somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই মানহীন কমিউনিটি ক্লিনিক দিয়ে আমি কি করিবো?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথা বলছি বাংলাদেশ সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি নিয়ে।
আওয়ামীলীগের ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে 'সবার জন্য স্বাস্থ্য' নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে এই প্রকল্পটি গ্রহন করেন। তবে প্রকল্পটির নিয়োগ নীতিমালায় এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণই পর্যায়ের একটা বড় ভুলই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আজ প্রশ্নের মুখে দাড় করাচ্ছে। তারা এখানে কোন মেডিকেল পার্সন না রেখে শুধুমাত্র এইচএসসি সমমান যেকোন বিভাগ থেকে লোক নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। তাদের পরবর্তীতে নাম দেওয়া হয় সিএইসসিপি।আর্টস, কমার্স, মানবিক, কারিগরি সকল শাখার ছেলেমেয়েদের মাত্র ৩ মাসের একটি ট্রেনিং দিয়ে হাতে তুলে দেওয়া হলো স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার বোঝা। ব্যাপারটা যতটানা হাস্যকর তার চেয়েও বেশী ভয়ংকর।

বর্তমানে সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৬১ টি। যা ২০২২ সালের মধ্যে ১৭ হাজার করার সরকারের ভিষণ বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর।

এসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়ে যতই রমরমা বিজ্ঞাপন জনসাধারণের মাঝে প্রচার করা হোকনা কেন। কিন্তু বাস্তবতার চিত্র আমি দেখেছি এবং দায়িত্ব নিয়েই বলছি চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।সত্যিকার অর্থে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের কাছে দূরে সরে যাচ্ছে প্রকল্পটি। এর কারন হিসাবে সামনে আসছে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবার মান কিংবা কাদের দাড়া সেবা দেওয়া হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়গুলো।
স্বাস্থ্য সেবা নামক জিনিসটি একটি হাস্যরসে রূপান্তরিত হচ্ছে এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে। এখনি যদি এতে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে খুব তাড়াতাড়িই এই প্রকল্পটি মুখ ধুবরে পড়ার আসঙ্কা করছি।
এছাড়া প্রকল্পটি স্থায়ী করনের কাজও চলছে। যদি সংস্কার না করেই এই অবস্থায় স্থায়ীকরণ করা হয় তবে তা জনগণের ট্যাক্সের টাকা জলে ডুবানোর মতো ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

এখন এখানে প্রশ্ন আসতে পারে তবে এই বিপুল পরিমান বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত সিএইচসিপিদের আবার কোথায় পাঠানো হবে? কারন তাদের এখান থেকে বাদ দিলে তারা দিশেহারা হয়ে যে আন্দোলনে নামবেনা, এর নিশ্চয়তা কোথায়?
কারন বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে অনিয়মের বাস্তবায়ন যদি একবার হয়ে যায়। তবে তা কখনোই আর নিয়মে ফিরে আনা যায়না। অমিয়মকেই তখন অধিকার ভাবতে শুরু করা হয়।

এ অবস্থায় সরকারের উচিত হবে, সিএইচসিপি পদ রেখেই পাশাপাশি এখানে সত্যিকারের ডাক্তাদের নিয়োগ দেওয়া।
এক্ষেত্রে সেটি ডিপ্লোমা চিকিৎসক হতে পারে কিংবা এমবিবিএস হলে তা আরো স্বাস্থ্য সেবায় বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এমবিবিএসরা যেহেতু বর্তমানে গ্রাম বাংলায় চিকিৎসা দিতে এতোটা সাচ্ছন্দবোধ করেনা সেহেতু গ্রাম বাংলার ৮০% মানুষের সুনামের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকারী সাব এসিসট্যান্ট মেডিকেল অফিসারদেরই(ডিপ্লোমা চিকিৎসক) এখানে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে একটি উৎকৃষ্ট সমাধান।
তখন এই সিএইচসিপিদের কাজের পরিধিও আরো একটু বাড়িয়ে তোলা যাবে। একজন দক্ষ সহযোগী হিসাবে তারা স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এবং জনমনেও আস্তা ফিরে পাবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ এর ভয় কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে?

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১২


আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি—
“ডিপ্রেশন ছিল”, “প্রেশার নিতে পারেনি”, “পারিবারিক সমস্যা ছিল”…


তারপর গল্পটা শেষ।

কিন্তু সত্যি কি এতটাই সহজ?

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ৭৭... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়েরা ,আপনার শিশুকে টিকা দিন

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১১


টিকা দান কর্মসূচী আবার শুরু হয়েছে,
মায়েরা আপনার শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দিন
এবং সকল টিকা প্রদানের তথ্য সংরক্ষন করুন, যা আপনার সন্তানের
ভবিষ্যৎ জীবন যাপনে কাজে লাগবে ।



(... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুরের বাঁধনে গড়া মানুষের মন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

সঙ্গীতের কোন ধারাতেই আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অনেক ছোটবেলায় আম্মা আমাদেরকে কিছু কিছু কবিতা সুর করে মুখস্থ শোনাতেন। আমরা সেগুলো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম। এখনও সেসব সুর করে গাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×