-আমরা যাইতাছি কইরে ছক্কু?
-এই তো কাছেই। আলাপি আফার ওইখানে।
-আলাপিডা ক্যাডা?
-আলাপি আফারে চিনেন না! চিনার কথাও না অবশ্য আফনার। আফনার ধান্দার লগে হ্যার ধান্দার মিল আছিল না কখনো।
-ধান্দাবাজ?
-না সেইডা কই নাই। মানে আপনারে ধান্দাবাজ কমু আমার ঘাড়ে কয়ডা মাথা? আলাপি আফা হইল রত্ন। উচ্চ শিখ্যিত মহিলা। বাংলায় যারে কয় সুপার জিনিয়াস। কি কমু ভাই, শুনলে টাসকি খাইবেন। উনি দুইবেলা ইস্কুলে যাইত!
-ক্যান ঢিলা আছিল নাকি! শুইন্যা মনে হয় খুব খারাপ ছাত্রী। নাইলে দুইবেলা ইস্কুল করব ক্যান।
-এই তো ভাই। আপনেও সাধারণ মাইনষের মতো অসাধারণ বিচারে ভুল করেন। কইলাম না সুপার জিনিয়াস হইতে এলেম লাগে। উনি বছরের ৩৬৫ দিন দুইবেলা ইস্কুল করতেন। সকালের শিফট আবার বিকালের শিফট। ছুটির দিনে স্কুল বন্ধ থাকলেও যাইতেন। ক্লাস রুমে ঢুইকা বোর্ডে চক দিয়া লিখ্যা একবার টিচার সাজতেন, আবার ছাত্রী সাইজ্যা বেঞ্চে বইস্যা উত্তর দিতেন।
-কস কী বলস কী?
-হ ভাই। বিশ্বাস হয় না তো! বিশ্বাস না হইলে কালু দারোয়ানরে জিগান। গার্লস ইস্কুলের। কালু ভাই তো এখনো গর্ব কইরা কয় 'মাইয়াডার লগে আমি কত খানা খাইছি। এখন কত্ত বড় মানুষ। আমারে নাও চিনতারে। ক্যান যে একখান ফটু তুইলা রাখলাম না।'
-আরো গুণ আছে ভাই। বাংলায় লিখে, ইংরেজিতে হাসে আর হিন্দিতে গান গায়।
-উরে খাইছে। হ্যায় করেডা কী?
-সমাজ সেবা। ইনফ্যাক্ট আপনার রাজনীতি করতেইলে প্রাথমিক পাঠটা উনার থাইক্যাই নিতেইবো। বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত তার মুখস্ত। খাড়ান একডা বই বাইর হওয়ার কথা, পইড়া শুনামুনে আফনেরে। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


