আজকে ছিল জুম্মাবার। দুপুরের ঘুমের বারোটা! 12.30 এ কোনোমতে উঠে গোসল করে ঢুলতে ঢুলতে গেলাম নামায পড়তে। নামায পরে ফেরার পথে দেখ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বন্ধু দিব্যি সুন্দর পাঞ্জাবী পায়জামা পড়ে মসজিদ থেকে বের হচ্ছে।
হাঁক দিলাম গলা ছেড়ে, নাম ধরে। চমকে ফিরে তাকালো। একটুক্ষন চোখ পিট পিট করে বুঝার চেষ্টা করল চেনে কিনা! চিনতে পেরেই হাসিতে মুখ উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। 'বন্ধু কি খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি...' গানের শুটিং এর মতন অবস্থা। জিগ্গেস করে জানতে পারলাম কাছেই এক আত্ম ীয়র বাড়িতে তশরীফ রেখেছেন তিনি। এদিকে আমিতো ছাড়বনা, আজকে আমার বাড়িতে খেতেই হবে। কিন্তু সে জানাল আজি তার দাওয়াত , আরেকদিন এসে আমার বউয়ের হাতের রান্না খেয়ে যাবে। কিন্তু আমি ছাড়ব কেন?
হলে থাকতে রোজ রাতে বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে কত আড্ডা দিয়েছি একসাথে। এতদিন পরে দেখা। আবার কবে দেখা হবে কে জানে!্ল বললাম আচ্ছা কিছু না খাবি তো চল তোরে কোক খাওয়াই একটা। বিপত্তিটা বাঁধল তখনই।
"না দোস্ত, আমিতো কোক খাবনা।"--বন্ধুর জবাব। আমি তখনও বুঝিনি, আবার চাপ দিলাম -"আরে খা খা দাওয়াত নাহয় একটু কম করেই খাবি, আর তাছাড়া একটা কোক খেলে এমন কিছু পেট ভরবেনা তোর । হলে থাকতে ফিস্টের দিনগুলিতেতো মেস ম্যানেজারের মুখ চোখে লোডশেডিং নামায় দিতি।"
"না দোস্ত, তুই বুঝসনাই, খাইতে আমি এখনও আগের মতন পারি , আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালার রহমতে"।
"তাহলে?"-এবার ধন্দ লাগে আমার। "একটা কোক খেতে আপত্তিটা কই?"-আবার জিগ্গেস করি আমি।
"আসলে দোস্ত তোরে খুইল্লা কই ব্যপারটা।" -বন্ধু জানি কি খুলতে চায়।
"হ আসল কথা কওয়া হালা , কোক খাবানা , ডায়েটিং করনি?" - আবার জিগ্গেস করি আমি।
"নারে দোস্ত, এই যে কোক খাই, এর লাভের টাকা তো যায় আমেরিকা আর ইসরায়েলে, আর সেই টাকায় ওরা লেবাননে মানুষ মারটেসে, সহ্য করা যায়?? তাই ঠিক করসি আমেরিকা ইসরায়েলের পণ্য সব বর্জন করুম "--আমাকে নির্বাক করে দেয় আমার বন্ধু। তবে মাথা রাগ চেপে ওঠে, না আমেরিকা,ইসরায়েলের উপর না, আমার দয়ালু বন্ধুর উপর। নিষ্পাপ ভঙ্গিতে জিগ্গেস করি --"দোস্ত তাহলে একটা সিজান জুস খা..." আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার বন্ধু রাজি হয়ে যায়।
দোকান থেকে এক প্যাকেট জুস কিনে বন্ধুর হাতে দেই আর নিজে একটা বেনসন ধরিয়ে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে জিগ্গেস করি --"দোস্ত এইটা কোন দেশী ড্রিংক ক দেখি?" । "পাকিস্তানী"--উত্তর দেয় ঞ্জানপাপীটা। এবার জিগ্গেস করলাম "বিদেশের জন্য প্রাণ কাঁদে, আর যারা তোর দেশের তিরিশ লাখ মানুষ মারল, আড়াই লাখ নারী ধর্ষন করল, আর নির্বিচারে লুটপাট ধ্বংসলীলা চালাল, তাদের বেলায় এসব চিন্তা কই থাকে?" --এবার বন্ধু চুপ।
আমি আর সেখানে থাকিনি , মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হচ্ছিল। বন্ধুকে সেখানে জুসের প্যাকেট হাতে রেখেই চলে এলাম।
হায়রে বিবেক!!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


