somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প-------- ধর্ষিতা হবার পর....

১৩ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পান্না কখন কবে কীভাবে ধর্ষিতা হয়েছিল তা হয়ত কেউ জানে না, আর আমরা যারা কিছুটা জানি তারও না জানার ভান করে আছি। বিশেষকরে আমি বেশ কিছু তথ্য জানতাম যা ওর বিচারের ক্ষেত্রেও অনেক সাহায্য করতে পারতো। কিন্তু আমিও যেহেতু একটি মেয়ে আমাকে থামিয়ে দওয়া হলো। একবারেই...

পান্না আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। ওর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা পৌরসভা নির্বাচনের দিন। ও আমার বোরকা নিতে এসেছিল। না নিজেকে আড়াল করার জন্য নয়, অন্যকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। তখন বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়নি। অনেকে অনেক কষ্ট করে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট এবং অন্যের ভোট দিয়ে আসতো। আর অনেকে বাসায় বসেই জানতো পারতো নিজের ভোটটি দেওয়া হয়েগেছে। পান্নার বাবা ছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি এই এলাকা থেকে প্রতিবারই পাশ করে গেছেন অবলীলায়। এলাকার শান্তির জন্য এর কোনও বিকল্প ছিল না।
ক্যামপেইনকালে সে জিতলে কী কী করবে তা কখনও বলত না।যদি সে হেরে যায় তাহলে কার কী সর্বনাশ হবে তাই বলে বেড়াতো। সে এবং তার চ্যালা-চামুণ্ডারা। তার সেই ঔদ্ধত্যে যে ভয় মানুষ পেতো তা হয়ত আমাকে দেখে বুঝতে পারছেন! আমি এখনও তার নাম এবং তার দল বলতে সাহস পাচ্ছি না।
সেবার বিএনপি প্রার্থীর দিকে জোয়ার ছিল। জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তারই। কারণ এতেকাল আবদুল গনিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন কেউ ছিল না বলেই লোকজন সব ভয়ে গনিকে ভোট দিত, কেইবা চায় নির্বাচনের পরমুহূর্তে নিজের বাড়িঘর হারাতে, পুকুরের মাছ, গাছপালা ধংস হোক কেউই চায় না। চায়না প্রতিরাতেই পরিচিত চোরেরা বাসায় হামলা করুক। চায় না নিজের উঠতি বয়েসি মেয়েরা স্কুলে না গিয়ে পরে থাকুক বাসায়।
গনির অত্যাচারে মানুষ অতীষ্ট হলেও আইনের সাহায্য কেউ চাইতে যেতো না। কারণ থানায় যাওয়ার একঘণ্টারমধ্যে গণির লোকেরা তাকে বা তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতো। মন্ত্রি ওফায়েলের লোক বলে পাওয়ারও ছিল অনেক।
ক্ষমতার পরিবর্তনে রেব নামলো দেশে, তারপর মানুষ কিছুটা আশ্বস্ত হলো। কিন্তু তাদের হাত থেকেও যখন গানি কুট্টিরা উকিলি মোজেজায় বেঁচে গেলো তখন তারা হয়ে উঠলো অপ্রতিরোধ্য। তবে গা ঢাকা দিল সদলবলে। এলাকা কিছুদিনের জন্য শান্ত হলো।...
তো পান্না তার বাবাকে বিজয়ী করতে একেরপর এক বোরকা চেঞ্জ করছে আর একেরপর এক জাল ভোট দিচ্ছে। এমনকি হিন্দু সাজ নিয়েও সে ভোট দিয়ে এসেছে। স্বামী-পিতা সবকিছু পরিবর্তন করে সে অনায়াসে। আমার বাসায় এলে আমি সসম্মানে তাকে বোরকা দিলাম, যত্ন নিলাম, পানি, পানির সঙ্গে আরও কিছু খাওয়াতে চেষ্টা করলাম। তার সঙ্গে গিয়ে তার কর্মকাণ্ডও ফলো করছিলাম।...আমার সামনে সে পেঁপের কষ দিয়ে দাগ তুলে এগারটি জালভোট দেয়। আশচর্যের ব্যাপার ওর বাবা জিতে যায় মাত্র এগার ভোটে। আর যে যাই করুক মেয়ে যদি না দিত ভোটগুলি তাহলে তার গদিছাড়া হতো। তার কিন্তু সত্যিই একটা গদিঘর আছে। কুট্টির গদিঘরে বিচার আচার নামে অসহায় মানুষের প্রতি সেই জসিদারআমলের নির্যাতন চালানো হয়। খাজনা না দিলে তখন যা করা হতো, সবকিছুর ভাগ না দিলেতাকেও তাই করা হয়। এই চান্দাবাজের দাপট রেবের জন্য কমলেও এবার বেড়েগেলো আরও কয়েকধাপ।...

এরপর যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলো ক্ষমতায় তখন আবার চলল সেই চোরপুলিশ খেলা। এই ফাঁকেই ঘটল সেই অঘটনটি।

পান্না দেখতে নজরকাগা সুন্দরী। ওর ভাই মামুন নামকরা গুণ্ডা।বাড়ির কাছের আরীয়া মাদ্রাসায় পড়েছে।নকলকরে শিক্ষকদের মারধোর করে, জামিয়তে তালাবার নেতা নাঈমের সহযোগিতায় পাশটাশ দেয়। তো সেও বাপের যোগ্য উত্তরসুরী। তার অত্যাচারে এলাকার মেয়েরা সব তটস্থ থাকতো। সে বিয়ের আগে একটি মেয়েকে প্রেগনেন্টকরে পালিয়ে যেতে চাইলে পুলিশের মীমাংসায় অবশেষে বিয়ে করে। কিন্তু শোধ নিতে ছাড়ে না পরিণতি...
পান্না আর যেমন হোক বাপভাইয়ের মতো খারাপ ছিল না।
তারচে বড়কথা পৃথিবীর সব মেয়েই মেয়ে। তার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব সবার।...
পাশের বাড়ির নাহিদ-বুলেটরা মিলে সেই পান্নাকে...
ঘটনাটি ঘটানোর পর দায় চাপানোর সব বন্দোবস্ত করে ফেলে, দায় চাপানে হয় সুমনের ঘাড়ে।...পরিকল্পিত। সুমন মাসখানেকের মধ্যে চলে যায় সৌদি। নাহিদ বুলেটরা অনেক গুলি আর মারণাস্ত্র নিয়ে খেলা করেছে পান্নার বাপের কথায়। আজ এটুকু ঋণতো তারা চাইতেই পারে।....
ব্যাপারটা থেমেগেছে এভাবেই...
কিন্তু আরও কিছু কথা থেকে গেছে আড়ালে।
পান্নাকে মনে মনে ভালোবাসতো আদিল। ও ছিল আমার ক্লাসমেট। আমি তখন পরীক্ষার্থী আর পান্না কেবল ক্লাস সেভেনে।... ওর বাবা-ভাইর ভয়ে কখনও বলতে পারেনি। আমি জানতাম। একদিন ওর নানীকে বলেছিলাম..
তোমার নাতীর জন্য একটা ভালো পাত্র ঠিক করছি..
কে?
তাতো বলা যাবে না।
হ,দ্যাখ! মাইয়াডা হুদা...বিয়া দিলেই ভালো।
আরে না এখন না, আরও পরে, পান্না মেট্টিক পাশ দিক তারপর!
হ, মেট্টিক না দিতে বিয়া অর বাপ দিবো না।


নানী প্রায়ই আমাদের বাড়ি আসতো। আমাদের সঙ্গে অনেক গল্প হতো।...

পান্না নিজেও খুব ভেঙেপড়েছিল! নিজের শরীরে এতো বড় ধকল!কিন্তু কিছু করার নেই...
যার বাবাই এই ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত সে আর কী করতে পারে!খুব অসহায় হয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়, বন্ধুদের সাথে কাঁদে আর বলে আমার বাবা আমার জীবনটাও নষ্টকরে দিল!...
আদিলকে আমি ঘটনাটা জানাইনি। শুধু বলেছি ওর বিয়ে হয়েগেছে। গরুহাটের এক রোকের সাথে। লোকটার অনেক টাকা।...

আদিল কষ্ট পেয়েছিল কতটুকু জানি না। তবে পান্নার একটা কথা মনে পড়লে কষ্টা বাড়তো।
আমি মনে মনে ভাবতাম আমার স্বামী হবে আদিলের মতো!সাহসী এবং জিনিয়াস। আদিলের পড়ালেখার সুনাম ছিল খুব। মেধাবী বলে সবাই খুব সমীহ করতো। ওদের ফ্যামিলি এতো ভদ্র যে...
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×