somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৌশলগত পরিকল্পনা (Strategic Plan) for New 7 Wonder of Nature

০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌশলগত পরিকল্পনা (Strategic Plan) for New 7 Wonder of Nature

নতুন ৭ প্রাকৃতিক আশ্চর্য এর বাছাই প্রক্রিয়া

২২২ টি দেশ থেকে সর্বমোট ২৬১ টি স্থান এর নাম প্রাথমিক তালিকাতে স্থান পেয়েছে। এই স্থানগুলোকে ৭ টি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ-এ থেকে গ্রুপ-জি পর্যন্ত। প্রতিটি গ্রুপ এর স্থানগুলোর মধ্য থেকে প্রথম ১১টিকে করে মোট ৭৭টি স্থানকে হাইলাইট করে রাখা হয়েছে। ৭ই জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত ভোট দেওয়ার পর এই ৭৭ টি স্থান থেকে বাছাই করে টপর‌্যাঙ্কিং ২১টি স্থান কে বেছে নেওয়া যাবে। এই ২১টি স্থান এর ঘোষনা দেওয়া হবে ২১শে জুলাই ২০০৯। প্রতি গ্রুপ থেকে ৩টি করে স্থান কে পরবর্তি ধাপ এ নেওয়া হবে। তারপর আবার ভোট দেওয়া শুরু হবে আর তা চলবে ২০১০ এবং ২০১১ সাল জুড়ে। এই ভোট এর পাশাপাশি তখন থাকবে একদল বিশেষজ্ঞ কমিটি। ২০১১ সালে জনগনের ভোট বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্বান্ত মোতাবেক প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম স্থানটি বেছে নিয়ে চুড়ান্ত ৭টি স্থান ঘোষনা করা হবে। আর এরাই হবে নতুন ৭ প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য।







আমাদের প্রার্থী এবং বর্তমান র‌্যাঙ্কিং (২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০৯ পর্যন্ত)

বাংলাদেশ এর মনোনয়নপ্রাপ্ত স্থানগুলো হলো
১) কক্সবাজার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (গ্রুপ-জি এ ১ম)
২) সুন্দরবন, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন (গ্রুপ-ই এ ৩য়)
৩) গঙ্গা নদী, বৃহত্তম নদী যার উপর পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ নির্ভর করে (গ্রুপ-এফ এ ২য়)

গ্রুপ-জি এর বিশ্লেষন

এই দল এ এই মুহুর্তে প্রথম ৩টি দল হলো, কক্সবাজার, গ্রেট বেরিয়ার রীফ, আর হাওলং বে। আমাদের কক্সবাজার এই মুহুর্তে এগিয়ে আছে, তার একটা উল্লেখযোগ্য কারন হলো, আমাদের দেশের সবাই খুব সতস্ফুর্ত ভাবে ভোট দিচ্ছে, সবাই এগিয়ে আসছে, ঠিক একইরকম ভাবে সব দেশের নাগরিকরাই তাদের প্রার্থী স্থানদেরকে ভোট দিচ্ছে। ঠিক এই জন্যই আমরা তেমন প্রতিযোগিতার মুখে পরছি না। আসল প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে যখন প্রতিযোগির সংখা কমে যাবে, অর্থাৎ ২১শে জুলাই এর পরে। তখন অনেক দেশের স্থান এ বাদ পড়ে যাবে। যে সমস্ত দেশের প্রার্থী স্থান গুলো বাদ পড়ে যাবে, ঐ সমস্ত দেশের লোকরা যদি ভোট দিতে চায়, তারা সাধারনত ভোট দিবে, সে সমস্ত স্থানকে, যেগুলোকে তারা ব্যাক্তিগতভাবে চিনে বা নাম শুনেছে। সে হিসাবে গ্রেট বেরিয়ার রীফ, আর হাওলং বে অবশ্যই এগিয়ে থাকবে। গ্রেট বেরিয়ার রীফ অস্ট্রেলীয়াতে অবস্থিত আর এটি খুব জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোক গ্রেট বেরিয়ার রীফ দেখতে যায়। আর হাওলং বে ও খুব বিখ্যাত টুরিস্ট স্পট। জেমস বন্ড ছিনেমার (টুমোরো নেভার ডাইস) শুটিং ও ঐ স্থান এ হয়েছিল। সে হিসাবে, তুলনামুলক ভাবে আমাদের দেশ এর কক্সবাজার কথা বাইরের মানুশ তেমন জানেই না। তাই ২১শে জুলাই এর পরে যখন অন্য দেশের লোকেরা ভোট দিতে যাবে, তখন তারা ভোট দিবেকক্সবাজার কে হয়ত দিবেই না। আর বিশেষজ্ঞ কমিটির ভোট তো আছেই।

কিন্তু এই প্রতিযোগীতায় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হলে আমরা যদি একটা কৌশল গ্রহন করি, তাহলে কিছুটা আশা থাকলে ও থাকতে পারে। এই কৌশল হল, বেশি পরিচিত বা বিখ্যাত স্থানগুলোকে প্রথম ৩ স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাহলে তারা আর পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেনা। এটা সম্ভব হবে যদি আমরা অখ্যাত স্থান দের কে ভোট দেই তাহলে। যেমন আমরা গ্রুপ-এ, গ্রুপ-বি, গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি থেকে কাউকে ভোট না দিয়ে ৭টি ভোট এ গ্রুপ-ই, গ্রুপ-এফ, গ্রুপ-জি থেকে দেই। ৭টি ভোট এর ৩টি ভোট আমাদের স্থানগুলোকে দিয়ে, অন্য ৪ টি ভোট দিতে হবে অখ্যাত স্থান কে, যেমন (Marovo Lagoon, Loch Noss, Conchi, Curonian Spit, ইত্যাদি)। এর ফলে একটা কাজ হতে পারে, যেমন, এই অখ্যাত স্থানগুলো বিখ্যাত স্থানগুলোকে হটিয়ে প্রথম ৩টি স্থান এ চলে আসতে পারে। আর আমরা যেহেতু আমাদের স্থানগুলোকে ভোট দিচ্ছিই, তাই আমাদের স্থানগুলো প্রথম ৩টি স্থান এ এম্নিতেই থাকবে।

কিন্তু এটা করতে পারাটা খুব এ কঠিন। এতে কিছু ঝুঁকিও আছে। আসলে মারাত্মক ধরনের ঝুঁকি ই বলা যায়। যেমন, New7Wonders of Nature কমিটি যদি জানতে পারে যে আমরা এইরকম এর কৌশল নিচ্ছি, তাহলে আমাদের প্রার্থীদের কে বাদ দিয়ে দিতে পারে। অনেকে হয়ত বলতে পারে আমরা ২-নাম্বারি করছি। কিন্তু আসলে কি তাই? একটি খেলাতে খেলোয়ারদের কে অনেক রকম এর কৌশল নিতে হয়, দেশ চালাতে রাস্ট্রপ্রধানদের অনেক কৌশল নিতে হয়, ঠিক একই রকমভাবে আমরা ও কিছু কৌশল নিচ্ছি মাত্র, বাংলাদেশ কে বিশ্বের কাছে পরিচিত করার জন্য। আর আমরাতো প্রতারনা করছিনা, আমরা একজন মাত্র একটি ভোট এ দিব। আমাদের সাপোর্টিং কমিটি কে এইজন্য খুব শক্তিশালী মনোভাব সম্পন্ন হতে হবে। আমরা শুধু চাই আমাদের দেশের কক্সবাজার ৭টির একটি হোক।

অন্যান্য গ্রুপ এর প্রার্থী যেমন সুন্দরবন আর গঙ্গা নদীর জন্য ও একই রকম বিশ্লেষন করা যায়। এই লেখাটা সম্পুর্ন আমার ব্যাক্তিগত মতামত। কেউ চাইলে আরো পরামর্শ দিতে পারেন বা তাদের মতামত জানাতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:১৭
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×