আজকে এডমিশন টেস্ট দিতে গিয়েছিলাম। পরীক্ষা মোটামোটি ভালোই হইছে। কিন্তু আমার এখন কোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতেই পড়ার ইচ্ছা নাই। আমার সি ইউনিটের প্রস্তুতি প্রথম থেকেই ভালো ছিল না, কিন্তু ডি এর জন্য মোটামোটি প্রিপারেশান ভালো। কিন্তু এখন আর ডি ইউনিটেও পরীক্ষা দিতে ইচ্ছে করছে না। হ্যাঁ আমি এসএসসি, এইচএসসি তে কোনো পাবলিক পরীক্ষাতেই গোল্ডেন জিপিএ ৫/সাধারণ জিপিএ ৫ পাই নাই। কিন্তু মোটামোটি একটা আশা ছিল হয়তো একটু কষ্ট করলে কোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়ে যাব। আমার এখন ঘৃণা ধরে গেছে, বাংলাদেশের সকল সিস্টেমের উপর। লেখাপড়া বলেন চাকুরি বলেন সব সিস্টেমের উপর আমার এখন তীব্র ঘৃণা। পত্র-পত্রিকা খেয়াল করলে দেখবেন আজ পাবলিক ইউনিভার্সিটির এডমিশন টেস্টে জালিয়াতির অভিযোগ এবং হাতে-নাতে ধরা পড়ার বিস্তারিত ঘটনা পাওয়া যাবে। এমনকি আমি ঢাবি এর পরীক্ষা যখন দিচ্ছি তখন আমার হলেরই, ঠিক আমার বরাবর পাশের রো থেকেও এক ছেলেকে ধরা হয়েছে যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উত্তর পেয়ে সেগুলো দাগাচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তাকে ধরে ফেলা হয়েছে। এভাবে কয়েকজনকে হাতে-নাতে ধরা গেছে। যাদের ধরতে পেরেছে তাদের হয়তো পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে, শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু যাদের ধরতে পারা যায়নি, তারা?? তাদের জন্য কি হবে, তারা তো ঠিকই এডমিশন নিয়ে সেরা ইউনিভার্সিটিতে পড়বে। আমি জানি আমি নিজে ঢাবি-তে পড়ার যোগ্য নই,কোনো যোগ্যতাই আমি রাখি না। ঠিকমত প্রস্তুতিও নেইনি। কিন্তু যারা সাড়া বছর ধরে পড়াশুনা করেছে, এই দুইমাস অজস্র পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত করেছে তারা চান্স না পেলে,তাদের কি হবে?? তাদের প্রাপ্য আসন গুলো জালিয়াতির মাধ্যমে ছিনিয়ে নিচ্ছে ছাত্র নামে কলঙ্ক এ জাতিরা। আর এরাই ভবিষ্যতে দেশের কারিগর হবে। আর যাদের সব কিছু শুরুই হয় জালিয়াতি, চুরির মাধ্যমে তাদের কাছে ভবিষতে কিভাবে ভালো আশা করা যায়??
এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁসের অনেক ঘটনা ঘটেছে। তখন ভেবেছিলাম, এখন এভাবে যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা এডমিশন টেস্টে ঠিকই ধরা খেয়ে যাবে। কিন্তু আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তারা ঠিক একই ভাবে সেরা সব পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স নিয়ে নিবে, আর প্রকৃত মেধাবীরা তাদের নিজের কপাল চাপড়াবে আর হায়-হায় করবে। এটাই আমাদের সিস্টেম।
সবাই যে করে আমি সেকথা বলছি না। কিন্তু যারা এরকম করে চান্স নিয়ে নিচ্ছে তাদের কি আদৌ কোনো যোগ্যতা আছে?? মাঝখান থেকে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হচ্ছে।
এভাবে আর কতদিন?? ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে?? এভাবেই কি দেশ চলবে যুগের পর যুগ?? যদি এভাবেই চলতে থাকে তবে আমরা কিভাবে একটা উন্নত, সুষ্ঠ, সুন্দর দেশ আশা করব??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




