somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু

১১ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধু~ মানে না কোন ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য কিংবা শূদ্র, কিংবা কোন ধনী বা গরীব। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে প্রতিনিয়ত নানা মতবাদের নানা ধর্মের মানুষের সাথে উঠা-বসা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিচিত্র রকমের মানুষের সাথে পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। খুব কাছের এক বন্ধুর প্রেরণায় এই ছোট্ট একটি লিখা লিখলাম।

ভর্তির দিন, অফিসের বাইরে দারায়া দারায়া বাপের সাথে ঝগড়ায় ব্যাস্ত আমাদের সাকীফ। দেইখা মনে হইলো, পুলাটা বেশ ঠাণ্ডা আর ভদ্র কিসিমের। গেলাম আগায়া, বেশ ভালো ভাবেই আমারে রিসিভ করল। প্রথম দর্শনেই, সাবজেক্ট নিয়া কথা কয়া আমার মাথা ঠাণ্ডা কইরা দিল। বুঝলাম এইটা অন্য জাত। যাই হোক, কিসুক্ষণ আজাইরা পেচাল পাইরা মাথা ঘুরায়া দেখি আমার বাপজান ওর বাপের লগে ইষ্টিকুসুম পেচাল সুরু করসে। বাহ বাহ কইরা উঠলাম। পত্থম দিন কিলাস শেষ কইরা বাইর হইয়া একলগে রিক্সায় উইঠা কই, চল নাস্তা কইরা আসি। সিগারেটে নাকি ভালোবাসা বারে; প্রমাণ পাইলাম এইখানে। দুইজনে তো আমরা মেলা খুশি, পাইসি যে আপন জাত। এইরাম ভাবে চলতাসে এখনো। দুইজন দুইজনরে অনেক লাব করি এখনও B-)B-)B-)

শাহবাগ মোড়ে আইসা দেখি ক্যাম্পাস গরম। নতুন নতুন স্টুডেন্ট; আইডি না থাকায় পুলিশ বাবা কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দিয়া এন্ট্রি দিল না। মলিন বদনে মাথা ঘুরায়া চায়া দেখি এক মাইয়া বাৎচিত করতাসে পুলিশের লগে। নাম তাহার ইরা। টাইম মেশিনে কইরা ২ দিন আগে ব্যাক করাতে সৃতি আমারে ফ্ল্যাশ ব্যাক মাইরা কইল যে, ক্লাসে সাকীফ এই মাইয়ারে দেইখা কথা কইতে চাইসিল। যাহাই হউক, ১ম দর্শনে মাইয়ার চক্কু দৃষ্টি তে আলগা ভয় পাইয়া আর পুলিশের লগে বাতচিত করা দেইখা আমি আস্তে আস্তে কইরা সাইড হইয়া দিলাম সামনের দিকে দৌড়। এখনো অবশ্য দৌড়াইতাসি এই মাইয়ার সামনে খামছি খাওয়ার ভয়ে। এখন আর অবশ্য আগের মত ভয় নাই। যে মাইয়া কিনা আমারে মামা বইলা জান দিয়া দেয়, তারে ভয় পামু কেন। কিন্তুক, এখনও আমারে ঐদিন দৌড়াইসিলাম দেইখা খোঁচাটা জায়গা মত বসায়া দেয়। :P :P :P

পত্থম পিকনিক জামু। "সিগারেটের টানে পাশে আনে"... আবারো প্রমানিত। বাসের মধ্যে এইবার কাসে আইল অপূর্ব দেয়াসলাই খুজতে খুজতে। প্রভার রুপের মত আগুন টা জালায়া দিয়া সেই যে ১ম বর্ষে কাছে টাইনা নিসিলাম, এখনও টানতেই আসি, টানতেই আসি। ও অবশ্য আইতেই আসে, আইতেই আসে। আসাটাই স্বাভাবিক। ভোলা ভালা পোলাটারে খালি প্রভা টাইপ কথা কইয়া স্রিতিকাতর করায়া দেই। ভালাই লাগে B-)B-)B-)

"আরমান... রাখবে বাপের মান।" ডিস্টিং ডিস্টিং টাইপ পোলা। অরে দেইখা কইতে মুঞ্চায়, পোলা তো নয় সে যে আগুনেরি গোলা। ফাঁক (সময়ের ফাঁক) পাইলে আমারে পচাইতে সদা উজ্জীবিত এই মানবটি। বর্তমানে অবশ্য নতুন প্রেমে পইড়া বসন্তের দিন গুনতাসে। :D:D:D

অহহ, রাজুর লাল ব্যাগের কথা কইতেই তো ভুইলা গেসিলাম। ৩য় কিলাসে ১০ মিনিট লেট কইরা আইসে। স্যার জিগায়, থাকো কই... উত্তরঃ লালবাগ। পোলা পিসে ঘুইরা যাইতে যাইতে সবাই চায়া দেখে পিঠে ওর লাল-ব্যাগ। এক মাইয়া ফুচকি মাইরা হাসি দিয়া কয় "হিহিহি... লালবেগ" বাসসস... স্যার সহ পুরা কিলাস হাসি। ওই থেকা এই ভদ্র পোলাটার লগে পরিচয়। যাই কই, তাই শুনে। কিঞ্চিৎ শর্ট হইলে কি হইব, ওর দৃষ্টি সীমা কিন্তু অন্য ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ব্যাচের আপুদের দিকে বিস্তৃত। কি লুলামি :D:D:D

একটু জাতীয় হওয়ার চেষ্টা করি সানজানার কথা বলিয়া। চাটগাঁইয়া মাইয়া, পচাইয়া ভারি মজা। পত্থম পত্থম চিপায়-চাপায় বইসা মবিলে বয়ফ্রেন্ডের লগে কথা কইলেও এখন কচ্ছপের খোলস থাকিয়া বাহির হইয়া আমার লগে পচানির তেল তুলার চেষ্টা করে। খালি চাটগাঁইয়া দেইখা, নাইলে কই উরায়া দিতাম ;););)

বরিশালের মনুরা কুন জাগায় নাই? তাও একটা না, দুই দুইটা। তাও আবার দুই ভাই। থাকে হলে। মুসফিক সারাদিন ঘুমায় আর সারা রাইত নতুন ল্যাপটপ দিয়া ডাউনলোড করে (কি ডাউনলোডায় সেটা নাইবা বলি ;)), যার কারণে ওর নাম হইয়া গেসে "খেছি মুসফিক"। আর অন্যদিকে হাসিব হলের রুম দখলে রাখতে ব্যাস্ত সারাদিন। পরীক্ষার সময় তার নকলের বাহারের নমুনা দেখলে স্বয়ং আলফ্রেড নোবেল কবর থেইকা আইসা তারে পুরষ্কার দিয়া যাইত :|:|:|

খুলনার সাইফ বাবা। বিখ্যাত ৪-৪-২-২ থিওরিতে (এই থিওরি এইখানে ব্যাক্ষা করলে সামুর মডুরা আমারে মধু দিয়া ধুয়া দিবে)। চরম সিরিয়াস এক মানব। কোন ধরণের ফাইজলামি করা যাবে না :| এমনকি এই পোস্ট দেইখা আমারে ফোন দিয়া বলবে "মামা, এইটা কিসু হইলো? আমারে নিয়া এইসব কথা না বললে হইত না?" অথচ আপনারা সাক্ষী থাক্লেন, আমি বেশি কিছুই বলি নাই কিন্তুক :| আরেকটা ইনফো দেই, টিএসসির কেরাম রুমের কোন গুটি না পাওয়া গেলে সাইফ বাবার সাথে কন্টাক্ট করতে পারেন, ওনাকে আবার সব সময় অখানেই দেখা যায় কিনা :)

সামনে পিলান করতাসি, সবাই মিলা ট্রেন জার্নিতে বাইর হমু একদিনের। দোয়া রাইখেন।

পুনশ্চওঃ বাস্তব-অবাস্তব, হাসি-কান্না... সব কিছুই একমাত্র কার সাথে শেয়ার করা যায়, জানেন? বন্ধুর সাথে। যাদের কথা বললাম, এরা শুধু আমার বন্ধুই না, খুবই আপনজন। যে কোন সময় যে কোন কারণে ছুটে যেতে পারে বন্ধুতের বন্ধন, তাই বলে কি কেউ নিজেকে বন্ধুদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে? আরও একজনের কথা লিখতে চেয়েও পারলাম না। কারণ সে ধৈর্য পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে আমার জীবন থেকে ১৮০ ডিগ্রি কোণে বাঁক নিয়েছে।

পরিশিষ্টঃ এই লেখাটি উল্লেখিত সবাইকে উৎসর্গ করে লেখা। ভালো থাকিস তোরা। একদিন হয়ত আমি থাকব না, তখন আমার এই লেখাটি থাকবে।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×