজাবাজার থাকে। এবং মোটামুটি ভালো গুন্ডা। তেজগা কলেজে জেন্ডারগো ওইখানে যাইতাম (আলেকজান্ডার, পরে গুটিতে স্ত্রী কন্যার সামনে গুলিতে নিহত)। তখন দেখি আমাগো টিটু বড় হ্যাডম।
স্কুলেই আরেক টিটু আমারে স্কুলছাড়া করছিল এক মাসের জন্য। তখন বনিএম , অ্যাবার যুগ। সে একটা টিডিকে ক্যাসেট আনছিল বনিএমের। আমি নিছিলাম শুনতে। ক্লাসেও নিয়া আসছি ফেরত দিতে। পরে দেখি খাপ আছে, ভিতরে ক্যাসেট নাই। আমি তো গেছি। টিটু খালি কইল, তোরে খুইন কইরা লামু। যেমনে পারছ ক্যাসেট দিবি। আমি এত টাকা কই পামু। হাইয়েস্ট 50টাকার নোট দেখছি (ঈদের সালামি বাদে)। যাই হোক, বাইত্তে স্কুলের কথা কইয়া বাইরাইতাম, সোজা পাবলিক লাইব্রেরি। নিচের শিশুদের অংশে টেনিদা, ঘনাদা, ফেলুদা আমার সেই সময়ই ঠোটস্থ করা। আমার মায় কেমনে জানি খবর পাইল আমি স্কুলে যাই না। মামারে নিয়া একদিন আমারে ফলো করল, দেখল আমি কই যাই। বাসায় ফেরার পর একটা মাইর খাইলাম (লজ্জার কথা বলি, আমার মা আমারে কলেজে ওঠার পরও মারছে। আর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা পর্যন্ত যে কোনো পরীক্ষা নিয়া গেছে, আসছে) পরে মামা জিগাইল কি হইছে? কইলাম। সে দোকান থাইকা রেকর্ড কইরা আনল টিডিকে ক্যাসেটে। ক্যাসেট ফেরত দিলাম, ক্লাসেও ফেরত গেলাম। কিন্তু স্কুল পালানোর মজা তখন পাইয়া গেছি। মধুমিতা হলে সোফিয়া লরেন লাগলেই আমি বাঙ। কিসের স্কুল কিসের কী!

আতেল টিটু (ওরফে টিটো) আমার কলেজ লাইফের বন্ধু। তখন বেগমবাজার হট আমাগো লাইগা। ঢাকা কলেজ থাইকা আরিচার বাসে উঠতাম। 30 পয়সা পার হেড। যাইতাম সোজা পুরাণ ঢাকা। কলেজটার নাম মনে নাই। ওইখান থাইক া হাটলেই বুলু বুলু। সাত টাকা টিকেট। জানালা দিয়া ঢুকতে হয়, দরজা দিয়া বাইরাইতে হয়। আমরা বিশ-পচিশ জনের কম হইতাম না। তারপর কেউ কোচিংয়ে, কেউ বা ধুন খাইতে (নতুন খাওয়া শিখছি)। আতেল টিটু আমারে ভালো ছবি দেখাইত। তার কাছে লিস্ট আছিল অস্কারে নমিনেটেড ছবিগুলার। স্টারপ্লাস থাইকা আইনা দেখতাম। এছাড়া আছিল আমেরিকান লাইব্রেরি, ব্রিটিশ কাউনিসল, জার্মান আর ইন্ডিয়ান হাইকমিশনে। হালায় এখন টেক্সাসে বড় আর্কিটেক্ট।
মহল্লার টিটুর ব্যাপক প্রভাব আমার জীবনে। তার লগেও মারামারিতে পরিচয়। পুরাডাই কলিজা। ডাবল মার্ডার খাইয়া জাপান গেল গা। ওইখানে ডাকাতি আর ড্রাগসের বিজনেস করতে গিয়া ধরা খাইল, 7 বছর গরাদ খাটল। দেশে ফিরল নিঃস্ব হইয়া। আমরা তখন পুরা হিরোইনচি। সে আমাগো নিষেধ করত। পরে দেখি ওই ধইরা লাইছে। অবশ্য আমাগো হাতেখড়ি তার হাতেই। পরে আমাগো সেন্টার থাইকা রিহ্যাব করছে। খুব ভালো আছে। নারী প্রসঙ্গে অসাধারণ একটা ফিডব্যাক দিছিল, - দোস্ত যত যাই কও, মাইয়া লাগান যায় বহুত। মাগার বউরে যদি ঠিক মতো বানাইয়া লইতে পারো, তয় দেখবা প্রতি রাইতে ভিন্ন মজা।' মনে রাখছি, শিগগির কাজে লাগব মনে হইতাছে
আরেকজন টিটুর লগে হালকা-পাতলা ভারচুয়াল খাতির হইছে। মানে ঠিক খাতির না, মাঝে মইধ্যে হাটার পথে পরস্পররে ক্রস করি। তারে বহুত ট্যালেন্ট লাগছে। এখন অ্যাড দিছি ম্যাসেঞ্জারে, সে অ্যাকসেপ্ট করছে। বাতচিত হয় নাই, ভাবলাম এত পিছলায় ক্যান পোলা। পরে শুনি কাহিনী অন্য। এক দুজেকে লিয়ে। অপেক্ষায় আছি বন্ধু। দেখা হবে তোমার আমার অন্য গানের ভোরে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×