প্রথম দাবিঃ সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল
এই দাবিটা দেখে প্রথমেই আমার মাথায় যে প্রশ্নটা আসে সেটা হল, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করলে impact টা কি হবে? বাংলাদেশের সবাই হঠাত ঈমাণদার হয়ে যাবে? নাকি আগে ঘুষ কিছু না বলে খেতো আর এখন বিসমিল্লাহ বলে খাবে? এই দেশের ৮০ ভাগ মুসলমান এইটা যেমন সত্যি, মোটা দাগে বাকি বিশ ভাগ যে অমুসলমান সেটাও সত্যি। তো সংবিধান এ এমন কিছু কেন থাকবে যেটা এই দেশের জনগোষ্ঠীর ২০ ভাগ বিশ্বাসই করে না? আমাদের সংবিধান এ তাই থাকা উচিত যা দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিশ্বাস করবে।
কুরআন সুন্নাহ বিরোধি আইনের অংশে গেলাম না কারন বাংলাদেশের সংবিধানে কুরআন সুন্নাহ বিরোধি কি কি আইন আছে আমি জানিনা। তবে আমার মতে এমন কিছু আসলেই থাকা উচিত না।
দিত্বীয় দাবিঃ আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।
ব্লাসফেমি আইনের পরিনতি দেখার জন্য বেশিদূর যাওয়ার দরকার নাই। কাছের দেশ পাকিস্তান যথেষ্ঠ। ওখানে এই আইনটার প্রয়োগ এর চেয়ে অপপ্রয়োগ ই বেশি হয়। নিরীহ প্রতিবেশীর বাসার সামনে কুরআনের পাতা ছিঁড়ে ফেলে রেখে ফাঁসিয়ে দেবার জন্য মামলা দিয়ে বলে, ও কুরআনের অবমাননা করেছে। দুই বদ বন্ধু মিলে নিরীহ কাঊকে ফাঁসিয়ে দিতে বলে, লোকটা নবী মহম্মদের (সঃ) বিরুদ্ধে বলেছে আমরা শুনেছি। খাল কেটে এই ডাইনোসর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কোন মানে আছে কি?
তৃতীয় দাবিঃ শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর নামে কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা.
এটা দেখে অবধারিত ভাবে প্রশ্ন আসে, শুধু শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারিরা কেন? দেশেতো আরো অনেক নাস্তিক মুরতাদ আছে যারা শাহবাগের সাথে সংশ্লিষ্ট না। শাহবাগ তাদের কোন পাকা ধানে মইটা ক্যাম্নে দিল? জারজ রাজাকারদের বিচার চেয়ে?
আমাদের প্রিয় নবীজির বিরুদ্ধে কুতসা রচনাকারী ব্লগাররা এইসব লিখালিখির কারণে নিজেদের কুরুচির পরিচয় দেয়া ছাড়া আর কিছু কি করতে পেরেছে? কয়জন মানুষ এইসব নিন্মমানের লিখালিখির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলাম ছেড়েছে? এটা ঠিক যে ধর্মিয় অনুভূতির উপর আঘাত কখনোই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু এদেরকে প্রদীপের আলোয় আনলোটা কে? মাহমুদুর রহমান গং এর বেপরোয়া প্রচারনার আগে এদেরকে কয়জন চিনতো? তাই আমার মনে হয়েছে এই দাবির পেছনের কারন গুলো যুক্তিযুক্ত হলেও উদ্দেশ্যটা সৎ নয়। আর অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে আইন করে এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করা সম্ভব না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


